Cox News

​উখিয়ায় স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে একাধিক মামলার আসামি সোহেল গ্রেপ্তার


প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

​উখিয়ায় স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে একাধিক মামলার আসামি সোহেল গ্রেপ্তার

স্কুলছাত্রীকে যৌন পিড়ন ও মারধরের মামলায় হলদিয়া পালং পাগলির বিল এলাকার একাধিক মাদক মামলার আসামি সোহেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ 

উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নে দশম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে উত্যক্ত, যৌন পীড়ন এবং মারধরের মামলায় হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড পাগলির বিল এলাকার মৃত আব্দু ছালামের ছেলে একাধিক মাদক মামলার আসামি সোহেলকে গ্রেপ্তার করেছে উখিয়া থানার পুলিশ।

বুধবার ১২ আগস্ট ৫ ঘটিকার সময় মরিচ্যা বাজার স্টেশন থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা যায়, ​নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় দায়ের করা এই মামলায় সোহেল দীর্ঘদিন প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে পলাতক আসামী হিসেবে ছিল বলে থানা সূত্রে জানা যায়। তার মামলা নং উখিয়া-৩৪,জিআর ১৩৯৬/২২)।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম মরিচ্যা পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর একজন ছাত্রী (রোল নং- ১২)। সে নিয়মিত বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে বা বিভিন্ন যানবাহনে করে স্কুলে যাতায়াত করত। অভিযুক্ত সোহেল এলাকার একজন চিহ্নিত লম্পট ও মাদক চোরাকারবারি। সে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে ওই ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে উত্যাক্ত করাসহ অপহরণের হুমকি দিয়ে আসছিল। বিষয়টি ছাত্রীর পরিবার স্কুলের শিক্ষক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে তারা সোহেলকে বাধা নিষেধ করেন। এতে সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

​এরই ধারাবাহিকতায়, গত ০৮/১১/২০২২ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪:৪০ ঘটিকায় এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা শেষে ওই ছাত্রী তার বান্ধবিসহ বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে মরিচ্যা বাজার হলদিয়া সড়কের ডাক বিভাগের আনুমানিক ১০০ গজ পশ্চিমে পৌঁছালে ওৎ পেতে থাকা সোহেল ছাত্রীকে লক্ষ্য করে অশ্লীল কথাবার্তা বলতে শুরু করে। ছাত্রীটি এর প্রতিবাদ করলে সোহেল ক্ষিপ্ত হয়ে তার হাত ধরে টানাটানি করে এবং স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন পীড়ন চালায়।

​ছাত্রীটি বাধা দিলে বিবাদী তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে বুক, মুখ ও মাথায় ফুলা জখম করে। একপর্যায়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে এবং পরনের ওড়না টেনে খুলে ফেলে। ছাত্রীর বান্ধবি তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরবর্তীতে শোরচিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামি ভিকটিমকে অপহরণ ও সারাজীবনের জন্য বিয়ে ভাঙার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

​স্বজনরা খবর পেয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে দ্রুত উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করান। পরবর্তীতে স্থানীয় ৩নং হলদিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান ও মরিচ্যা পালং উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জনাব ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবগত করে উখিয়া থানায় এজাহার দায়ের করা হয়।

​ভুক্তভোগী পরিবারের এজাহার দাখিলের পর উখিয়া থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩)-এর ধারা তৎসহ পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৩২৩/৫০৬ ধারায় (যৌন পীড়ন,মারপিট করে সাধারণ জখম ও ভয়ভীতি প্রদর্শন) মামলাটি রুজু করা হয়।

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত সোহেল একজন পেশাদার অপরাধী এবং তার বিরুদ্ধে উখিয়া, চকরিয়া ও চট্টগ্রাম ঢাকাসহ বিভিন্ন থানায় মোট ৫টি মামলা রয়েছে। যার মধ্যে ২টি মাদক, ১টি নারী ও শিশু নির্যাতন, ১টি সাইবার ক্রাইম এবং ১টি হত্যাচেষ্টা মামলা। মামলার নম্বরগুলো হলো: ​উখিয়া জিআর ১৩৯৬/২২,​চকরিয়া জিআর ০৯/২১,​ঢাকা যাত্রাবাড়ি জিআর ১২৩০/২১,​উখিয়া জিআর ১০২/২৬,।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, মাত্র কিছু দিন আগে পাগলির বিল এলাকায় ১০ কার্টুন ইয়াবা ছিনতাইয়ের একটি অভিযোগও রয়েছে সোহেলের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এই ছিনতাইয়ের ঘটনার বিষয়ে বর্তমানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলতেছে।

​এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার এই চিহ্নিত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিষয় : #উখিয়া #থানা

Cox News

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬


​উখিয়ায় স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে একাধিক মামলার আসামি সোহেল গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

স্কুলছাত্রীকে যৌন পিড়ন ও মারধরের মামলায় হলদিয়া পালং পাগলির বিল এলাকার একাধিক মাদক মামলার আসামি সোহেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ 

উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নে দশম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে উত্যক্ত, যৌন পীড়ন এবং মারধরের মামলায় হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড পাগলির বিল এলাকার মৃত আব্দু ছালামের ছেলে একাধিক মাদক মামলার আসামি সোহেলকে গ্রেপ্তার করেছে উখিয়া থানার পুলিশ।

বুধবার ১২ আগস্ট ৫ ঘটিকার সময় মরিচ্যা বাজার স্টেশন থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা যায়, ​নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় দায়ের করা এই মামলায় সোহেল দীর্ঘদিন প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে পলাতক আসামী হিসেবে ছিল বলে থানা সূত্রে জানা যায়। তার মামলা নং উখিয়া-৩৪,জিআর ১৩৯৬/২২)।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম মরিচ্যা পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর একজন ছাত্রী (রোল নং- ১২)। সে নিয়মিত বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে বা বিভিন্ন যানবাহনে করে স্কুলে যাতায়াত করত। অভিযুক্ত সোহেল এলাকার একজন চিহ্নিত লম্পট ও মাদক চোরাকারবারি। সে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে ওই ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে উত্যাক্ত করাসহ অপহরণের হুমকি দিয়ে আসছিল। বিষয়টি ছাত্রীর পরিবার স্কুলের শিক্ষক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে তারা সোহেলকে বাধা নিষেধ করেন। এতে সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

​এরই ধারাবাহিকতায়, গত ০৮/১১/২০২২ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪:৪০ ঘটিকায় এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা শেষে ওই ছাত্রী তার বান্ধবিসহ বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে মরিচ্যা বাজার হলদিয়া সড়কের ডাক বিভাগের আনুমানিক ১০০ গজ পশ্চিমে পৌঁছালে ওৎ পেতে থাকা সোহেল ছাত্রীকে লক্ষ্য করে অশ্লীল কথাবার্তা বলতে শুরু করে। ছাত্রীটি এর প্রতিবাদ করলে সোহেল ক্ষিপ্ত হয়ে তার হাত ধরে টানাটানি করে এবং স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন পীড়ন চালায়।

​ছাত্রীটি বাধা দিলে বিবাদী তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে বুক, মুখ ও মাথায় ফুলা জখম করে। একপর্যায়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে এবং পরনের ওড়না টেনে খুলে ফেলে। ছাত্রীর বান্ধবি তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরবর্তীতে শোরচিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামি ভিকটিমকে অপহরণ ও সারাজীবনের জন্য বিয়ে ভাঙার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

​স্বজনরা খবর পেয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে দ্রুত উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করান। পরবর্তীতে স্থানীয় ৩নং হলদিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান ও মরিচ্যা পালং উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জনাব ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবগত করে উখিয়া থানায় এজাহার দায়ের করা হয়।

​ভুক্তভোগী পরিবারের এজাহার দাখিলের পর উখিয়া থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩)-এর ধারা তৎসহ পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৩২৩/৫০৬ ধারায় (যৌন পীড়ন,মারপিট করে সাধারণ জখম ও ভয়ভীতি প্রদর্শন) মামলাটি রুজু করা হয়।

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত সোহেল একজন পেশাদার অপরাধী এবং তার বিরুদ্ধে উখিয়া, চকরিয়া ও চট্টগ্রাম ঢাকাসহ বিভিন্ন থানায় মোট ৫টি মামলা রয়েছে। যার মধ্যে ২টি মাদক, ১টি নারী ও শিশু নির্যাতন, ১টি সাইবার ক্রাইম এবং ১টি হত্যাচেষ্টা মামলা। মামলার নম্বরগুলো হলো: ​উখিয়া জিআর ১৩৯৬/২২,​চকরিয়া জিআর ০৯/২১,​ঢাকা যাত্রাবাড়ি জিআর ১২৩০/২১,​উখিয়া জিআর ১০২/২৬,।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, মাত্র কিছু দিন আগে পাগলির বিল এলাকায় ১০ কার্টুন ইয়াবা ছিনতাইয়ের একটি অভিযোগও রয়েছে সোহেলের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এই ছিনতাইয়ের ঘটনার বিষয়ে বর্তমানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলতেছে।

​এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার এই চিহ্নিত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
​উখিয়ায় স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে একাধিক মামলার আসামি সোহেল গ্রেপ্তার
0:00 0:00
1.0x