Cox News

উখিয়ায় অবাধে ঢুকছে কোটি টাকার ইয়াবা


প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

উখিয়ায় অবাধে ঢুকছে কোটি টাকার ইয়াবা

মুসলিম উদ্দিন:

সীমান্তবর্তী উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারের বিষাক্ত ইয়াবা প্রবেশের সুযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মাদক পাচারকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে যেখানে সার্বক্ষণিক কঠোর সাঁড়াশি অভিযান থাকার কথা, সেখানে বাস্তবে উখিয়া থানা পুলিশকে একপ্রকার মান-সম্মান বাঁচিয়ে সাবধানে চলতে দেখা যাচ্ছে। আর এই নীরবতার নেপথ্যে উঠে এসেছে মাদক গডফাদারদের এক সুসংগঠিত মনস্তাত্ত্বিক চক্রান্ত। মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের ইজ্জত ও সামাজিক মর্যাদা নষ্টের ভয় দেখিয়ে বাহিনীকে কাবু করার মাধ্যমেই মূলত সীমান্তে কোটি কোটি টাকার ইয়াবার মহোৎসবে মেতেছে সিন্ডিকেটটি।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, উখিয়া থানা পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাচালান জব্দ ও অপরাধীদের আটক করলেই নেপথ্যের ইয়াবার গডফাদাররা একজোট হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া থেকে বাঁচতে ও নিজেদের অপরাধ ঢাকতে চিহ্নিত শীর্ষ মাদক কারবারিরা সিন্ডিকেট গড়ে তুলছে। তারা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নামধারী কিছু সুযোগসন্ধানী সংবাদকর্মীকে ভাড়া করে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মনগড়া, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি ও প্রচার করায়।

পুলিশের ​প্রতিটি সফল অভিযানের পর কর্মকর্তা ও বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁদের বিতর্কিত করার এই অপকৌশল মাঠপর্যায়ের পুলিশকে মারাত্মক মানসিক চাপের মুখে ফেলছে। পেশাগত সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় বাধ্য হয়ে অনেক কর্মকর্তা সরাসরি অভিযানে নামতে অনীহা প্রকাশ করছেন। আর অপরাধী চক্রের এই পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইলিংয়ের সুযোগ নিয়ে উখিয়ার পালংখালী, থাইখালী এবং হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পাগলির বিলের মতো চিহ্নিত সীমান্ত রুট দিয়ে দৃশ্যমান বাধা ছাড়াই প্রতিদিন লাখ লাখ পিস ইয়াবা দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে।

​উখিয়া থানা পর্যায়ের এক পুলিশ কর্মকর্তা আড্ডার ফাঁকে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবেদককে জানান, পেশাগত সততা বজায় রেখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অভিযান পরিচালনার পর যখন সাজানো অপপ্রচার ছড়িয়ে মান-সম্মানহানি করা হয়, তখন চাকরি করাই কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে কোনো সৎ কর্মকর্তা এখানে চাকরি করতে চাইবেন না। এখন যারা আসবেন, তারাও কোনোমতে মান-ইজ্জত বাঁচিয়ে বদলি হয়ে ফেরার চেষ্টা করবেন; দ্বিতীয়বার কেউ স্বেচ্ছায় উখিয়ায় ডিউটি করতে আসবেন না।

তিনি আরও সতর্ক করে জানান, মাদক কারবারিদের এই ফাঁদ না ভাঙলে এবং ইজ্জতের ভয়ে পুলিশ নীরব থাকলে উখিয়াসহ পুরো দেশ অতি দ্রুত ইয়াবার ভয়াবহ থাবায় ধ্বংস হয়ে যাবে। ​স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলের মতে, একটি চিহ্নিত অপরাধী চক্রের সাজানো চক্রান্তে সীমান্ত রক্ষাকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত বাঁধা থাকতে পারে না। যেসব তথাকথিত মাধ্যম ও মাদক কারবারি যৌথভাবে মিথ্যা সংবাদ রটিয়ে পুলিশকে কাবু করার চেষ্টা চালাচ্ছে, সুনির্দিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনায় সচেতন মহল জানায়, মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা যেন কোনো চক্রান্তের ভয়ে পিছপা না হয়ে নির্দ্বিধায় ও মুক্তহস্তে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন, সেজন্য জেলা ও কেন্দ্রীয় শীর্ষ পর্যায়ের সরাসরি তদারকি ও পুলিশকে প্রশাসনিক সুরক্ষা দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। সচেতন মহলের বিশ্বাস পাগলির বিল, পালংখালী ও থাইখালী পয়েন্টে বিজিবি, পুলিশ ও র‍্যাবের সমন্বয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে সাঁড়াশি অভিযান পুনরায় জোরদার করা হলে সিন্ডিকেটের এই ভয়ংকর ফাঁদ চুরমার হয়ে যাবে।

বিষয় : #উখিয়া #ইয়াবা

Cox News

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


উখিয়ায় অবাধে ঢুকছে কোটি টাকার ইয়াবা

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মুসলিম উদ্দিন:

সীমান্তবর্তী উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারের বিষাক্ত ইয়াবা প্রবেশের সুযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মাদক পাচারকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে যেখানে সার্বক্ষণিক কঠোর সাঁড়াশি অভিযান থাকার কথা, সেখানে বাস্তবে উখিয়া থানা পুলিশকে একপ্রকার মান-সম্মান বাঁচিয়ে সাবধানে চলতে দেখা যাচ্ছে। আর এই নীরবতার নেপথ্যে উঠে এসেছে মাদক গডফাদারদের এক সুসংগঠিত মনস্তাত্ত্বিক চক্রান্ত। মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের ইজ্জত ও সামাজিক মর্যাদা নষ্টের ভয় দেখিয়ে বাহিনীকে কাবু করার মাধ্যমেই মূলত সীমান্তে কোটি কোটি টাকার ইয়াবার মহোৎসবে মেতেছে সিন্ডিকেটটি।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, উখিয়া থানা পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাচালান জব্দ ও অপরাধীদের আটক করলেই নেপথ্যের ইয়াবার গডফাদাররা একজোট হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া থেকে বাঁচতে ও নিজেদের অপরাধ ঢাকতে চিহ্নিত শীর্ষ মাদক কারবারিরা সিন্ডিকেট গড়ে তুলছে। তারা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নামধারী কিছু সুযোগসন্ধানী সংবাদকর্মীকে ভাড়া করে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মনগড়া, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি ও প্রচার করায়।

পুলিশের ​প্রতিটি সফল অভিযানের পর কর্মকর্তা ও বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁদের বিতর্কিত করার এই অপকৌশল মাঠপর্যায়ের পুলিশকে মারাত্মক মানসিক চাপের মুখে ফেলছে। পেশাগত সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় বাধ্য হয়ে অনেক কর্মকর্তা সরাসরি অভিযানে নামতে অনীহা প্রকাশ করছেন। আর অপরাধী চক্রের এই পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইলিংয়ের সুযোগ নিয়ে উখিয়ার পালংখালী, থাইখালী এবং হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পাগলির বিলের মতো চিহ্নিত সীমান্ত রুট দিয়ে দৃশ্যমান বাধা ছাড়াই প্রতিদিন লাখ লাখ পিস ইয়াবা দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে।

​উখিয়া থানা পর্যায়ের এক পুলিশ কর্মকর্তা আড্ডার ফাঁকে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবেদককে জানান, পেশাগত সততা বজায় রেখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অভিযান পরিচালনার পর যখন সাজানো অপপ্রচার ছড়িয়ে মান-সম্মানহানি করা হয়, তখন চাকরি করাই কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে কোনো সৎ কর্মকর্তা এখানে চাকরি করতে চাইবেন না। এখন যারা আসবেন, তারাও কোনোমতে মান-ইজ্জত বাঁচিয়ে বদলি হয়ে ফেরার চেষ্টা করবেন; দ্বিতীয়বার কেউ স্বেচ্ছায় উখিয়ায় ডিউটি করতে আসবেন না।

তিনি আরও সতর্ক করে জানান, মাদক কারবারিদের এই ফাঁদ না ভাঙলে এবং ইজ্জতের ভয়ে পুলিশ নীরব থাকলে উখিয়াসহ পুরো দেশ অতি দ্রুত ইয়াবার ভয়াবহ থাবায় ধ্বংস হয়ে যাবে। ​স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলের মতে, একটি চিহ্নিত অপরাধী চক্রের সাজানো চক্রান্তে সীমান্ত রক্ষাকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত বাঁধা থাকতে পারে না। যেসব তথাকথিত মাধ্যম ও মাদক কারবারি যৌথভাবে মিথ্যা সংবাদ রটিয়ে পুলিশকে কাবু করার চেষ্টা চালাচ্ছে, সুনির্দিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনায় সচেতন মহল জানায়, মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা যেন কোনো চক্রান্তের ভয়ে পিছপা না হয়ে নির্দ্বিধায় ও মুক্তহস্তে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন, সেজন্য জেলা ও কেন্দ্রীয় শীর্ষ পর্যায়ের সরাসরি তদারকি ও পুলিশকে প্রশাসনিক সুরক্ষা দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। সচেতন মহলের বিশ্বাস পাগলির বিল, পালংখালী ও থাইখালী পয়েন্টে বিজিবি, পুলিশ ও র‍্যাবের সমন্বয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে সাঁড়াশি অভিযান পুনরায় জোরদার করা হলে সিন্ডিকেটের এই ভয়ংকর ফাঁদ চুরমার হয়ে যাবে।


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
উখিয়ায় অবাধে ঢুকছে কোটি টাকার ইয়াবা
0:00 0:00
1.0x