কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের সাবেক রুমখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সৈয়দ আলমের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে নবগঠিত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) সদস্যদের বরণ ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যৌথ আয়োজনে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তপন বড়ুয়ার সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উখিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আশরাফুল আলম সিরাজী। এতে সভাপতিত্ব করেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবু শামীম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উখিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশীদ, মরিচ্যা পালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম জহিরুল হক, ফারির বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোক্তার আহমদ এবং মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল হাকিম বাবুল। এছাড়াও হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ১৫টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ স্থানীয় শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শাহিন আক্তার, সহকারী শিক্ষক মোঃ হাসান রাসেদ, তপন বড়ুয়া তাসলিমা আক্তার, হাসিনা আক্তার, মনিষা বড়ুয়া, সাবেরা ফারজিন, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গরা বাসিন্দারা।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।
সহকারী শিক্ষক মোঃ হাসান রাসেদ বলেন, "আমাদের বিদ্যালেয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আলম স্যার দীর্ঘ ৩৬ বছর এই শিক্ষকতা পেশায় কাটিয়েছেন। ওনার এই শিক্ষক জীবনে অনেক সফলতার গল্প আছে। ওনি একজন শিক্ষক হিসেবে ওনার গুণ বলে শেষ করা যাবেনা। তিনি আমাদের মাঝে একজন অভিভাবক হিসেবে ছিলেন। সকল শিক্ষার্থীদের তিনি সব সময় নিজের সন্তানের মতো করে দেখতেন। তার সাথে আমি দীর্ঘ ৬টি বছর কাজ করেছি, আমার দেখা মতে তিনি কখনো অফিসে এসে অবহেলা করেননি।"
সহকারী শিক্ষক ফারজানা আক্তার বলেন, "আজকের স্যারের বিদায়ের এই দিনটি আমাদের জন্য আবেগঘন। তিনি ছিলেন আমাদের বিদ্যালয়ের অভিভাবক, ওনার সাথে আমাদের দীর্ঘদিনের কাজ করার সুযোগ হয়েছে। ওনি ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক, সৎ, সহজ-সরল ও কঠোর পরিশ্রমী মানুষ। গত ২০১৭ সাল থেকে ওনার হাতে আমার কর্মজীবন শুরু এবং আজকে ওনার বিদায়। সত্যি কথা বলতে গেলে আমি আমার কর্মজীবনে সব কাজ ওনার কাছেই শিখেছি। ওনার সাথে যেহেতু জীবনের শুরু হতে কর্মজীবন, তার কারণে অনেক কিছু ভুল হয়েছে, ভুল ছিল- ওনি আমাকে সব ভুল ঠিক করে দিয়েছেন। এবং ওনার দেখানো পথেই আমরা সহকর্মীরা চলছি। ওনার সততা, ওনার নিয়মানুবর্তিতা, ওনার কাজ সবকিছু আমরা মেনে চলছি। আমাদের এই বিদ্যালয়ের প্রতিটি ইটে রয়েছে ওনার শ্রম। তিনি প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করতেন। প্রতিটি দিন বিদ্যালয়ে এসে স্যারের চেহারাটা দেখতাম, আজ থেকে বিদ্যালয়ে স্যারের মুখটা দেখা হবেনা, যা সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে। কারণ হচ্ছে মানুষ চলে যায়, রেখে যায় কিছু স্মৃতি। স্যারের এই অনেক স্মৃতি নিয়ে আমাদের বাকি দিনগুলো কাটবে। যেহেতু আমার কর্মজীবনের শুরুতে ওনাকে পাওয়া, ওনার কাছে অনেক কিছু শেখা, আমরা সকল সহকর্মী শিক্ষক-শিক্ষিকারা ওনাকে খুবই মিস করব এবং ওনার সকল নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলব।"
শিক্ষার্থীদের পক্ষে পঞ্চম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী আলিম মাহমুদ মিফতাহ বলে, "আমাদের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আলম স্যার আমাদেরকে সব সময় ভালো শিক্ষা দিতেন। কখনো খারাপ পথে চলতে দিতেন না। স্যার আমাদের জীবনে শুধু একজন শিক্ষক না, স্যার অভিভাবক হিসেবে ছিলেন। স্যার আমাদেরকে বলতেন কখনো মিথ্যা কথা না বলতে। স্যারের মতো একজন সৎ এবং চমৎকার শিক্ষক এই পৃথিবীতে হতে পারেনা।"
অনুষ্ঠান শেষে দীর্ঘ ৩৬ বছর শিক্ষকতা করা প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সৈয়দ আলমের জন্য প্রার্থনা করা হয়। পরে আয়োজক ও সহকর্মীদের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা স্মারক ও বিদায়ী উপহার দেওয়া হয়। পরিশেষে ফুল দিয়ে সজ্জিত গাড়িতে করে বিদায়ী শিক্ষককে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।