গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় কিস্তির ১৪ হাজার টাকার জন্য শশুর বাড়িতে মেয়ের জামাতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার মধ্য রাতে বরমী গ্রামের কোমার ভিটা এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। নিহত রুহুল আমীন (৩৮) ওই গ্রামের মো. আতাহারের ছেলে। তিনি পেশায় সিএনজি চালক। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ নিহতের স্ত্রী হালিমা খাতুন, শ্বশুর রফিক ফকির, মেয়ে রিমা, শ্যালক শাজাহান ফকির ও চাচা শ্বশুর তাজ উদ্দিনকে আটক করেছে।
নিহতের শ্বশুর রফিক ফকির জানান, রুহুল রাতের বেলায় সিএনজি চালাতো। শুক্রবার দিনে সিএনজি চালায়নি। রাত আটটার দিকে সে বাড়ি থেকে বের হয়। রাতে বাড়ি ফেরেনি। বাড়ির লোকজন রাতে তার কোন খোঁজ নেয়নি। সকালে গোয়াল থেকে গরু বের করতে গিয়ে বশত বাড়ির পাশে রুহুলের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে সেটি জানেন না।
নিহতের স্ত্রী হালিমা ও কন্যা রিমি জানান, শুক্রবার রাত আটটার দিকে রুহুল বাড়ি থেকে বের হন। রাতে বাড়ি ফেরেননি। রাতে তারা তার খোঁজ করেননি। সকাল ছয়টার দিকে বাড়ির পাশে তার লাশ দেখতে পায়।
নিহতের বোন ফাতেমা অভিযোগ করেন, বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি এসে বাড়ির পাশে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। সে স্ত্রী সন্তান নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে থাকেন। কিস্তির ১৪ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ির লোকজন রাতে ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া করেন। তার ছোট মেয়ে আফরানের কাছে শুনেছি বাড়ির লোকজন তাকে পিটিয়ে বাড়ির পাশে ফেলে রাখে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। নিহতের বড় ভাই লিটন বলেন, বাড়ির লোকজন আমার ভাইকে কিস্তির টাকার জন্য পিটিয়েছে। পড়ে তাকে মেরে বাড়ির পাশে লাশ ফেলে নাটক সাজায়।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক আবুল বাসার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করেন। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ রুহুলের শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে হত্যা করেছে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শাহীনূর আলম জানান, স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।