জমি-জমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ছোট ভাইকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যার দায়ে অশোক কুমার দাস (৫৬) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার বিকেলে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ (দ্বিতীয়) আদালতের বিচারক মো. তসরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) শাহানুর রহমান শাহীন।
দণ্ডপ্রাপ্ত অশোক কুমার দাস জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার দমদমা গ্রামের ফনিন্দ্রনাথ দাসের ছেলে।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের ফনিন্দ্রনাথ দাসের ছোট ছেলে সিদ্ধেশ্বর দাস পেশায় একজন লোহার কর্মকার ছিলেন। জায়গা-জমি নিয়ে বড় ভাই অশোক কুমার দাসের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
২০০৯ সালের ১৬ নভেম্বর দুপুরে কামারশালায় কাজ শেষে দোকানের সামনে একটি বেঞ্চে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন সিদ্ধেশ্বর। এ সময় অশোক কুমার দাস দোকানে থাকা একটি ভারী হাতুড়ি দিয়ে তাঁর মাথায় সজোরে আঘাত করেন। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
গুরুতর আহত সিদ্ধেশ্বরকে প্রথমে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় চার মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০১০ সালের ২৯ মার্চ তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী কামনা রানী বাদী হয়ে পাঁচবিবি থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত অশোক কুমার দাসকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের এ রায় প্রদান করেন।