ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে কীটনাশক খাইয়ে কৃষক ইউসুফ আলী শেখকে হত্যার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের চরঅমরাপুর গ্রামের সত্তার শেখের ছেলে শামীম হোসেন (২৫), মেয়ে ইয়াছমিন আক্তার (৩৪), পার্শ্ববর্তী ওকেল মাতুব্বরের ডাঙ্গী এলাকার আক্কাস মোল্যা (৬০) ও তাঁর ছেলে জুলহাস মোল্যা (৩৫)। জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যায় চরঅমরাপুর গ্রামের কৃষক ইউসুফ আলী শেখকে (৫৫) নির্যাতনের পর কীটনাশক খাওয়ানোর অভিযোগ ওঠে। গতকাল সোমবার ভোরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে একটি ভিডিও বক্তব্যে তিনি নির্যাতনের বর্ণনা দেন এবং অভিযুক্ত কয়েকজনের নামও উল্লেখ করেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত শনিবার সন্ধ্যায় ইউসুফ আলী শেখকে পদ্মার চরে ডেকে নেন শামীম শেখ। সেখানে সাত থেকে আটজন মিলে তাঁকে মারধর করেন। একপর্যায়ে জোর করে তাঁর মুখে কীটনাশক ঢেলে দেওয়া হয়। পরে তাঁকে স্থানীয় বশির মেম্বারের বাড়ির পাশে ফেলে রেখে চলে যান তাঁরা। সেখান থেকে ইউসুফ আলীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনেরা। গতকাল ইউসুফ আলীর মৃত্যু হলে রাতেই তাঁর স্ত্রী সাতজনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। নিহত ইউসুফ আলীর ভাই ইসমাইল শেখ বলেন, সম্প্রতি শামীম শেখের মা আসমা বেগম নিখোঁজ হন। এ নিয়ে থানায় ডায়েরি করে তাঁর পরিবার। গত এক মাস আগে কৃষক ইউসুফ শেখের মোবাইল থেকে নিখোঁজ আসমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাঁর মেয়ে ইয়াছমিন। এরপর তদন্তের স্বার্থে মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে ইউসুফ শেখের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ হয়। বিষয়টি জানতে পারেন শামীম শেখ। এরপর তিনি ইউসুফ শেখকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সফর আলী জানান, মামলার পর গতকাল রাতেই অভিযান চালিয়ে চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।