২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের রেশ কাটেনি এখনো। স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার ক্ষত আর্জেন্টাইনদের মনে যখন তাজা, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে একের পর এক চক্রান্তের তত্ত্ব। তবে মাঠের হারকে ‘স্রেফ খেলার অংশ’ হিসেবে মেনে নিয়ে এসব চক্রান্তের গল্পকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিলেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ডিফেন্ডার ফাকুন্দো মেদিনা।
ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ষড়যন্ত্রের গল্পে কান না দেওয়ার জন্য সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অলিম্পিক মার্শেইয়ের এই সেন্টার ব্যাক। একই সঙ্গে আড্ডার ছলে ফাঁস করেছেন, তার নিজের মা-ও যখন এমন গুজবে কান দিতে শুরু করেছিলেন, তখন তিনি কীভাবে তাকে থামিয়ে দিয়েছিলেন।
‘ফের্নে অ্যান্ড গ্রেগো’ ইউটিউব শোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক গ্রেগো রোসেলো যখন তাকে এসব ষড়যন্ত্রের গল্প নিয়ে প্রশ্ন করেন, মেদিনা নিজের মায়ের সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমি মাকে সরাসরি বলেছিলাম, আরে চলো তো! তুমিও কি এসবের মধ্যে ঢুকছ নাকি? এসব ফালতু কথা বন্ধ করো! আমাকে আর বিরক্ত কোরো না!’
মেদিনা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, আর্জেন্টিনা ড্রেসিংরুমে কোনো রহস্য বা অঘটন ঘটেনি। যা ঘটেছে, তা স্রেফ মাঠের ফুটবলীয় কারণেই ঘটেছে। এর আগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লাউডিও তাপিয়া, কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালাও একই কথা বলেছিলেন। তাদের অবস্থানের সঙ্গেই সুর মেলালেন এই ডিফেন্ডার। আরও পড়ুনআরও পড়ুন৯ ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে পারেন আর্জেন্টাইন তারকা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মনগড়া গল্প নিয়ে নিজের বিরক্তি লুকিয়ে রাখেননি রিভার প্লেটের সাবেক এই ফুটবলার। সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আমি তাকে (গুজব ছড়ানো মানুষদের) বলেছিলাম, তুমি একটা বোকা। তুমি কী মনে করো, আমরা সেখানে কী করতে গিয়েছিলাম? আমরা অন্য সবার মতোই জিততে চেয়েছিলাম। তুমি কী ভাবছ?’ তারপর আমি বলি, জানেন? জিতলে আমিই সবচেয়ে বেশি খুশি হতাম। কিন্তু আমরা হেরে গেছি এবং আমাদের এটা মেনে নিতেই হবে।’
বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফেরার পর মেদিনা তার বাড়ির বেলকনিতে দাঁড়িয়ে প্রতিবেশীদের উদ্দেশ্যেও একই বার্তা দিয়েছিলেন। ইন্টারনেটের ভুয়া খবরে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘এসব ফালতু গুজবে কান দেবেন না। আপনারা ছবি ও ভিডিওতে দেখেছেন, আমরা সবসময় একটা দারুণ পরিবারের মতো ছিলাম। আমরা হেরে গিয়ে খুব কষ্টে আছি। সেই কষ্ট থেকেই আমাদের কয়েকজন সতীর্থ হয়তো সবার সামনে আসেননি। আমরা সত্যিই মন খারাপ করে আছি, বিষণ্ণ হয়ে আছি। আমি জানি এটা খারাপ লাগছে, কিন্তু দিনশেষে এটা স্রেফ একটা ফুটবল ম্যাচ, জীবনে এর চেয়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে।’
জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মাঝের আন্তরিক বন্ধনই এই দলের মূল শক্তি বলে জানান মেদিনা। কঠিন সময়ে এই একতাই পুরো দলকে ধরে রাখে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনার পাশে যখন এমন সব মানুষ থাকে যারা কেবল দুর্দান্ত খেলোয়াড়ই নয়, বরং মানুষ হিসেবে আরও বেশি চমৎকার—তখন তাদের জন্য মাঠে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে না দিয়ে কোনো উপায় থাকে না।’