কুড়িগ্রামের রৌমারীতে কাস্টমসের আয়োজনে ভারতীয় গরুর নিলামকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। নিলাম প্রক্রিয়া ঘিরে মতবিরোধের জেরে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। পরে উভয় দলের স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে প্রকাশ্য নিলাম সম্পন্ন হয়।
তবে জামায়াতের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নামমাত্র নিলামের মাধ্যমে রাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছিল। তারা স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য নিলামের দাবি জানালে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন। তবে বিএনপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ ঘটনায় বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই দলের নেতারা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে রৌমারী উপজেলা চত্বরে স্থানীয় কাস্টমস কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে জব্দ করা ১০টি ভারতীয় গরুর প্রকাশ্য নিলামের আয়োজন করা হয়। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি জামায়াত ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ ও সম্ভাব্য লভ্যাংশ ভাগাভাগি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছিল। একপর্যায়ে জামায়াত পক্ষ ৫০ শতাংশ লভ্যাংশ দাবি করলে বিএনপির পক্ষ ৩০ শতাংশ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এতে সমঝোতা না হওয়ায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
এ সময় ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা মাহাবুব আলম মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাঁকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে দুই দলের উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর প্রকাশ্য নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুবদল কর্মী ও সাবেক ছাত্রনেতা ইসরাফিল সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকায় ১০টি ভারতীয় গরু ক্রয় করেন।
রৌমারী উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে নিলাম পরিচালনা করে আসছে। আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশ্য নিলামের দাবি জানিয়েছি। এতে রাষ্ট্রের রাজস্ব আয় বাড়ে। কিন্তু বিএনপির লোকজন এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের নেতা-কর্মীদের মারধর করেছে। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের জানানো হয়েছে। উভয় পক্ষ বসে সমাধানের চেষ্টা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিলাম সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু বলেন, ‘কয়েকটি গরুর নিলামকে কেন্দ্র করে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি এ ধরনের ঘটনার সমর্থন করে না। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।’
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকায় বিষয়টি সংঘর্ষের পর্যায়ে যায়নি। বুধবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।’