Cox News

ফাইতংয়ে পাহাড় কাটার অভিযোগে পাঁচ ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়া


প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ফাইতংয়ে পাহাড় কাটার অভিযোগে পাঁচ ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়া

সরেজমিনে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়ার দাবি পরিবেশ অধিদপ্তরের—আইনের আওতায় আসছে ইউবিএন, ৪বিএম, ওয়াইএসবি, বিএমডব্লিউ ও এনআরবি


ফরহাদ আহমদ, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে ইটভাটার জন্য পাহাড় কাটার অভিযোগে পাঁচটি ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গত ১০ সেপ্টেম্বর সরেজমিন পরিদর্শনে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়ার দাবি করে অধিদপ্তর। বিষয়টি এখন বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াধীন।

পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নুর হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ফাইতং এলাকায় ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। এতে ইউবিএন, ৪বিএম, ওয়াইএসবি, বিএমডব্লিউ ও এনআরবি ইটভাটার ক্ষেত্রে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

নুর হাসান বলেন, ‘পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়ায় বিজ্ঞ বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনার খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই পরিবেশ অধিদপ্তরের এ তৎপরতা শুরু হয়েছে। নুর হাসান জানান, আদালতের আদেশের আনুষ্ঠানিক কপি এখনো তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও সরেজমিন পরিদর্শন শুরু করা হয়েছে।

হাইকোর্টের নির্দেশের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন

জনস্বার্থে পাহাড় কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা রিটের শুনানি শেষে গত ৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

আদালত পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ১৫ ধারায় শাস্তি ও অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি পাহাড় কাটা বন্ধে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন এবং ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফাইতংয়ে পাহাড় কাটার অভিযোগে প্রথম দফার সরেজমিন তদন্তেই পাঁচটি ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ফলে দীর্ঘদিন ধরে ফাইতংয়ের পাহাড় কাটার অভিযোগ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছিল, এবার তার আইনগত পরিণতি কী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Cox News

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফাইতংয়ে পাহাড় কাটার অভিযোগে পাঁচ ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়া

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সরেজমিনে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়ার দাবি পরিবেশ অধিদপ্তরের—আইনের আওতায় আসছে ইউবিএন, ৪বিএম, ওয়াইএসবি, বিএমডব্লিউ ও এনআরবি


ফরহাদ আহমদ, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে ইটভাটার জন্য পাহাড় কাটার অভিযোগে পাঁচটি ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গত ১০ সেপ্টেম্বর সরেজমিন পরিদর্শনে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়ার দাবি করে অধিদপ্তর। বিষয়টি এখন বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াধীন।


পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নুর হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ফাইতং এলাকায় ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। এতে ইউবিএন, ৪বিএম, ওয়াইএসবি, বিএমডব্লিউ ও এনআরবি ইটভাটার ক্ষেত্রে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।


নুর হাসান বলেন, ‘পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়ায় বিজ্ঞ বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’


পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এদিকে লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনার খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই পরিবেশ অধিদপ্তরের এ তৎপরতা শুরু হয়েছে। নুর হাসান জানান, আদালতের আদেশের আনুষ্ঠানিক কপি এখনো তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও সরেজমিন পরিদর্শন শুরু করা হয়েছে।


হাইকোর্টের নির্দেশের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন


জনস্বার্থে পাহাড় কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা রিটের শুনানি শেষে গত ৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।


আদালত পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ১৫ ধারায় শাস্তি ও অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি পাহাড় কাটা বন্ধে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন এবং ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফাইতংয়ে পাহাড় কাটার অভিযোগে প্রথম দফার সরেজমিন তদন্তেই পাঁচটি ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


ফলে দীর্ঘদিন ধরে ফাইতংয়ের পাহাড় কাটার অভিযোগ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছিল, এবার তার আইনগত পরিণতি কী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ফাইতংয়ে পাহাড় কাটার অভিযোগে পাঁচ ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়া
0:00 0:00
1.0x