Cox News

মাদকের অভিযোগের পাহাড়েও স্পর্শহীন ডালিম! প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নাকি পেছনে অদৃশ্য শক্তি?


প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

মাদকের অভিযোগের পাহাড়েও স্পর্শহীন ডালিম! প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নাকি পেছনে অদৃশ্য শক্তি?

​বিশেষ প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের রামুতে একের পর এক মাদকের বড় চালান ধরা পড়লেও নেপথ্যের মূল কারবারিরা থেকে যাচ্ছে সম্পূর্ণ স্পর্শহীন। বিশেষ করে রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল করিম মুসার ছেলে বেলাল উদ্দিন ডালিম ওরফে ডালিমের বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগের পাহাড় জমলেও তিনি কীভাবে এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে তা নিয়ে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দানা বাঁধছে। এটি কি প্রশাসনের কোনো ধরনের নিষ্ক্রিয়তা, নাকি ডালিমের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী কোনো অদৃশ্য শক্তির হাত?

সম্প্রতি রামুর হলদিয়া ইউনিয়নের পাগলিরবিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আয়েশা নামের এক নারীকে আটক করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া এই ৫০ হাজার পিস ইয়াবার বিশাল চালানটি মূলত বেলাল উদ্দিন ডালিমের বলেই স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের নিশ্চিত দাবি। মূল চালানদার আড়াল থেকে সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রণ করলেও পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে কেবল আয়েশার মতো ভাড়াটে বাহকেরা। ফলে ইয়াবার মূল যোগানদাতারা থেকে যাচ্ছে অধরা।

অনুসন্ধান ও সংগৃহীত নথিপত্র (পিসিপিআর) পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডালিমের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। ২০২২ সালেও বিশেষ ক্ষমতা আইনে রামু থানায় তার বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা (মামলা নং-৮, তারিখ- ০৭ অক্টোবর ২০২২) নথিভুক্ত হয় এবং পরবর্তী সময়ে যার চার্জশিট (চার্জশিট নং-৪৬, তারিখ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৩) আদালতে দাখিল করা হয়। তবুও দীর্ঘ দিন ধরে একটি শক্তিশালী মাদক ও চোরাকারবারি সিন্ডিকেট পরিচালনা করে অবাধে সীমান্ত এলাকা থেকে টেকনাফ-রামু হয়ে দেশব্যাপী ইয়াবাচালান পাঠিয়ে আসছেন তিনি।

এদিকে এমন গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে ডালিমের এলাকায় গিয়েও তার দেখা মেলেনি। এছাড়া মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের ধারণা, সাম্প্রতিক অভিযানের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

বারবার নাম আসা এবং সুনির্দিষ্ট মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ার পরও ডালিম প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, ডালিম গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকার অন্যান্য মাদক কারবারিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

​অবিলম্বে এই মাদকের বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলতে এবং ৫০ হাজার ইয়াবার চালানের নেপথ্য নায়ক বেলাল উদ্দিন ডালিম সহ পুরো চক্রকে গ্রেপ্তারে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জরুরি ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।

Cox News

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মাদকের অভিযোগের পাহাড়েও স্পর্শহীন ডালিম! প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নাকি পেছনে অদৃশ্য শক্তি?

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

​বিশেষ প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের রামুতে একের পর এক মাদকের বড় চালান ধরা পড়লেও নেপথ্যের মূল কারবারিরা থেকে যাচ্ছে সম্পূর্ণ স্পর্শহীন। বিশেষ করে রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল করিম মুসার ছেলে বেলাল উদ্দিন ডালিম ওরফে ডালিমের বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগের পাহাড় জমলেও তিনি কীভাবে এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে তা নিয়ে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দানা বাঁধছে। এটি কি প্রশাসনের কোনো ধরনের নিষ্ক্রিয়তা, নাকি ডালিমের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী কোনো অদৃশ্য শক্তির হাত?


সম্প্রতি রামুর হলদিয়া ইউনিয়নের পাগলিরবিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আয়েশা নামের এক নারীকে আটক করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া এই ৫০ হাজার পিস ইয়াবার বিশাল চালানটি মূলত বেলাল উদ্দিন ডালিমের বলেই স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের নিশ্চিত দাবি। মূল চালানদার আড়াল থেকে সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রণ করলেও পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে কেবল আয়েশার মতো ভাড়াটে বাহকেরা। ফলে ইয়াবার মূল যোগানদাতারা থেকে যাচ্ছে অধরা।


অনুসন্ধান ও সংগৃহীত নথিপত্র (পিসিপিআর) পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডালিমের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। ২০২২ সালেও বিশেষ ক্ষমতা আইনে রামু থানায় তার বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা (মামলা নং-৮, তারিখ- ০৭ অক্টোবর ২০২২) নথিভুক্ত হয় এবং পরবর্তী সময়ে যার চার্জশিট (চার্জশিট নং-৪৬, তারিখ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৩) আদালতে দাখিল করা হয়। তবুও দীর্ঘ দিন ধরে একটি শক্তিশালী মাদক ও চোরাকারবারি সিন্ডিকেট পরিচালনা করে অবাধে সীমান্ত এলাকা থেকে টেকনাফ-রামু হয়ে দেশব্যাপী ইয়াবাচালান পাঠিয়ে আসছেন তিনি।


এদিকে এমন গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে ডালিমের এলাকায় গিয়েও তার দেখা মেলেনি। এছাড়া মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের ধারণা, সাম্প্রতিক অভিযানের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।


বারবার নাম আসা এবং সুনির্দিষ্ট মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ার পরও ডালিম প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, ডালিম গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকার অন্যান্য মাদক কারবারিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।


​অবিলম্বে এই মাদকের বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলতে এবং ৫০ হাজার ইয়াবার চালানের নেপথ্য নায়ক বেলাল উদ্দিন ডালিম সহ পুরো চক্রকে গ্রেপ্তারে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জরুরি ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মাদকের অভিযোগের পাহাড়েও স্পর্শহীন ডালিম! প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নাকি পেছনে অদৃশ্য শক্তি?
0:00 0:00
1.0x