রাতের আঁধারে তার চুরি; বিদ্যুৎ ও পানির সংকটে এতিমখানা-মাদ্রাসার কার্যক্রম ব্যাহত, তিন বেলা খাবার রান্নাতেও ভোগান্তি
ফরহাদ আহমদ, লামা–আলীকদম প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সুতাবাদী এলাকার গ্রীন ভিলেজে অবস্থিত হযরত ওমর ফারুক (রা.) নুরানী হাফেজী মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রায় ৩৫০ ফুট বৈদ্যুতিক তার চুরি যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা, এতিমখানার শিশুদের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং মাদ্রাসার সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে হঠাৎ করে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রথমে তাঁরা এটিকে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট বলে মনে করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে জানতে পেরে তাঁদের সন্দেহ হয়।
পরে মাদ্রাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ সংযোগের লাইন ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করে দেখতে পান, কিছু বৈদ্যুতিক তার মাটিতে পড়ে রয়েছে। পরে আরও খোঁজ নিয়ে প্রায় ৩৫০ ফুট তার কেটে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তাঁরা নিশ্চিত হন বলে জানান।
চুরি যাওয়া তারের কারণে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে সেখানে অধ্যয়নরত প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে এতিমখানায় প্রতিদিন তিন বেলা খাবার রান্না ও প্রস্তুত করতেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
মাদ্রাসাটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত হওয়ায় পানি সরবরাহের জন্যও বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় পানি তোলার ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থী ও এতিমখানার শিশুদের ব্যবহার্য পানির পাশাপাশি মসজিদে মুসল্লিদের অজুর পানিতেও সংকট দেখা দিয়েছে।
মাদ্রাসার প্রধান মতুয়াল্লি হাফেজ মিজবাহ উদ্দীন বলেন, রাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর প্রথমে তাঁরা স্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট মনে করেছিলেন। পরে আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ থাকায় বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। পরীক্ষা করে তাঁদের লাইনের প্রায় ৩৫০ ফুট তার কেটে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তাঁরা দেখতে পান।
তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। এতিমখানার শিশুদের তিন বেলা খাবার রান্না করতেও আমাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মাদ্রাসাটি পাহাড়ের ওপর হওয়ায় পানি তোলার জন্য বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। ফলে পানি ও অজুর ব্যবস্থাতেও সংকট দেখা দিয়েছে।”
হাফেজ মিজবাহ উদ্দীন আরও বলেন, মাদ্রাসা ও এতিমখানাটি কোনো বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা ছাড়াই মানুষের দান ও সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫০ ফুট বৈদ্যুতিক তার চুরি যাওয়ায় পুনরায় তার কিনে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করার জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। বর্তমান আর্থিক সংকটের কারণে দ্রুত সংযোগ পুনঃস্থাপন করা তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা সমাজের দানশীল ও বিত্তবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থী ও শিশুদের কথা বিবেচনা করে যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে পারলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও এতিমখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম আবারও সচল করা সম্ভব হবে।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জুবাইরুল ইসলাম বলেন, “মাদ্রাসা ও এতিমখানার মতো একটি প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক তার চুরি হওয়ায় শিক্ষার্থী ও এতিমদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত চুরি যাওয়া তার উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় রাতের বেলায় এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত নজরে আসে না। বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাদ্রাসা ও এতিমখানার বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে চুরি যাওয়া তারের পরিবর্তে নতুন তার স্থাপন করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।