Cox News

অপরাধ দমনে শীর্ষ ভূমিকায় ১৪ এপিবিএন, ১৫ লাখ ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৭৭৮


প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

অপরাধ দমনে শীর্ষ ভূমিকায় ১৪ এপিবিএন, ১৫ লাখ ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৭৭৮

​★ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ ও মাদক দমনে ১৪ এপিবিএনের সর্বোচ্চ ভূমিকা।

সিও সিরাজ আমিনের বার্তা- মাদকমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।

৬ বছরে ১৫ লাখ ইয়াবাসহ শতকোটির মাদক জব্দ।

৫৮৩ মামলায় ৭৭৮ কারবারি গ্রেফতার।

২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৬ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার।


​মুসলিম উদ্দিন:

কক্সবাজারের সীমান্ত জনপদ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অপরাধ দমন, চোরাচালান রোধ ও মাদকের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাটালিয়নটির লাগাতার অভিযানে গত ছয় বছরে অর্জিত হয়েছে চোখধাঁধানো সাফল্য। ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত অভিযানে প্রায় ১৫ লাখ পিস ইয়াবাসহ কোটি কোটি টাকার মাদক জব্দ করা হয়েছে, একই সাথে আইনের আওতায় আনা হয়েছে ৭৭৮ জন মাদক কারবারিকে।

​১৪ এপিবিএনের দেয়া তথ্যমতে, গত ৬ বছরে ক্যাম্প কেন্দ্রিক মাদক চক্রের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মোট ৫৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

​সংস্থাটির টানা অভিযানের খাতায় জমা হওয়া মাদকের তালিকায় রয়েছে- ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৬৬২ পিস ও অতিরিক্ত ৪২.৮০ গ্রাম ইয়াবা (বিভিন্ন রঙের), ৬৩ কেজি ২৬ গ্রাম গাঁজা, ১৬৫ লিটার ৪৫০ মিলিলিটার দেশি-বিদেশি মদ, ৯৬২ পিস ক্যানবিয়ার, ৩৮০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং ১২ লিটার হুইস্কি।

​প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২০ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৯টি মামলায় ৭০ জনকে গ্রেফতার এবং ২ লাখ ৯৭ হাজার ৫১৩ পিস ইয়াবা, ১.৪ কেজি গাঁজা ও ৪২ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী বছর ২০২১ সালে ১২১টি মামলায় ১৫৯ জন গ্রেফতার হয়; সেবছর উদ্ধার হয় ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫১০ পিস ইয়াবা, ৪১.৭৪১ কেজি গাঁজা, ৫.৮৫ লিটার মদ ও ৪২৭ পিস ক্যানবিয়ার।

​অভিযানের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০২২ সালে। সে বছর রেকর্ড ২৫৯টি মামলায় ৩৫৩ জন কারবারিকে গ্রেফতারের পাশাপাশি ৬ লাখ ৮ হাজার ১৬৩ পিস ইয়াবা, ৮.২২৩ কেজি গাঁজা, ১২.০৫ লিটার মদ, ৪২৮ পিস ক্যানবিয়ার ও ১২ লিটার হুইস্কি আটক করে ব্যাটালিয়নটি। ২০২৩ সালে ৪৬টি মামলায় ৬৮ জন গ্রেফতারের পাশাপাশি ১ লাখ ৮২ হাজার ৬৩০ পিস ইয়াবা, ৩১২ গ্রাম গাঁজা, ১৫.৪৫ লিটার মদ ও ৪৭ পিস ক্যানবিয়ার উদ্ধার করা হয়।

​এছাড়া ২০২৪ সালে ৪৪টি মামলায় ৫৭ জন গ্রেফতার হয়; উদ্ধার করা হয় ৩১ হাজার ২২৬ পিস ইয়াবা, ৬.৬৬৫ কেজি গাঁজা, ১০.৫ লিটার মদ, ৬০ পিস ক্যানবিয়ার ও ৩৮০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইস)। ২০২৫ সালে ২৭টি মামলায় ৩৪ জনকে গ্রেফতারের সাথে ৩০ হাজার ৮৪৬ পিস ও ৪২.৮০ গ্রাম ইয়াবা এবং ৪.৬৮৫ কেজি গাঁজা জব্দ হয়। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ১৭টি মামলায় ২৭ জনকে গ্রেফতার করে ৮২ হাজার ৭৭৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

​১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক (সিও) সিরাজ আমিন জানান, "রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। ক্যাম্প কেন্দ্রিক কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কিংবা আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেটকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। উখিয়ার প্রতিটি ক্যাম্প ও আশেপাশের এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত জিরো টলারেন্স নীতিতে ১৪ এপিবিএনের এই কঠোর ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।"

Cox News

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬


অপরাধ দমনে শীর্ষ ভূমিকায় ১৪ এপিবিএন, ১৫ লাখ ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৭৭৮

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

​★ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ ও মাদক দমনে ১৪ এপিবিএনের সর্বোচ্চ ভূমিকা।

সিও সিরাজ আমিনের বার্তা- মাদকমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।

৬ বছরে ১৫ লাখ ইয়াবাসহ শতকোটির মাদক জব্দ।

৫৮৩ মামলায় ৭৭৮ কারবারি গ্রেফতার।

২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৬ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার।


​মুসলিম উদ্দিন:

কক্সবাজারের সীমান্ত জনপদ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অপরাধ দমন, চোরাচালান রোধ ও মাদকের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাটালিয়নটির লাগাতার অভিযানে গত ছয় বছরে অর্জিত হয়েছে চোখধাঁধানো সাফল্য। ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত অভিযানে প্রায় ১৫ লাখ পিস ইয়াবাসহ কোটি কোটি টাকার মাদক জব্দ করা হয়েছে, একই সাথে আইনের আওতায় আনা হয়েছে ৭৭৮ জন মাদক কারবারিকে।

​১৪ এপিবিএনের দেয়া তথ্যমতে, গত ৬ বছরে ক্যাম্প কেন্দ্রিক মাদক চক্রের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মোট ৫৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

​সংস্থাটির টানা অভিযানের খাতায় জমা হওয়া মাদকের তালিকায় রয়েছে- ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৬৬২ পিস ও অতিরিক্ত ৪২.৮০ গ্রাম ইয়াবা (বিভিন্ন রঙের), ৬৩ কেজি ২৬ গ্রাম গাঁজা, ১৬৫ লিটার ৪৫০ মিলিলিটার দেশি-বিদেশি মদ, ৯৬২ পিস ক্যানবিয়ার, ৩৮০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং ১২ লিটার হুইস্কি।

​প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২০ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৯টি মামলায় ৭০ জনকে গ্রেফতার এবং ২ লাখ ৯৭ হাজার ৫১৩ পিস ইয়াবা, ১.৪ কেজি গাঁজা ও ৪২ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী বছর ২০২১ সালে ১২১টি মামলায় ১৫৯ জন গ্রেফতার হয়; সেবছর উদ্ধার হয় ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫১০ পিস ইয়াবা, ৪১.৭৪১ কেজি গাঁজা, ৫.৮৫ লিটার মদ ও ৪২৭ পিস ক্যানবিয়ার।

​অভিযানের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০২২ সালে। সে বছর রেকর্ড ২৫৯টি মামলায় ৩৫৩ জন কারবারিকে গ্রেফতারের পাশাপাশি ৬ লাখ ৮ হাজার ১৬৩ পিস ইয়াবা, ৮.২২৩ কেজি গাঁজা, ১২.০৫ লিটার মদ, ৪২৮ পিস ক্যানবিয়ার ও ১২ লিটার হুইস্কি আটক করে ব্যাটালিয়নটি। ২০২৩ সালে ৪৬টি মামলায় ৬৮ জন গ্রেফতারের পাশাপাশি ১ লাখ ৮২ হাজার ৬৩০ পিস ইয়াবা, ৩১২ গ্রাম গাঁজা, ১৫.৪৫ লিটার মদ ও ৪৭ পিস ক্যানবিয়ার উদ্ধার করা হয়।

​এছাড়া ২০২৪ সালে ৪৪টি মামলায় ৫৭ জন গ্রেফতার হয়; উদ্ধার করা হয় ৩১ হাজার ২২৬ পিস ইয়াবা, ৬.৬৬৫ কেজি গাঁজা, ১০.৫ লিটার মদ, ৬০ পিস ক্যানবিয়ার ও ৩৮০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইস)। ২০২৫ সালে ২৭টি মামলায় ৩৪ জনকে গ্রেফতারের সাথে ৩০ হাজার ৮৪৬ পিস ও ৪২.৮০ গ্রাম ইয়াবা এবং ৪.৬৮৫ কেজি গাঁজা জব্দ হয়। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ১৭টি মামলায় ২৭ জনকে গ্রেফতার করে ৮২ হাজার ৭৭৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

​১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক (সিও) সিরাজ আমিন জানান, "রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। ক্যাম্প কেন্দ্রিক কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কিংবা আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেটকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। উখিয়ার প্রতিটি ক্যাম্প ও আশেপাশের এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত জিরো টলারেন্স নীতিতে ১৪ এপিবিএনের এই কঠোর ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।"


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
অপরাধ দমনে শীর্ষ ভূমিকায় ১৪ এপিবিএন, ১৫ লাখ ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৭৭৮
0:00 0:00
1.0x