Cox News

কক্সবাজার থেকে মুন্সিগঞ্জ ফেরার পথে ফাইতংয়ে অচেতন যুবক, পরিবারের কাছে হস্তান্তর


প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

কক্সবাজার থেকে মুন্সিগঞ্জ ফেরার পথে ফাইতংয়ে অচেতন যুবক, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

বান্দরবানের লামার ফাইতং ইউনিয়নের মংচিতা মেম্বার পাড়ায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা মুন্সিগঞ্জের এক যুবককে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন স্থানীয়রা।


লামা প্রতিনিধি:

কক্সবাজার থেকে মুন্সিগঞ্জ ফেরার পথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের নলবিলা এলাকায় বাস থেকে নেমে পড়েছিলেন এক যুবক। এরপর হেঁটে লামার ফাইতং ইউনিয়নের লম্বাশিয়া এলাকায় চলে আসেন তিনি। পরে মংচিতা মেম্বার পাড়ার কাছে একটি ড্রেনের ওপর অচেতন অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন স্থানীয়রা। শেষ পর্যন্ত মুন্সিগঞ্জ থেকে ছুটে এসে তাঁকে নিয়ে যান তাঁর বাবা।

যুবকের নাম মো. সাজ্জাদ হোসেন মোল্লা (২৮)। তিনি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কুসুমপুর গ্রামের মোল্লা বাড়ির বাসিন্দা। তাঁর বাবা আবজল হোসেন মোল্লা এবং মা শিরিয়া বেগম।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সাজ্জাদ হোসেন কিছুটা মানসিকভাবে অসুস্থ। সম্প্রতি বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন তিনি। গতকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মুন্সিগঞ্জে ফেরার উদ্দেশ্যে বাসের টিকিট কাটেন। তবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের নলবিলা এলাকায় বাস থেকে নেমে যান তিনি।

এরপর হেঁটে হেঁটে তিনি ফাইতং ইউনিয়নের লম্বাশিয়া এলাকায় চলে আসেন। গতকাল দুপুরের দিকে স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক তাঁকে ওই এলাকায় দেখতে পান। পরে ফাইতং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মংচিতা মেম্বার পাড়ার কাছে একটি ড্রেনের ওপর অচেতন অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে স্থানীয় ইউপি সদস্য থুইহ্লাচিং মার্মা মৃদুর জিম্মায় রাখা হয়। চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পর তাঁর জ্ঞান ফিরলে সঙ্গে থাকা মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়।

ইউপি সদস্য থুইহ্লাচিং মার্মা মৃদু বলেন, অচেতন অবস্থায় যুবকটিকে উদ্ধারের পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁর দেখভালের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান ও ফাইতং পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জকে অবগত করা হয়। পরে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পর তাঁর কাছে থাকা মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়ার পর তাঁরা এসে যুবকটিকে নিয়ে যান।

খবর পেয়ে সাজ্জাদ হোসেনের বাবা আবজল হোসেন মোল্লা এক প্রতিবেশীকে সঙ্গে নিয়ে রাতেই মুন্সিগঞ্জ থেকে লামার ফাইতং ইউনিয়নের উদ্দেশে রওনা হন। আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে তাঁরা ফাইতংয়ে পৌঁছান।

পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সাজ্জাদ হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের পরিচয় ও পারিবারিক তথ্য যাচাই করা হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁকে তাঁর বাবা ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সাজ্জাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তাঁর মা শিরিন বেগম ইছাপুরা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য (১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড), সিরাজদিখান, মুন্সিগঞ্জ—এমন তথ্যও পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানান, অচেতন অবস্থায় অপরিচিত একজনকে পড়ে থাকতে দেখে তাঁকে ফেলে না রেখে উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসাসেবা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং স্বজনদের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়রা সহযোগিতা করেন।

নলবিলা থেকে ফাইতংয়ের লম্বাশিয়া ও মংচিতা মেম্বার পাড়া পর্যন্ত কীভাবে সাজ্জাদ হোসেন হেঁটে এসেছেন, তা পরিবারের সদস্যদের কাছেও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে স্থানীয়দের তৎপরতায় সময়মতো তাঁকে উদ্ধার এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিরাপদে স্বজনদের কাছে ফিরতে পেরেছেন তিনি।

Cox News

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কক্সবাজার থেকে মুন্সিগঞ্জ ফেরার পথে ফাইতংয়ে অচেতন যুবক, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বান্দরবানের লামার ফাইতং ইউনিয়নের মংচিতা মেম্বার পাড়ায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা মুন্সিগঞ্জের এক যুবককে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন স্থানীয়রা।


লামা প্রতিনিধি:

কক্সবাজার থেকে মুন্সিগঞ্জ ফেরার পথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের নলবিলা এলাকায় বাস থেকে নেমে পড়েছিলেন এক যুবক। এরপর হেঁটে লামার ফাইতং ইউনিয়নের লম্বাশিয়া এলাকায় চলে আসেন তিনি। পরে মংচিতা মেম্বার পাড়ার কাছে একটি ড্রেনের ওপর অচেতন অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন স্থানীয়রা। শেষ পর্যন্ত মুন্সিগঞ্জ থেকে ছুটে এসে তাঁকে নিয়ে যান তাঁর বাবা।


যুবকের নাম মো. সাজ্জাদ হোসেন মোল্লা (২৮)। তিনি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কুসুমপুর গ্রামের মোল্লা বাড়ির বাসিন্দা। তাঁর বাবা আবজল হোসেন মোল্লা এবং মা শিরিয়া বেগম।


পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সাজ্জাদ হোসেন কিছুটা মানসিকভাবে অসুস্থ। সম্প্রতি বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন তিনি। গতকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মুন্সিগঞ্জে ফেরার উদ্দেশ্যে বাসের টিকিট কাটেন। তবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের নলবিলা এলাকায় বাস থেকে নেমে যান তিনি।


এরপর হেঁটে হেঁটে তিনি ফাইতং ইউনিয়নের লম্বাশিয়া এলাকায় চলে আসেন। গতকাল দুপুরের দিকে স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক তাঁকে ওই এলাকায় দেখতে পান। পরে ফাইতং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মংচিতা মেম্বার পাড়ার কাছে একটি ড্রেনের ওপর অচেতন অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।


বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে স্থানীয় ইউপি সদস্য থুইহ্লাচিং মার্মা মৃদুর জিম্মায় রাখা হয়। চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পর তাঁর জ্ঞান ফিরলে সঙ্গে থাকা মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়।


ইউপি সদস্য থুইহ্লাচিং মার্মা মৃদু বলেন, অচেতন অবস্থায় যুবকটিকে উদ্ধারের পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁর দেখভালের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান ও ফাইতং পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জকে অবগত করা হয়। পরে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পর তাঁর কাছে থাকা মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়ার পর তাঁরা এসে যুবকটিকে নিয়ে যান।


খবর পেয়ে সাজ্জাদ হোসেনের বাবা আবজল হোসেন মোল্লা এক প্রতিবেশীকে সঙ্গে নিয়ে রাতেই মুন্সিগঞ্জ থেকে লামার ফাইতং ইউনিয়নের উদ্দেশে রওনা হন। আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে তাঁরা ফাইতংয়ে পৌঁছান।


পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সাজ্জাদ হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের পরিচয় ও পারিবারিক তথ্য যাচাই করা হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁকে তাঁর বাবা ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


সাজ্জাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তাঁর মা শিরিন বেগম ইছাপুরা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য (১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড), সিরাজদিখান, মুন্সিগঞ্জ—এমন তথ্যও পাওয়া গেছে।


স্থানীয়রা জানান, অচেতন অবস্থায় অপরিচিত একজনকে পড়ে থাকতে দেখে তাঁকে ফেলে না রেখে উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসাসেবা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং স্বজনদের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়রা সহযোগিতা করেন।


নলবিলা থেকে ফাইতংয়ের লম্বাশিয়া ও মংচিতা মেম্বার পাড়া পর্যন্ত কীভাবে সাজ্জাদ হোসেন হেঁটে এসেছেন, তা পরিবারের সদস্যদের কাছেও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে স্থানীয়দের তৎপরতায় সময়মতো তাঁকে উদ্ধার এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিরাপদে স্বজনদের কাছে ফিরতে পেরেছেন তিনি।


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
কক্সবাজার থেকে মুন্সিগঞ্জ ফেরার পথে ফাইতংয়ে অচেতন যুবক, পরিবারের কাছে হস্তান্তর
0:00 0:00
1.0x