নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের উখিয়ায় ডাবল হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি এতেসামুল হক ওরফে শাহীনকে (৩৭) ঢাকার শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ১৪ এপিবিএন। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
১৪ এপিবিএন সূত্রে জানা যায়, উখিয়া থানার মামলা নং-১২, তারিখ ১০ জুলাই ২০২৬, জিআর নং-৩৯১/২৬-এর আসামি শাহীন। মামলায় পেনাল কোডের ৩২৬/৩০৭/৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) জানে আলম মুনশী ও এসআই মো. মাঈন উদ্দিন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে র্যাবের সহযোগিতায় গত ১৬ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানা এলাকার বসুন্ধরা সিটির সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানায়, ঘটনার দিন তার পরনে থাকা পাঞ্জাবিটি উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প-৬-এর ব্লক-সি/৪ এলাকায় রাব্বানি মসজিদের উত্তর পাশে একটি মক্তব ঘরের টিনের চালে ফেলে রেখেছিল। পরে তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান থেকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে রক্তমাখা পাঞ্জাবিটি জব্দ করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শেষে আসামিকে উখিয়া থানার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত শাহীন একজন রোহিঙ্গা নাগরিক হলেও বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করতেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি জাতীয় পরিচয়পত্রে শুধু ‘শাহীন’ নাম ব্যবহার করে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার দক্ষিণ বড়িশ্চর, মতিন কলোনির ঠিকানা উল্লেখ করেছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ঘটনার পর তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প থেকে বের হয়ে ঢাকায় গিয়ে অবস্থান নেন। তার ক্যাম্প ত্যাগের বিষয়টি লাম্বাশিয়া পুলিশ ক্যাম্পের সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি নং-৪০৫, ১৮ আগস্ট ২০২৬) লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ডাবল হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আসামিকে গ্রেপ্তার, আলামত উদ্ধার এবং আদালতে পাঠানোর আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।