Cox News

সংস্কার নাই, গ্যাস-বিদ্যুৎ নাই, পেটে ভাতও নাই


প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সংস্কার নাই, গ্যাস-বিদ্যুৎ নাই, পেটে ভাতও নাই

নির্বাচনের পর সব সমস্যার সমাধান হবে—এমন প্রতিশ্রুতি দীর্ঘদিন ধরে জনগণকে দেওয়া হলেও ক্ষমতায় আসার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান সংস্কার হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচন হলেই নাকি সব ঠিক হয়ে যাবে এবং ক্ষমতায় এলে পেটে ভাত থাকবে, এমন কথা আমাদের দীর্ঘ দেড় বছর ধরে শুনতে হয়েছে। কিন্তু তারা ক্ষমতায় আসার পাঁচ-ছয় মাস পার হতে চললেও আজ সংস্কার তো নেই-ই, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও পেটে ভাতও নেই।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সুবিধা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে জনগণের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক কিছুই এখন সহজলভ্য নয়।

চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ তুলে এনসিপির এই মুখপাত্র বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজির নানা অভিযোগ সামনে আসছে। এমনকি কোথাও কোথাও জমিতে গরু-মহিষ চরাতেও চাঁদা দিতে হচ্ছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, নির্বাচনের আগে বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। অথচ তার দাবি, ক্ষমতায় আসার ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ব্যাপকভাবে সামনে এসেছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসিফ মাহমুদ। তার দাবি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকলে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না। ফলে নির্বাচন হলেও তা প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ভোটের সুযোগ তৈরি করবে না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি পাওয়া যায়নি। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হলে একটি সমতাভিত্তিক নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। এসব প্রশাসকের কেউ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হলে নির্বাচন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, দলটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও গণতন্ত্রের কথা বললেও বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও দলীয় প্রচারণার অভিযোগ উঠছে। সরকারি অর্থে দলীয় প্রতীক ও ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে প্রচারণা চালানোকে তিনি ‘গণতন্ত্রের’ সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে—যেসব ব্যক্তিকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন। তারা নির্বাচনে অংশ নিলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ভারতের দিক থেকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরতে চান—এমন বক্তব্য শোনা যাচ্ছে এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাও এ বিষয়ে কথা বলছেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে সঠিক বিচার নিশ্চিত করার জন্য এনসিপি প্রস্তুত রয়েছে।

বিষয় : রাজনীতি এনসিপি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

Cox News

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬


সংস্কার নাই, গ্যাস-বিদ্যুৎ নাই, পেটে ভাতও নাই

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নির্বাচনের পর সব সমস্যার সমাধান হবে—এমন প্রতিশ্রুতি দীর্ঘদিন ধরে জনগণকে দেওয়া হলেও ক্ষমতায় আসার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান সংস্কার হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচন হলেই নাকি সব ঠিক হয়ে যাবে এবং ক্ষমতায় এলে পেটে ভাত থাকবে, এমন কথা আমাদের দীর্ঘ দেড় বছর ধরে শুনতে হয়েছে। কিন্তু তারা ক্ষমতায় আসার পাঁচ-ছয় মাস পার হতে চললেও আজ সংস্কার তো নেই-ই, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও পেটে ভাতও নেই।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সুবিধা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে জনগণের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক কিছুই এখন সহজলভ্য নয়।

চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ তুলে এনসিপির এই মুখপাত্র বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজির নানা অভিযোগ সামনে আসছে। এমনকি কোথাও কোথাও জমিতে গরু-মহিষ চরাতেও চাঁদা দিতে হচ্ছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, নির্বাচনের আগে বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। অথচ তার দাবি, ক্ষমতায় আসার ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ব্যাপকভাবে সামনে এসেছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসিফ মাহমুদ। তার দাবি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকলে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না। ফলে নির্বাচন হলেও তা প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ভোটের সুযোগ তৈরি করবে না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি পাওয়া যায়নি। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হলে একটি সমতাভিত্তিক নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। এসব প্রশাসকের কেউ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হলে নির্বাচন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, দলটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও গণতন্ত্রের কথা বললেও বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও দলীয় প্রচারণার অভিযোগ উঠছে। সরকারি অর্থে দলীয় প্রতীক ও ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে প্রচারণা চালানোকে তিনি ‘গণতন্ত্রের’ সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে—যেসব ব্যক্তিকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন। তারা নির্বাচনে অংশ নিলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ভারতের দিক থেকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরতে চান—এমন বক্তব্য শোনা যাচ্ছে এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাও এ বিষয়ে কথা বলছেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে সঠিক বিচার নিশ্চিত করার জন্য এনসিপি প্রস্তুত রয়েছে।


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সংস্কার নাই, গ্যাস-বিদ্যুৎ নাই, পেটে ভাতও নাই
0:00 0:00
1.0x