Cox News

আন্দোলনের পর গণগ্রেপ্তার—আবারও রাজপথে নামার হুমকি ককরোচদের


প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

আন্দোলনের পর গণগ্রেপ্তার—আবারও রাজপথে নামার হুমকি ককরোচদের
গত ২৫ জুলাই নয়াদিল্লিতে বৈঠকের পর ককরোচদের মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা একটি সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন। ছবি: এএফপি

ভারতের শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের পর দেশজুড়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর গণগ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগে আবারও রাজপথে নামার হুমকি দিয়েছে জেন-জি নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন শুরু হলে গত সপ্তাহে চাপের মুখে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনকালে এটি কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগের বিরল এক ঘটনা।

দেশব্যাপী আন্দোলনের মুখে গত শনিবার (২৫ জুলাই) সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দিলে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু এর পরপরই মোদি সরকারের আশ্বাসের বরখেলাপ করে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে শতাধিক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। অনেকের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সরকার চুক্তি না মেনে অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি না দিলে তারা আবারও আন্দোলন শুরু করতে বাধ্য হবেন।

প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় একটি আইনি তহবিল গঠনের ঘোষণাও দিয়েছে সিজেপি। এ ছাড়া অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ) বিহারের পুলিশ প্রধানের সঙ্গে দেখা করে গ্রেপ্তার হওয়া আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে। আন্দোলনের মুখে বিহার পুলিশ কিছু মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে এবং আসাম সরকারও গ্রেপ্তারদের মুক্তি দিতে শুরু করেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি ভিন্ন। এই রাজ্যটিতে ‘আপত্তিকর পোস্টার’ প্রদর্শনের অভিযোগে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত। এমনকি প্রধানমন্ত্রী মোদির কার্টুন প্রদর্শনের জন্য অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধেও পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

একই সঙ্গে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোদিবিরোধী পোস্ট মুছে ফেলার অভিযান শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সমালোচনা মূলক পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখ্য, গত মে মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়, যা প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলেছিল। এরপর ২০ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও পেলেট গান ব্যবহারের পর এই আন্দোলন দাবানলের মতো পুরো ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তও শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের কঠোর সমালোচনা করে বলেছিলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার ভারতের সংবিধান স্বীকৃত। মূলত যুবসমাজকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতির করা এক কটূক্তির জবাব হিসেবেই অভিজিৎ দিপকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করেন, যা আজ মোদি সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

বিষয় : পদত্যাগ ভারত শিক্ষার্থী আন্দোলন শিক্ষামন্ত্রী বিক্ষোভ

Cox News

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬


আন্দোলনের পর গণগ্রেপ্তার—আবারও রাজপথে নামার হুমকি ককরোচদের

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভারতের শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের পর দেশজুড়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর গণগ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগে আবারও রাজপথে নামার হুমকি দিয়েছে জেন-জি নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন শুরু হলে গত সপ্তাহে চাপের মুখে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনকালে এটি কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগের বিরল এক ঘটনা।

দেশব্যাপী আন্দোলনের মুখে গত শনিবার (২৫ জুলাই) সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দিলে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু এর পরপরই মোদি সরকারের আশ্বাসের বরখেলাপ করে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে শতাধিক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। অনেকের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সরকার চুক্তি না মেনে অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি না দিলে তারা আবারও আন্দোলন শুরু করতে বাধ্য হবেন।

প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় একটি আইনি তহবিল গঠনের ঘোষণাও দিয়েছে সিজেপি। এ ছাড়া অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ) বিহারের পুলিশ প্রধানের সঙ্গে দেখা করে গ্রেপ্তার হওয়া আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে। আন্দোলনের মুখে বিহার পুলিশ কিছু মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে এবং আসাম সরকারও গ্রেপ্তারদের মুক্তি দিতে শুরু করেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি ভিন্ন। এই রাজ্যটিতে ‘আপত্তিকর পোস্টার’ প্রদর্শনের অভিযোগে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত। এমনকি প্রধানমন্ত্রী মোদির কার্টুন প্রদর্শনের জন্য অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধেও পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

একই সঙ্গে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোদিবিরোধী পোস্ট মুছে ফেলার অভিযান শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সমালোচনা মূলক পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখ্য, গত মে মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়, যা প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলেছিল। এরপর ২০ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও পেলেট গান ব্যবহারের পর এই আন্দোলন দাবানলের মতো পুরো ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তও শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের কঠোর সমালোচনা করে বলেছিলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার ভারতের সংবিধান স্বীকৃত। মূলত যুবসমাজকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতির করা এক কটূক্তির জবাব হিসেবেই অভিজিৎ দিপকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করেন, যা আজ মোদি সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
আন্দোলনের পর গণগ্রেপ্তার—আবারও রাজপথে নামার হুমকি ককরোচদের
0:00 0:00
1.0x