Cox News

হত্যাকারীদের ফাঁসি ও কেড়ে নেওয়া জমি ফেরত চান স্ত্রী


প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

হত্যাকারীদের ফাঁসি ও কেড়ে নেওয়া জমি ফেরত চান স্ত্রী

‘অনেক হুমকিধমকির পর ২০১০ সালে আমার পৈতৃক জমি কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর ২০১৮ সালে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়। আমার স্বামীর হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই। পাশাপাশি আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া জমি ফেরত দিতে ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন, এটুকুই আমার চাওয়া।’

আট বছর আগে কক্সবাজারের টেকনাফে নৃশংস হত্যার শিকার পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের বিধবা স্ত্রী আয়েশা বেগম গতকাল সোমবার এভাবেই কথাগুলো বলেন।  টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর সমকালকে নিজের কষ্ট, জীবনসংগ্রাম ও প্রত্যাশার কথা জানান আয়েশা বেগম।

আয়েশা বেগম বলেন, ‘সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুর রহমান বদি (বর্তমান কারাগারে) নির্যাতনের অনেক হুমকি দিয়ে আমাদের কাছ থেকে জমি কেড়ে নেয়। এরপর পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়। আমি শুধু স্বামীর বিচার আর আমার বাবার কাছ থেকে বদির কেড়ে নেওয়া জমি ফেরত চাই।’ আয়েশা বেগম বলেন, ‘নিরাপত্তাহীনতার কারণে টেকনাফ ছেড়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছি। অনেক কষ্টে আছি। টাকা-পয়সা নেই। ধারদেনা করেও সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। বাবার কথা বলে মেয়েরা এখনও কান্নাকাটি করে। আমি ঠিকমতো সান্ত্বনাও দিতে পারি না। ওদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব চিন্তা হয়, ভয়ের মধ্যে আছি। কেননা বেশ কিছু দিন আগেও বদির নাম মামলা থেকে বাদ দিতে হুমকি এসেছিল।’

আয়েশা বেগম আরও বলেন, ‘এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবা হারানো সন্তানদের কষ্ট ও একজন স্বামীহারা অসহায় নারীর জীবনের সংগ্রাম উপলব্ধি করবেন। অন্তত তাঁর আমলে আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার পাব এই আশায় বুক বেঁধেছি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার একটু সুযোগ পাব সেই আশা করছি, যাতে আমাদের কথাগুলো সরাসরি তুলে ধরতে পারি।’ গতকাল সরেজমিন টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী পাড়া ৩ নম্বর ওর্য়াডের লামার বাজার এলাকার পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে নিহত একরামুল হকের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। দেখা যায়, বাড়ির দরজায় তালা। পরিত্যক্ত ঘরটি জরাজীর্ণ অবস্থায়। দরজা ভাঙাচোরা, জানালার কাচ ভাঙা।  এ বিষয়ে একরামুল হকের ভাই টেকনাফ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এহেতশামুল হক বাহাদুর বলেন, ‘আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। আমরা বিশ্বাস করি ন্যায়বিচার পাব।’  ২০১৮ সালের ২৬ মে কক্সবাজারের টেকনাফে র‍্যাবের মাদকবিরোধী অভিযানের সময় কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি একরামুল হক। ঘটনার পর তাঁর স্ত্রী আয়েশা বেগমের প্রকাশ করা একটি অডিও রেকর্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার প্রায় সাত বছর পর গত বছরের এপ্রিলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন আয়েশা বেগম। 

বিষয় : বিচার শুরু

Cox News

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬


হত্যাকারীদের ফাঁসি ও কেড়ে নেওয়া জমি ফেরত চান স্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

‘অনেক হুমকিধমকির পর ২০১০ সালে আমার পৈতৃক জমি কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর ২০১৮ সালে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়। আমার স্বামীর হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই। পাশাপাশি আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া জমি ফেরত দিতে ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন, এটুকুই আমার চাওয়া।’

আট বছর আগে কক্সবাজারের টেকনাফে নৃশংস হত্যার শিকার পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের বিধবা স্ত্রী আয়েশা বেগম গতকাল সোমবার এভাবেই কথাগুলো বলেন।  টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর সমকালকে নিজের কষ্ট, জীবনসংগ্রাম ও প্রত্যাশার কথা জানান আয়েশা বেগম।

আয়েশা বেগম বলেন, ‘সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুর রহমান বদি (বর্তমান কারাগারে) নির্যাতনের অনেক হুমকি দিয়ে আমাদের কাছ থেকে জমি কেড়ে নেয়। এরপর পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়। আমি শুধু স্বামীর বিচার আর আমার বাবার কাছ থেকে বদির কেড়ে নেওয়া জমি ফেরত চাই।’ আয়েশা বেগম বলেন, ‘নিরাপত্তাহীনতার কারণে টেকনাফ ছেড়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছি। অনেক কষ্টে আছি। টাকা-পয়সা নেই। ধারদেনা করেও সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। বাবার কথা বলে মেয়েরা এখনও কান্নাকাটি করে। আমি ঠিকমতো সান্ত্বনাও দিতে পারি না। ওদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব চিন্তা হয়, ভয়ের মধ্যে আছি। কেননা বেশ কিছু দিন আগেও বদির নাম মামলা থেকে বাদ দিতে হুমকি এসেছিল।’

আয়েশা বেগম আরও বলেন, ‘এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবা হারানো সন্তানদের কষ্ট ও একজন স্বামীহারা অসহায় নারীর জীবনের সংগ্রাম উপলব্ধি করবেন। অন্তত তাঁর আমলে আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার পাব এই আশায় বুক বেঁধেছি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার একটু সুযোগ পাব সেই আশা করছি, যাতে আমাদের কথাগুলো সরাসরি তুলে ধরতে পারি।’ গতকাল সরেজমিন টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী পাড়া ৩ নম্বর ওর্য়াডের লামার বাজার এলাকার পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে নিহত একরামুল হকের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। দেখা যায়, বাড়ির দরজায় তালা। পরিত্যক্ত ঘরটি জরাজীর্ণ অবস্থায়। দরজা ভাঙাচোরা, জানালার কাচ ভাঙা।  এ বিষয়ে একরামুল হকের ভাই টেকনাফ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এহেতশামুল হক বাহাদুর বলেন, ‘আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। আমরা বিশ্বাস করি ন্যায়বিচার পাব।’  ২০১৮ সালের ২৬ মে কক্সবাজারের টেকনাফে র‍্যাবের মাদকবিরোধী অভিযানের সময় কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি একরামুল হক। ঘটনার পর তাঁর স্ত্রী আয়েশা বেগমের প্রকাশ করা একটি অডিও রেকর্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার প্রায় সাত বছর পর গত বছরের এপ্রিলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন আয়েশা বেগম। 


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
হত্যাকারীদের ফাঁসি ও কেড়ে নেওয়া জমি ফেরত চান স্ত্রী
0:00 0:00
1.0x