Cox News

রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন, চালকদের ভোগান্তি


প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন, চালকদের ভোগান্তি
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ইউনাইটেড সিএনজি স্টেশনে সিএনজিচালিত অটোরিকশার দীর্ঘ লাইন। শুক্রবার বিকালে তোলা। ছবি: যুগান্তর

রাজধানীতে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী থেকে সাইনবোর্ড এবং ঢাকা-মাওয়া সড়কের যাত্রাবাড়ী থেকে পোস্তগোলাসহ বিভিন্ন এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশনে শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকেই গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস নিতে পারেননি অনেক চালক। গ্যাস না থাকার কারণে কিছু স্টেশনে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহও বন্ধ রাখা হয়েছে দিনের বেলা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-চটগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী থেকে সাইনবোর্ড- ইউনাইটেড সিএনজি স্টেশন, স্পিডবার্ড সিএনজি স্টেশন, টোটাল সিএনজি লিমিটেড, ডব্লিউ জেড  সিএনজি অ্যান্ড সার্ভিসিং, আসমা আলী সিএনজি ফুয়েলিং অ্যান্ড ওয়ার্কশপে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস এবং অটোরিকশার দীর্ঘ লাইন।

প্রত্যেকটি পাম্পে দেড়শ থেকে দুই শতাধিক গাড়ি গ্যাসের জন্য দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। প্রাইভেটকার চালক আল-আমিন জানান, আমি উত্তরায় গ্যাস না পেয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রায়েরবাগ ইউনাইটেড সিএনজি স্টেশনে এসেছি। এখানেও দীর্ঘ লাইন, এক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।

মাইক্রোবাস চালক জাকির হোসেন জানান, আমি উবারে গাড়ি চালাই। ঢাকা সিটির কোথাও গ্যাস নেই। সেই কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাতুয়াইল স্পিডবার্ড সিএনজি স্টেশনে এসেছি।  এখানে দুই ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষার পর মাত্র আড়াইশ টাকার গ্যাস পেয়েছি; যেখানে আগে সাত থেকে আটশ টাকার গ্যাস পেতাম।

অটোরিকশা চালক শুক্কুর আলী জানান, আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর ১২০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। আগে আড়াইশ থেকে তিনশ টাকার গ্যাস পেতাম।

সিএনজি স্টেশনের নজেলম্যান ফজলে রাব্বি বলেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় গত চার দিন ধরে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। 

ইউনাইটেড সিএনজি স্টেশনের ক্যাশিয়ার রাজু বলেন, বর্তমানে গ্যাসের চাপ খুবই কম।

চালকরা আরও জানান, স্বাভাবিক সময়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিটে গ্যাস নেওয়া গেলেও এখন দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি সংগ্রহে সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে যাত্রী পরিবহণ ও পণ্য সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাতুয়াইল এলাকার আসমা আলী সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষমাণ চালক মনির হোসেন বলেন, দুপুর ১২টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখন বিকাল ৩টা বাজে। মাত্র গ্যাস নিলাম। গ্যাসের চাপ কম থাকায় মাত্র ১৪০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। এটা দিয়ে কতক্ষণই বা চালানো যাবে!

এদিকে শ্যামপুর এলাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সংকটের কারণে সৃষ্টি হয়েছে চরম ভোগান্তি। গ্যাসের স্বল্পচাপ ও সরবরাহ সংকটের কারণে ফিলিং স্টেশনের সামনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের দাবি, গ্যাস নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের লাইন প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এতে প্রধান সড়কের একটি বড় অংশ দখল হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, অফিসগামী মানুষ এবং অন্যান্য যানবাহনের চালকরা।

গাড়িচালকরা যুগান্তরকে জানান, চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করার পরও অনেকেই গ্যাস পাননি। আবার কেউ কেউ গ্যাস পেলেও স্বল্পচাপের কারণে নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় অন্তত ১৫০ থেকে ২০০ টাকার সমপরিমাণ গ্যাস কম পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, এ পরিস্থিতিতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয় ও চালকদের দাবি, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় এ সংকট আরও তীব্র হয়ে জনদুর্ভোগ বাড়তে পারে।

এদিকে রান্নার চুলায়ও গ্যাস না থাকায় শনিরআখড়া, জুরাইন, পলাশপুর, স্মৃতিধারা এলাকায় হাহাকার বিরাজ করছে। রান্না করতে না পারায় বাসাবাড়িতে খাবারের সংকট চলছে। অনেকে বিকল্প হিসেবে শুকনো খাবার, কেউবা হোটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।  

পলাশপুর এলাকার বাসিন্দা আমজাদ শিকদার বলেন, গত এক বছর যাবৎ গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। কখনো রাত ১২টার পর, কখনো ভোররাতে গ্যাস আসত; চার-পাঁচ দিন ধরে তাও আসে না। এতে খাবার গ্রহণে চরম অনিয়ম হচ্ছে। 

স্মৃতিধারা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, আমাদের এলাকায় গত এক বছর ধরে গ্যাস সংকট। আজ কয়েক দিন ধরে মোটেও গ্যাস নেই। হোটেলের রান্না করা খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছি।

বিষয় : গাড়ি

Cox News

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন, চালকদের ভোগান্তি

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাজধানীতে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী থেকে সাইনবোর্ড এবং ঢাকা-মাওয়া সড়কের যাত্রাবাড়ী থেকে পোস্তগোলাসহ বিভিন্ন এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশনে শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকেই গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস নিতে পারেননি অনেক চালক। গ্যাস না থাকার কারণে কিছু স্টেশনে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহও বন্ধ রাখা হয়েছে দিনের বেলা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-চটগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী থেকে সাইনবোর্ড- ইউনাইটেড সিএনজি স্টেশন, স্পিডবার্ড সিএনজি স্টেশন, টোটাল সিএনজি লিমিটেড, ডব্লিউ জেড  সিএনজি অ্যান্ড সার্ভিসিং, আসমা আলী সিএনজি ফুয়েলিং অ্যান্ড ওয়ার্কশপে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস এবং অটোরিকশার দীর্ঘ লাইন।

প্রত্যেকটি পাম্পে দেড়শ থেকে দুই শতাধিক গাড়ি গ্যাসের জন্য দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। প্রাইভেটকার চালক আল-আমিন জানান, আমি উত্তরায় গ্যাস না পেয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রায়েরবাগ ইউনাইটেড সিএনজি স্টেশনে এসেছি। এখানেও দীর্ঘ লাইন, এক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।

মাইক্রোবাস চালক জাকির হোসেন জানান, আমি উবারে গাড়ি চালাই। ঢাকা সিটির কোথাও গ্যাস নেই। সেই কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাতুয়াইল স্পিডবার্ড সিএনজি স্টেশনে এসেছি।  এখানে দুই ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষার পর মাত্র আড়াইশ টাকার গ্যাস পেয়েছি; যেখানে আগে সাত থেকে আটশ টাকার গ্যাস পেতাম।

অটোরিকশা চালক শুক্কুর আলী জানান, আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর ১২০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। আগে আড়াইশ থেকে তিনশ টাকার গ্যাস পেতাম।

সিএনজি স্টেশনের নজেলম্যান ফজলে রাব্বি বলেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় গত চার দিন ধরে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। 

ইউনাইটেড সিএনজি স্টেশনের ক্যাশিয়ার রাজু বলেন, বর্তমানে গ্যাসের চাপ খুবই কম।

চালকরা আরও জানান, স্বাভাবিক সময়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিটে গ্যাস নেওয়া গেলেও এখন দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি সংগ্রহে সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে যাত্রী পরিবহণ ও পণ্য সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাতুয়াইল এলাকার আসমা আলী সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষমাণ চালক মনির হোসেন বলেন, দুপুর ১২টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখন বিকাল ৩টা বাজে। মাত্র গ্যাস নিলাম। গ্যাসের চাপ কম থাকায় মাত্র ১৪০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। এটা দিয়ে কতক্ষণই বা চালানো যাবে!

এদিকে শ্যামপুর এলাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সংকটের কারণে সৃষ্টি হয়েছে চরম ভোগান্তি। গ্যাসের স্বল্পচাপ ও সরবরাহ সংকটের কারণে ফিলিং স্টেশনের সামনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের দাবি, গ্যাস নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের লাইন প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এতে প্রধান সড়কের একটি বড় অংশ দখল হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, অফিসগামী মানুষ এবং অন্যান্য যানবাহনের চালকরা।

গাড়িচালকরা যুগান্তরকে জানান, চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করার পরও অনেকেই গ্যাস পাননি। আবার কেউ কেউ গ্যাস পেলেও স্বল্পচাপের কারণে নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় অন্তত ১৫০ থেকে ২০০ টাকার সমপরিমাণ গ্যাস কম পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, এ পরিস্থিতিতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয় ও চালকদের দাবি, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় এ সংকট আরও তীব্র হয়ে জনদুর্ভোগ বাড়তে পারে।

এদিকে রান্নার চুলায়ও গ্যাস না থাকায় শনিরআখড়া, জুরাইন, পলাশপুর, স্মৃতিধারা এলাকায় হাহাকার বিরাজ করছে। রান্না করতে না পারায় বাসাবাড়িতে খাবারের সংকট চলছে। অনেকে বিকল্প হিসেবে শুকনো খাবার, কেউবা হোটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।  

পলাশপুর এলাকার বাসিন্দা আমজাদ শিকদার বলেন, গত এক বছর যাবৎ গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। কখনো রাত ১২টার পর, কখনো ভোররাতে গ্যাস আসত; চার-পাঁচ দিন ধরে তাও আসে না। এতে খাবার গ্রহণে চরম অনিয়ম হচ্ছে। 

স্মৃতিধারা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, আমাদের এলাকায় গত এক বছর ধরে গ্যাস সংকট। আজ কয়েক দিন ধরে মোটেও গ্যাস নেই। হোটেলের রান্না করা খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছি।


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন, চালকদের ভোগান্তি
0:00 0:00
1.0x