মুসলিম উদ্দিন:
কক্সবাজারের উখিয়ায় এক ফেরিওয়ালাকে অপহরণের পর ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অজ্ঞাতনামা একটি চক্র। নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডির পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের তৎপরতা টের পেয়ে অপহরণকারীরা তাকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার তারাপুর শুক্তাপাড়া এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টেকনিক্যাল স্কুলের সামনে থেকে একটি হাইস মাইক্রোবাসে তুলে ইব্রাহিমকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৬'র শফিউল্লাহকাটা এলাকায় নিয়ে যায় অপহরণকারীরা।
অপহরণের পর ইব্রাহিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বর থেকে তার বড় ভাই আব্দুল হালিমের মোবাইল ফোনে কল করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বিষয়টি জানার পর ইব্রাহিমের চাচাতো ভাই মো. শরীফ উখিয়া থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন।
জিডির সূত্র ধরে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান মজুমদারের নির্দেশনায় ভিকটিমকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে কিলো ও মোবাইল ডিউটিতে নিয়োজিত এসআই (নিরস্ত্র) উনুমং মারমা ও এএসআই (নিরস্ত্র) দেলোয়ার হোসেনসহ পুলিশের একটি দল দিনভর সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে।
একপর্যায়ে পুলিশের তৎপরতা টের পেয়ে অপহরণকারীরা ইব্রাহিমকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পালংখালী ইউনিয়নের মোছারখোলা এলাকা থেকে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় কোনো মুক্তিপণ দিতে হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, "নিখোঁজ জিডির পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করা হয়। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের কারণে অপহরণকারীরা তাকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।"
তিনি আরও জানান, অপহরণের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।