Cox News

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরও চলছে চাঁদাবাজি!


প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরও চলছে চাঁদাবাজি!
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পুরোনো ছবি। (সংগৃহীত)

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের বি ব্লকের হেড মাঝি এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ঘর নির্মাণ ও বরাদ্দে অর্থ আদায়, বিচার-সালিশে টাকা নেওয়া এবং সাধারণ রোহিঙ্গাদের হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ক্যাম্পের একাধিক বাসিন্দা। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে অন্তত ২০টির বেশি লিখিত অভিযোগ ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) কার্যালয় এবং ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বাসিন্দাদের ভাষ্য, এর আগে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনায়েত উল্লাহকে মাঝির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি পুনরায় দায়িত্বে ফিরে আসেন। এরপর আবারও বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, নতুন ঘর নির্মাণ, পুরোনো ঘর সংস্কার কিংবা বসবাসসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে সহায়তার জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। কেউ ঘর নির্মাণ করতে চাইলে প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পাহাড়ধসসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন, সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তি, বিচার-সালিশ এবং বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেন একাধিক বাসিন্দা।

কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের নাম বিভিন্ন তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ভয় দেখানো হয় অথবা প্রশাসনিক কাজে অযথা বিলম্ব করা হয়। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সনজিদা ও মরিয়ম খাতুন নামে দুই রোহিঙ্গা নারী ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের ক্যাম্প ইনচার্জের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে তারা সিআইসি কার্যালয়ের এক ডকুমেন্টেশন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরির সুপারিশের নামে অর্থ দাবি, প্রশাসনিক সেবা দিতে ঘুষ নেওয়া এবং হেড মাঝির সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ করেন। আবেদনকারীরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টেশন কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

হেড মাঝি এনায়েত উল্লাহ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কোনো ধরনের অবৈধ অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত নই।

ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) রিন্টু বিকাশ চাকমা বলেন, আমার কাছে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে, তাহলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, সাধারণ রোহিঙ্গাদের হয়রানি বন্ধ এবং ক্যাম্পে জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিষয় : কক্সবাজার সারাদেশ

Cox News

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরও চলছে চাঁদাবাজি!

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের বি ব্লকের হেড মাঝি এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ঘর নির্মাণ ও বরাদ্দে অর্থ আদায়, বিচার-সালিশে টাকা নেওয়া এবং সাধারণ রোহিঙ্গাদের হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ক্যাম্পের একাধিক বাসিন্দা। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে অন্তত ২০টির বেশি লিখিত অভিযোগ ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) কার্যালয় এবং ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বাসিন্দাদের ভাষ্য, এর আগে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনায়েত উল্লাহকে মাঝির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি পুনরায় দায়িত্বে ফিরে আসেন। এরপর আবারও বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, নতুন ঘর নির্মাণ, পুরোনো ঘর সংস্কার কিংবা বসবাসসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে সহায়তার জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। কেউ ঘর নির্মাণ করতে চাইলে প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পাহাড়ধসসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন, সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তি, বিচার-সালিশ এবং বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেন একাধিক বাসিন্দা।

কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের নাম বিভিন্ন তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ভয় দেখানো হয় অথবা প্রশাসনিক কাজে অযথা বিলম্ব করা হয়। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সনজিদা ও মরিয়ম খাতুন নামে দুই রোহিঙ্গা নারী ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের ক্যাম্প ইনচার্জের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে তারা সিআইসি কার্যালয়ের এক ডকুমেন্টেশন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরির সুপারিশের নামে অর্থ দাবি, প্রশাসনিক সেবা দিতে ঘুষ নেওয়া এবং হেড মাঝির সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ করেন। আবেদনকারীরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টেশন কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

হেড মাঝি এনায়েত উল্লাহ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কোনো ধরনের অবৈধ অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত নই।

ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) রিন্টু বিকাশ চাকমা বলেন, আমার কাছে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে, তাহলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, সাধারণ রোহিঙ্গাদের হয়রানি বন্ধ এবং ক্যাম্পে জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরও চলছে চাঁদাবাজি!
0:00 0:00
1.0x