Cox News

হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এনসিপির মামলা


প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এনসিপির মামলা
হবিগঞ্জের বহুবল থানার কামাইছাড়া পুলিশ ফাড়িতে, হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার ও এনসিপি নেতৃবৃন্দ। ছবি: আজকের পত্রিকা

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ বুধবার রাত ৯টার দিকে এনসিপির ছাত্র সংগঠন জেলা ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল বাদী হয়ে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া ফাঁড়িতে মামলাটি দায়ের করেন।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ অভিযোগ গ্রহণ করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, দক্ষিণাঞ্চল মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মাহমুদা মিতু এমপি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ ও জেলা শহরে এনসিপির কর্মসূচি ছিল। এতে এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউছ এমপিসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের কটাক্ষ করে বক্তব্য দেন।

সন্ধ্যায় জেলা শহরের সমাবেশ শেষ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে কোর্ট মসজিদের সামনে পৌঁছালে তাঁদের গাড়িবহরে একদল যুবক হামলা চালায়। এ সময় গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে সারজিস আলমসহ নেতাকর্মীরা সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় আশ্রয় নেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সারজিস আলম অভিযোগ করেন, ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা করেছে। এতে তিনিসহ অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে রাত ১১টায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমকে মৌলভীবাজারে পাঠায়।

ঘটনার পর রাতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আজ হবিগঞ্জে বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষণা দেয় এনসিপি। একই সঙ্গে জেলা ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলও পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে। এ অবস্থায় আজ সকালে জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এতে ৫ জনের বেশি মানুষ একসঙ্গে জড়ো হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

এর মধ্যেই মৌলভীবাজারে দলীয় কর্মসূচি শেষে আজ বিকেলে নাহিদ ইসলাম এমপি, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চল মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন। প্রথমে শ্রীমঙ্গলের মুছাই এলাকায় পুলিশ তাঁদের গাড়িবহর আটকে দেয়। পরে দীর্ঘক্ষণ ধস্তাধস্তি ও বাগ্‌বিতণ্ডার পর তাঁরা সে স্থান অতিক্রম করেন।

এরপর বাহুবল উপজেলার রশিদপুর এলাকায় তাঁদের আবারও আটকে দেওয়া হয়। সেখানে ফের পুলিশ ও এনসিপি নেতাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একটি ভিডিওতে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের মৌলভীবাজারে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিতে শোনা যায়। তবে এনসিপি নেতারা হবিগঞ্জে পৌঁছানোর দাবিতে অনড় ছিলেন।

একপর্যায়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ হস্তক্ষেপ করেন। পরে দীর্ঘ আলোচনার পর এনসিপি নেতারা কামাইছড়া ফাঁড়িতে মামলা করতে রাজি হন। এরপর তাদের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে যায়।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতেই এনসিপির নেতাদের হবিগঞ্জে প্রবেশে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান বিএনপি সরকার ফ্যাসিবাদীদের মতো আচরণ করছে। তাঁরা দমনপীড়ন করে বাক্‌স্বাধীনতা হরণ করতে চায়। আমরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমরা চাই দ্রুত যেন অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হয়।’

বিষয় : হবিগঞ্জ মামলা এনসিপি ছাত্রদল সারজিস আলম ১৪৪ ধারা

Cox News

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬


হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এনসিপির মামলা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ বুধবার রাত ৯টার দিকে এনসিপির ছাত্র সংগঠন জেলা ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল বাদী হয়ে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া ফাঁড়িতে মামলাটি দায়ের করেন।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ অভিযোগ গ্রহণ করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, দক্ষিণাঞ্চল মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মাহমুদা মিতু এমপি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ ও জেলা শহরে এনসিপির কর্মসূচি ছিল। এতে এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউছ এমপিসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের কটাক্ষ করে বক্তব্য দেন।

সন্ধ্যায় জেলা শহরের সমাবেশ শেষ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে কোর্ট মসজিদের সামনে পৌঁছালে তাঁদের গাড়িবহরে একদল যুবক হামলা চালায়। এ সময় গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে সারজিস আলমসহ নেতাকর্মীরা সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় আশ্রয় নেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সারজিস আলম অভিযোগ করেন, ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা করেছে। এতে তিনিসহ অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে রাত ১১টায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমকে মৌলভীবাজারে পাঠায়।

ঘটনার পর রাতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আজ হবিগঞ্জে বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষণা দেয় এনসিপি। একই সঙ্গে জেলা ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলও পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে। এ অবস্থায় আজ সকালে জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এতে ৫ জনের বেশি মানুষ একসঙ্গে জড়ো হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

এর মধ্যেই মৌলভীবাজারে দলীয় কর্মসূচি শেষে আজ বিকেলে নাহিদ ইসলাম এমপি, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চল মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন। প্রথমে শ্রীমঙ্গলের মুছাই এলাকায় পুলিশ তাঁদের গাড়িবহর আটকে দেয়। পরে দীর্ঘক্ষণ ধস্তাধস্তি ও বাগ্‌বিতণ্ডার পর তাঁরা সে স্থান অতিক্রম করেন।

এরপর বাহুবল উপজেলার রশিদপুর এলাকায় তাঁদের আবারও আটকে দেওয়া হয়। সেখানে ফের পুলিশ ও এনসিপি নেতাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একটি ভিডিওতে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের মৌলভীবাজারে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিতে শোনা যায়। তবে এনসিপি নেতারা হবিগঞ্জে পৌঁছানোর দাবিতে অনড় ছিলেন।

একপর্যায়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ হস্তক্ষেপ করেন। পরে দীর্ঘ আলোচনার পর এনসিপি নেতারা কামাইছড়া ফাঁড়িতে মামলা করতে রাজি হন। এরপর তাদের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে যায়।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতেই এনসিপির নেতাদের হবিগঞ্জে প্রবেশে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান বিএনপি সরকার ফ্যাসিবাদীদের মতো আচরণ করছে। তাঁরা দমনপীড়ন করে বাক্‌স্বাধীনতা হরণ করতে চায়। আমরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমরা চাই দ্রুত যেন অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হয়।’


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এনসিপির মামলা
0:00 0:00
1.0x