Cox News

প্রতি ছয় দম্পতির একজন বন্ধ্যাত্বে ভুগছেন


প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

প্রতি ছয় দম্পতির একজন বন্ধ্যাত্বে ভুগছেন

দেশে কত সংখ্যক বিবাহিত দম্পতি বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় ভুগছেন তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানে নেই। ভ্রুণতত্ত্ববিদ চিকিৎসকদের সেবাদান অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতি ছয়জন দম্পতির একজন বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় ভুগছেন। তবে আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে চিকিৎসা গ্রহণের প্রবণতা। সন্তান ধারণে সমস্যায় পড়া অধিকাংশ দম্পতিই এখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন, আধুনিক চিকিৎসা গ্রহণে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

বিশ্ব আইভিএফ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর লুমিনা আইভিএফ সেন্টার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন ভ্রুণতত্ত্ববিদ চিকিৎসকরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রিপ্রোডাক্টিভ অ্যান্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফ্লোরিডা রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুক্তি রানী সাহা, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ (গাইনি অ্যান্ড অবস) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. উম্মে তাহমিনা সীমা, শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নাফিসা জেসমিন। লুমিনা আইভিএফ অ্যান্ড ফার্টিলিটি কেয়ারের চিফ এমব্রোয়লজিস্ট মো. মাসরুদ হোসাইন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ভ্রুণতত্ত্ববিদ ও গাইনি বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশে চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বন্ধ্যাত্বসেবা সম্প্রসারিত হয়নি। অধিকাংশ রোগীকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে তিনটি আইভিএফ সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্য দুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রিপ্রোডাক্টিভ অ্যান্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি বিভাগ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে। এছাড়া ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) একটি সরকারি আইভিএফ সেন্টার রয়েছে, যা মূলত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সরকারি কেন্দ্রগুলোর বাইরে দেশে প্রায় ২২টি বেসরকারি আইভিএফ সেন্টার রয়েছে যার অধিকাংশই রাজধানীকেন্দ্রিক। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে দুটি, মৌলভীবাজারে একটি এবং খুলনায় একটি কেন্দ্র রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বিষয়ে ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) থেকে তিন বছর মেয়াদি রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি (আরই-এফসিপিএস) এবং এমএস ডিগ্রিধারী বিশেষজ্ঞ বর্তমানে প্রায় ৭০ জন রয়েছেন। এছাড়া স্বল্পমেয়াদি দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আরও অনেক চিকিৎসক আইভিএফ সেবার সঙ্গে যুক্ত আছেন। বর্তমানে বিভিন্ন আইভিএফ সেন্টারে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন চিকিৎসক আইভিএফ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

লুমিনা আইভিএফ লিমিটেডের চিফ এমব্রায়োলজিস্ট মাসুদ বলেন, আইভিএফ চিকিৎসার সফলতা একটি সমন্বিত টিমওয়ার্কের ফল, যেখানে চিকিৎসক, অ্যামব্রায়োলজিস্ট, অ্যান্ড্রোলজিস্ট, নার্স ও কাউন্সেলর একসঙ্গে কাজ করেন। বাংলাদেশের আইভিএফ চিকিৎসা এখন বিশ্বমানের পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং আধুনিক সব ধরনের সেবা দেশে পাওয়া যাচ্ছে। সঠিক সময়ে সঠিক রোগ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।

Cox News

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬


প্রতি ছয় দম্পতির একজন বন্ধ্যাত্বে ভুগছেন

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশে কত সংখ্যক বিবাহিত দম্পতি বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় ভুগছেন তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানে নেই। ভ্রুণতত্ত্ববিদ চিকিৎসকদের সেবাদান অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতি ছয়জন দম্পতির একজন বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় ভুগছেন। তবে আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে চিকিৎসা গ্রহণের প্রবণতা। সন্তান ধারণে সমস্যায় পড়া অধিকাংশ দম্পতিই এখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন, আধুনিক চিকিৎসা গ্রহণে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

বিশ্ব আইভিএফ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর লুমিনা আইভিএফ সেন্টার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন ভ্রুণতত্ত্ববিদ চিকিৎসকরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রিপ্রোডাক্টিভ অ্যান্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফ্লোরিডা রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুক্তি রানী সাহা, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ (গাইনি অ্যান্ড অবস) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. উম্মে তাহমিনা সীমা, শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নাফিসা জেসমিন। লুমিনা আইভিএফ অ্যান্ড ফার্টিলিটি কেয়ারের চিফ এমব্রোয়লজিস্ট মো. মাসরুদ হোসাইন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ভ্রুণতত্ত্ববিদ ও গাইনি বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশে চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বন্ধ্যাত্বসেবা সম্প্রসারিত হয়নি। অধিকাংশ রোগীকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে তিনটি আইভিএফ সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্য দুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রিপ্রোডাক্টিভ অ্যান্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি বিভাগ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে। এছাড়া ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) একটি সরকারি আইভিএফ সেন্টার রয়েছে, যা মূলত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সরকারি কেন্দ্রগুলোর বাইরে দেশে প্রায় ২২টি বেসরকারি আইভিএফ সেন্টার রয়েছে যার অধিকাংশই রাজধানীকেন্দ্রিক। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে দুটি, মৌলভীবাজারে একটি এবং খুলনায় একটি কেন্দ্র রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বিষয়ে ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) থেকে তিন বছর মেয়াদি রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি (আরই-এফসিপিএস) এবং এমএস ডিগ্রিধারী বিশেষজ্ঞ বর্তমানে প্রায় ৭০ জন রয়েছেন। এছাড়া স্বল্পমেয়াদি দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আরও অনেক চিকিৎসক আইভিএফ সেবার সঙ্গে যুক্ত আছেন। বর্তমানে বিভিন্ন আইভিএফ সেন্টারে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন চিকিৎসক আইভিএফ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

লুমিনা আইভিএফ লিমিটেডের চিফ এমব্রায়োলজিস্ট মাসুদ বলেন, আইভিএফ চিকিৎসার সফলতা একটি সমন্বিত টিমওয়ার্কের ফল, যেখানে চিকিৎসক, অ্যামব্রায়োলজিস্ট, অ্যান্ড্রোলজিস্ট, নার্স ও কাউন্সেলর একসঙ্গে কাজ করেন। বাংলাদেশের আইভিএফ চিকিৎসা এখন বিশ্বমানের পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং আধুনিক সব ধরনের সেবা দেশে পাওয়া যাচ্ছে। সঠিক সময়ে সঠিক রোগ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রতি ছয় দম্পতির একজন বন্ধ্যাত্বে ভুগছেন
0:00 0:00
1.0x