বাবার চোখের সামনেই হাওড়ের গভীর পানিতে তলিয়ে যাচ্ছিল আদরের মেয়ে। বুকের ধনকে বাঁচাতে নিজের জীবনের মায়া তুচ্ছ করে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন বাবা বাছির উদ্দিন মিলন।
প্রবল স্রোতের সঙ্গে যুদ্ধ করে মেয়েকে নিরাপদে অন্যের হাতে তুলে দিতে পারলেও নিজে আর তীরে ফিরতে পারেননি। প্রিয় সন্তানকে নতুন জীবন দিয়ে প্রাণ দিলেন বাবা।
শুক্রবার কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওড়ে ভ্রমণে গিয়ে এভাবেই মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হয়েছে একটি পরিবার। মুহূর্তেই শোকের ছায়ায় ঢাকা পড়ে আনন্দ ভ্রমণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাছির উদ্দিন মিলন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার গাইটাল পেট্রোল পাম্প এলাকার মো. আবু বক্কর মাস্টারের ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ফিজিওথেরাপিস্ট হিসাবে কাজ করতেন। ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাওড় পর্যটন এলাকায় নৌকা ভ্রমণে বের হয়েছিলেন। পড়ন্ত বিকালে করিমগঞ্জের বালিখলা হাওড়ের পাশে মিঠামইন উপজেলার হাসানপুর সেতু এলাকায় যান তারা। সেখানে একটি ডুবুডুবু সড়কের পাশে নৌকা ভিড়িয়ে তারা গোসল করতে নামেন।
এ সময় হঠাৎ পা পিছলে গভীর পানিতে পড়ে যায় তার মেজ মেয়ে শেমন্তী আক্তার। কোনো দ্বিধা না করে মেয়েকে বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপ দেন বাবা বাছির। প্রাণপণ চেষ্টায় মেয়েকে সড়কে অন্যের হাতে নিরাপদে তুলে দিতে সক্ষম হলেও তীব্র স্রোতের কারণে নিজে আর উঠতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যে তিনি পানিতে তলিয়ে যান। পরে আশপাশের লোকজন ছোট ছোট নৌকা নিয়ে এগিয়ে এসে দীর্ঘ তল্লাাশি চালিয়ে তার লাশ উদ্ধার করেন।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বলেন, মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে বাছির উদ্দিন হাওড়ের পানিতে তলিয়ে মারা যান। পরে স্থানীয়রা তার লাশ উদ্ধার করে। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ সার্কিট হাউজের সামনে জানাজা শেষে তার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।