নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের উখিয়ায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) উত্তরণের কর্মী আফরোজা নারগীস ও তার ছেলের বিরুদ্ধে চুরি, প্রতারণা, অর্থ দাবি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী এক যুবক শেষ পর্যন্ত মা-ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে চুরির মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উখিয়ায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন আফরোজা নারগীস। তার অনার্সপড়ুয়া এক ছেলে রয়েছে। ভুক্তভোগী যুবকের অভিযোগ, ছেলের বিষয়টি গোপন রেখে তাকে বিয়ের সম্পর্কে জড়ানো হয়। পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টি ও তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একদিন ওই যুবক বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পর বাসায় থাকা একটি মোটরসাইকেল, নগদ টাকা ও বিভিন্ন মালামাল নিয়ে আফরোজার ছেলে ঢাকায় পালিয়ে যান। এসব মালামাল ফেরত চাইলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে দাবি ভুক্তভোগীর।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মালামাল ফেরত চাওয়ার পর আফরোজা নারগীস উল্টো তাকে নারী নির্যাতনের মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন। একই সঙ্গে তার ছেলেকে আরও ১৬ লাখ টাকা দিতে হবে বলেও দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ‘কারাগারে ভাত খাওয়ানোর’ হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ওই যুবক। এর আগেও বিভিন্নভাবে তার কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তার দাবি।
অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনায় এসব কিছুতে এনজিও উত্তরণের কর্মরত আফরোজা নারগীসকে উস্কানি দেন এনজিও উত্তরণে কর্মরত থাকা আরো বেশ কিছু কর্মচারী। আরো অভিযোগ রয়েছে, এনজিও উত্তরণের কর্মরত একজন ছেলে কর্মচারী কোন এক অদৃশ্য কারণে আফরোজা নারগীসকে এসব করতে সহযোগিতা করে থাকেন৷ তবে এসবে এনজিও উত্তরণের সেই কর্মচারী ছেলের কি উদ্দেশ্য তা নিয়ে বেশ সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
এ ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এসব কর্মকান্ডে স্থানীয়রাও এখন আতঙ্কে। মোহাম্মদ রাসেল খাঁন নামে একজন স্থানীয় বলেন, উড়ে এসে জুড়ে বসা এসব এনজিও কর্মচারীদের কারণে এখন স্থানীয়রাও আতঙ্কে। মা-ছেলে ও এনজিও উত্তরণের এসব কর্মচারীদের সিন্ডিকেটের কারণে এলাকায় যেমন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে ঠিক তেমনি চুরির আতঙ্কও বেড়ে যাচ্ছে। আজকে এসব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেই যুবকের সব চুরি করে নিয়ে গেলো কিন্তু কাল আমাদের থেকে চুরি করে পালাবে না তার কি গ্যারান্টি।
ভুক্তভোগী যুবকের দাবি, বারবার নিজের মোটরসাইকেল, টাকা ও অন্যান্য মালামাল ফেরত চেয়েও কোনো সমাধান পাননি। উল্টো ১৬ লাখ টাকা দাবি এবং বিভিন্ন মাধ্যমে হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়েছেন।
শেষ পর্যন্ত আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন এবং আফরোজা নারগীস ও তার ছেলের বিরুদ্ধে চুরির মামলা দায়ের করেন।