সড়ক দখল করে দোকানপাট-যানবাহন, প্রশ্নের মুখে বাজার কমিটি ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা
জিসেন বড়ুয়া:
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় সড়কের ওপর ও দুই পাশে যত্রতত্র বাজার বসানোর কারণে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। ব্যস্ত সড়কের বড় একটি অংশ দখল করে দোকানপাট, পণ্যবাহী যানবাহন ও বিভিন্ন গণপরিবহন দাঁড়িয়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুতুপালংয়ের ব্যস্ত সড়কের ওপরই পণ্যবাহী গাড়ি, টমটম, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহন দাঁড়িয়ে রয়েছে। এর পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে বসানো হয়েছে বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট। ফলে যান চলাচলের জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সামান্য যানবাহনের চাপ বাড়লেই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও কার্যকরভাবে তা নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। সড়ক দখল করে বাজার বসানো ও যানবাহন রাখার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে থাকলেও কেন স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না—এ নিয়ে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে বাজার পরিচালনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। প্রতিদিনের এই দুর্ভোগের বিষয়টি তাদের নজরে থাকার পরও সড়কটি যানজটমুক্ত রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা কেন নেওয়া হচ্ছে না—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সড়ক কি মানুষের চলাচলের জন্য, নাকি সড়কের ওপর বাজার বসানোর জন্য? প্রতিদিন হাজারো মানুষকে যানজটে আটকে রেখে এভাবে বাজার পরিচালনার দায়ভার শেষ পর্যন্ত কার?
আরও বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে জরুরি পরিস্থিতি নিয়ে। যানজটের কারণে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যানবাহন আটকে গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে। তখন এর দায় কে নেবে—এ প্রশ্নও তুলছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সড়কের ওপর থেকে দোকানপাট ও অবৈধভাবে রাখা যানবাহন সরিয়ে যান চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে সড়ক দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসন, বাজার কমিটি ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিত্যদিনের এই যানজট ও সড়ক দখলের অবসান হবে কবে—এখন সেটিই কুতুপালংবাসীর প্রশ্ন।