Cox News

সংবাদ সম্মেলন করেও শেষ রক্ষা হলো না 'দাঁতভাঙ্গা' ইদ্রিসের! উখিয়া থানায় মামলা


প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সংবাদ সম্মেলন করেও শেষ রক্ষা হলো না 'দাঁতভাঙ্গা' ইদ্রিসের! উখিয়া থানায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সংবাদ সম্মেলন করে ধোয়া তুলসী পাতা সাজতে চাইলেও শেষ রক্ষা হলো না উখিয়ার বিতর্কিত বিএনপি নেতা "দাঁতভাঙ্গা" ইদ্রিস ওরফে ইদ্রিস মিয়ার। বসতভিটার জমি দখল, তাণ্ডব, নারীদের শ্লীলতাহানি ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সরাসরি মামলা রুজু হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অপরাধের থলে টান পড়তে শুরু করেছে। সাংবাদিকের বসতভিটা দখল, চাঁদাবাজি এবং বেপরোয়া জমি দখলের অভিযোগে বর্তমানে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন হলদিয়াপালং ইউনিয়ন দক্ষিণ শাখা বিএনপির সদস্য সচিব পদে থাকা এই নেতা।

অভিযোগের নথিপত্র ও ​অনুসন্ধানে জানা যায়, ইদ্রিস মিয়ার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক এই শ্লীলতাহানি ও হত্যাচেষ্টার মামলার বাইরেও রয়েছে নানা অনিয়ম ও দখলের লম্বা তালিকা। তার অন্যতম শিকার স্থানীয় সাংবাদিক মিজবাহ আজাদ ও তার পরিবার। এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে সাংবাদিক মিজবাহ আজাদ বলেন, "সংবাদকর্মী হয়েও আমি ইদ্রিসের বেপরোয়া জমি দখল ও সন্ত্রাসী তাণ্ডবের হাত থেকে রেহাই পাইনি। আমার বসতভিটা দখলের মতো দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার পর আমি আইনি প্রতিকার চেয়ে উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জেলা পুলিশ সুপারসহ (এসপি) প্রশাসনের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এর কোনো সুরাহা মেলেনি।"

​তিনি আরও অভিযোগ করেন, "সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে যে ব্যক্তি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সাংবাদিকদের ভিটেমাটি কাড়তে দ্বিধা করে না, তার বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে আমি দলীয় প্রধানদের দরজাতেও গিয়েছি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদসহ একাধিক শীর্ষ নেতার দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আমি কোনো ন্যায়বিচার পাইনি। ফলে ইদ্রিস আরও বেপরোয়া হয়ে একের পর এক তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।"

​সর্বশেষ, উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রুমাখা বড়বিল (পঞ্জেখানা) এলাকার ছেনুয়ারা বেগম বাদী হয়ে উখিয়া থানায় একটি হত্যাচেষ্টা ও শ্লীলতাহানির মামলা দায়ের করেন। মামলায় ইদ্রিস মিয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রবাসী ভাইয়ের জমি জবরদখল, নির্মাণাধীন বসতঘর ভাঙচুর করে ৮০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন, হামলা চালিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত করা এবং নারীদের ওপর হামলা চালিয়ে পরিহিত জামাকাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হয়েছে।

​ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ইদ্রিস মিয়া সংবাদ সম্মেলন করে দায় এড়ানোর অপকৌশল নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ভুক্তভোগীদের সুস্পষ্ট এজাহারে উখিয়া থানায় (মামলা নং- ৪৪/২০২৬) রেকর্ড করে।

​সাংবাদিকের জায়গা দখল ও দলীয় পরিচয় ভাঙিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে উখিয়া উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জমি দখল ও চাঁদাবাজির এসব গুরুতর অভিযোগ এবং সদ্য দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ইদ্রিস মিয়ার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

​উখিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রধান আসামিসহ সম্পৃক্ত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Cox News

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সংবাদ সম্মেলন করেও শেষ রক্ষা হলো না 'দাঁতভাঙ্গা' ইদ্রিসের! উখিয়া থানায় মামলা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সংবাদ সম্মেলন করে ধোয়া তুলসী পাতা সাজতে চাইলেও শেষ রক্ষা হলো না উখিয়ার বিতর্কিত বিএনপি নেতা "দাঁতভাঙ্গা" ইদ্রিস ওরফে ইদ্রিস মিয়ার। বসতভিটার জমি দখল, তাণ্ডব, নারীদের শ্লীলতাহানি ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সরাসরি মামলা রুজু হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অপরাধের থলে টান পড়তে শুরু করেছে। সাংবাদিকের বসতভিটা দখল, চাঁদাবাজি এবং বেপরোয়া জমি দখলের অভিযোগে বর্তমানে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন হলদিয়াপালং ইউনিয়ন দক্ষিণ শাখা বিএনপির সদস্য সচিব পদে থাকা এই নেতা।


অভিযোগের নথিপত্র ও ​অনুসন্ধানে জানা যায়, ইদ্রিস মিয়ার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক এই শ্লীলতাহানি ও হত্যাচেষ্টার মামলার বাইরেও রয়েছে নানা অনিয়ম ও দখলের লম্বা তালিকা। তার অন্যতম শিকার স্থানীয় সাংবাদিক মিজবাহ আজাদ ও তার পরিবার। এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে সাংবাদিক মিজবাহ আজাদ বলেন, "সংবাদকর্মী হয়েও আমি ইদ্রিসের বেপরোয়া জমি দখল ও সন্ত্রাসী তাণ্ডবের হাত থেকে রেহাই পাইনি। আমার বসতভিটা দখলের মতো দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার পর আমি আইনি প্রতিকার চেয়ে উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জেলা পুলিশ সুপারসহ (এসপি) প্রশাসনের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এর কোনো সুরাহা মেলেনি।"


​তিনি আরও অভিযোগ করেন, "সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে যে ব্যক্তি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সাংবাদিকদের ভিটেমাটি কাড়তে দ্বিধা করে না, তার বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে আমি দলীয় প্রধানদের দরজাতেও গিয়েছি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদসহ একাধিক শীর্ষ নেতার দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আমি কোনো ন্যায়বিচার পাইনি। ফলে ইদ্রিস আরও বেপরোয়া হয়ে একের পর এক তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।"


​সর্বশেষ, উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রুমাখা বড়বিল (পঞ্জেখানা) এলাকার ছেনুয়ারা বেগম বাদী হয়ে উখিয়া থানায় একটি হত্যাচেষ্টা ও শ্লীলতাহানির মামলা দায়ের করেন। মামলায় ইদ্রিস মিয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রবাসী ভাইয়ের জমি জবরদখল, নির্মাণাধীন বসতঘর ভাঙচুর করে ৮০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন, হামলা চালিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত করা এবং নারীদের ওপর হামলা চালিয়ে পরিহিত জামাকাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হয়েছে।


​ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ইদ্রিস মিয়া সংবাদ সম্মেলন করে দায় এড়ানোর অপকৌশল নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ভুক্তভোগীদের সুস্পষ্ট এজাহারে উখিয়া থানায় (মামলা নং- ৪৪/২০২৬) রেকর্ড করে।


​সাংবাদিকের জায়গা দখল ও দলীয় পরিচয় ভাঙিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে উখিয়া উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জমি দখল ও চাঁদাবাজির এসব গুরুতর অভিযোগ এবং সদ্য দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ইদ্রিস মিয়ার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।


​উখিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রধান আসামিসহ সম্পৃক্ত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সংবাদ সম্মেলন করেও শেষ রক্ষা হলো না 'দাঁতভাঙ্গা' ইদ্রিসের! উখিয়া থানায় মামলা
0:00 0:00
1.0x