Cox News

গণধর্ষণের গুজবে মব সৃষ্টি করে বিক্রয় প্রতিনিধিকে মারধর


প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

গণধর্ষণের গুজবে মব সৃষ্টি করে বিক্রয় প্রতিনিধিকে মারধর
প্রতীকী ছবি

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে যায় এক মাদ্রাসা ছাত্রী (১৪)। পাঁচ দিন পর খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে। এদিকে ওই ছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এমন গুজবের রেশ ধরে আজ সোমবার মবের শিকার হন জয় কুন্ডু নামে বেসরকারি কোম্পানির এক বিক্রয় প্রতিনিধি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। 

পুলিশ জানিয়েছে, আটক হওয়া জয় কুন্ডু ষড়যন্ত্রের শিকার এবং প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা গ্রামের বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি সাজ্জাদ আলম (২৮) আলফাডাঙ্গা ইউসুফেরবাগ মাদ্রাসার এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এর জের ধরে গত ২৩ জুলাই রাতে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান ওই ছাত্রী। এ ঘটনায় পরদিন ছাত্রীর মা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। 

গত ২৭ জুলাই সাজ্জাদের বোনের কাছ থেকে খবর পেয়ে ছাত্রীর পরিবার তাকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে এবং বর্তমানে ছাত্রী তার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে। পরে এ বিষয়ে থানায় আর কোনো অভিযোগ করেনি ছাত্রীর পরিবার। 

এদিকে সোমবার গুনবহা গ্রামের বাসিন্দা ও পৃথক একটি বেসরকারি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি জয় কুন্ডু ওই ছাত্রীর বাড়ির এলাকায় যান। একটি দোকানে নিজ কোম্পানির পণ্যের অর্ডার কাটতে গেলে জয়কে এলাকাবাসী আটক করে মব সৃষ্টি করে তাঁকে মারধর করে। এ সময় মাদ্রাসা ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের গুজব ছড়ানো হয়। পরে থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।  

মাদ্রাসা ছাত্রীর বাবা স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, তার মেয়ে প্রেমের সম্পর্কের জেরে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল। এ ঘটনায় তারা মামলা করতে চান না।  

এদিকে ঘটনা জানতে পেরে আলফাডাঙ্গায় ছুটে আসেন মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আজম খান। তিনি জানান, গণধর্ষণের যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে তা সঠিক নয়। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা মিলেছে যে, সাজ্জাদ আলম একাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ছাত্রীর পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেবে। 

আলফাডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল আমিন সমকালকে বলেন, মাদ্রাসা ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি পুরোপুরি গুজব। ওই ছাত্রী বর্তমানে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে। তার পরিবার থানায় অভিযোগ করে নাই। তারপরও পুলিশ তৎপর আছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় : ফরিদপুর গণধর্ষণ পিটুনি

Cox News

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬


গণধর্ষণের গুজবে মব সৃষ্টি করে বিক্রয় প্রতিনিধিকে মারধর

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে যায় এক মাদ্রাসা ছাত্রী (১৪)। পাঁচ দিন পর খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে। এদিকে ওই ছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এমন গুজবের রেশ ধরে আজ সোমবার মবের শিকার হন জয় কুন্ডু নামে বেসরকারি কোম্পানির এক বিক্রয় প্রতিনিধি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। 

পুলিশ জানিয়েছে, আটক হওয়া জয় কুন্ডু ষড়যন্ত্রের শিকার এবং প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা গ্রামের বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি সাজ্জাদ আলম (২৮) আলফাডাঙ্গা ইউসুফেরবাগ মাদ্রাসার এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এর জের ধরে গত ২৩ জুলাই রাতে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান ওই ছাত্রী। এ ঘটনায় পরদিন ছাত্রীর মা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। 

গত ২৭ জুলাই সাজ্জাদের বোনের কাছ থেকে খবর পেয়ে ছাত্রীর পরিবার তাকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে এবং বর্তমানে ছাত্রী তার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে। পরে এ বিষয়ে থানায় আর কোনো অভিযোগ করেনি ছাত্রীর পরিবার। 

এদিকে সোমবার গুনবহা গ্রামের বাসিন্দা ও পৃথক একটি বেসরকারি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি জয় কুন্ডু ওই ছাত্রীর বাড়ির এলাকায় যান। একটি দোকানে নিজ কোম্পানির পণ্যের অর্ডার কাটতে গেলে জয়কে এলাকাবাসী আটক করে মব সৃষ্টি করে তাঁকে মারধর করে। এ সময় মাদ্রাসা ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের গুজব ছড়ানো হয়। পরে থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।  

মাদ্রাসা ছাত্রীর বাবা স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, তার মেয়ে প্রেমের সম্পর্কের জেরে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল। এ ঘটনায় তারা মামলা করতে চান না।  

এদিকে ঘটনা জানতে পেরে আলফাডাঙ্গায় ছুটে আসেন মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আজম খান। তিনি জানান, গণধর্ষণের যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে তা সঠিক নয়। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা মিলেছে যে, সাজ্জাদ আলম একাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ছাত্রীর পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেবে। 

আলফাডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল আমিন সমকালকে বলেন, মাদ্রাসা ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি পুরোপুরি গুজব। ওই ছাত্রী বর্তমানে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে। তার পরিবার থানায় অভিযোগ করে নাই। তারপরও পুলিশ তৎপর আছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
গণধর্ষণের গুজবে মব সৃষ্টি করে বিক্রয় প্রতিনিধিকে মারধর
0:00 0:00
1.0x