মুক্তিপণ দিয়েও বাঁচাতে পারলেন না স্বামীকে
ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিনখাঁর হাটের ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকিরকে নৃশংসভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিখোঁজের পর একটি মোবাইল থেকে মুক্তিপণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয় ইউসুফ ফকিরের স্ত্রীর কাছে। কিন্তু মুক্তিপণ দিয়েও বাঁচাতে পারলেন না স্বামীকে।
গত ১৮ জুলাই ইউসুফের বাড়ির পাশের একটি পাটখেত থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি। ফলে নিহতের স্বজনসহ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের স্বজনরা জানান, গত ১৬ জুলাই মমিনখাঁর হাট থেকে সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশায় বাড়ির সামনে এসে নামেন ইউসুফ ফকির। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি নিখোঁজের অভিযোগ করা হয়। নিখোঁজের দুই দিন পর ১৮ জুলাই ভোরে বাড়ির পাশের একটি পাটখেত থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় ইউসুফকে উদ্ধার করা হয়। তার হাত ও পা বেঁধে রাখার পাশাপাশি মুখে বিষের আলামত দেখা যায়। সারা শরীরে ছিল জখমের চিহ্ন। এ সময় তিনি কোনো কথা বলতে না পারলেও বিষক্রিয়ায় প্রচণ্ডভাবে মুখ দিয়ে শব্দ করছিল। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী বেদেনা বেগম জানান, তার স্বামী নিখোঁজের পর একটি মোবাইল থেকে মুক্তিপণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। টাকা না দিলে তার স্বামীকে মেরে ফেলা হবে বলে জানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। তিনি ৩০ হাজার টাকা দেন; কিন্তু ঘাতকরা মুক্তিপণ নিয়ে আর কোনো কথা বলেনি।
তিনি বলেন, স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তান নিয়ে সে এখন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। যারা খুনের সঙ্গে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
নিহতের স্বজনরা জানান, মমিনখাঁর হাটের রাখি (মজুত) পণ্যের আড়তের ব্যবসা ছিল ইউসুফের। কারো সঙ্গে কখনই কোনো বিরোধ ছিল না তার। কী কারণে নৃশংসভাবে ইউসুফকে খুন করা হলো তার রহস্য বের করার পাশাপাশি খুনিদের ফাঁসির দাবি করেন তারা।
এলাকাবাসী জানান, ইউসুফ ফকিরকে আটকে রেখে মারধর করা হয়। তার সারা শরীরজুড়ে ছিল আঘাতের চিহ্ন। তাদের ধারণা, স্থানীয় কিংবা ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে ইউসুফকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়ে মুখে বিষ ঢেলে পাটখেতে ফেলে রেখে যায় ঘাতকরা।
ইউসুফ ফকিরকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় কেউ আটক না হওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যার বিচারের দাবিতে হয়েছে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ। মমিনখাঁর হাটের ব্যবসায়ীদের ব্যানারে মঙ্গলবার বিকালে বিক্ষোভ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে প্রশাসনের প্রতি ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে ইউসুফের খুনিদের গ্রেফতার করা না হলে বড় ধরনের আন্দোলনের কথা বলা হয়।
এ বিষয়ে রহস্য উদঘাটনে বেশ কয়েকটি ক্লু নিয়ে মাঠে নেমেছে পুলিশ। খুনিদের আটকে পুলিশ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ওসি তদন্ত সুকান্ত দত্ত। তিনি বলেন, ইউসুফ ফকির হত্যার ঘটনাটি তারা বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কয়েকটি বিষয় নিয়ে তারা কাজ করছে। অচিরেই খুনিরা ধরা পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।