Cox News

১১০ কেজি ওজনেও শৌভিককে দেওয়া হয় উড্ডয়নের অনুমতি


প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

১১০ কেজি ওজনেও শৌভিককে দেওয়া হয় উড্ডয়নের অনুমতি
ছবি: সংগৃহীত (ইনসেটে পর্যটক শৌভিক রায়)।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে খুলনার পর্যটক শৌভিক রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক অনুসন্ধানে একাধিক নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসনের দাবি, অনুমোদনহীন একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিকূল আবহাওয়ায় কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজনের যাত্রীকে উড্ডয়নের অনুমতি দেয় এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেনি।

জেলা প্রশাসন জানায়, ‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রতিকূল আবহাওয়ার সতর্কতা উপেক্ষা, উপযুক্ত লাইফ জ্যাকেট না দেওয়া, উদ্ধারকারী জেট স্কি বা রেসকিউ বোট প্রস্তুত না রাখা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বিধি অমান্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ২০২৫ সালের পর থেকে জেলার কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্যারাসেইলিং পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান সিয়াম বলেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটারের বেশি বেগে বাতাস প্রবাহিত হলে প্যারাসেইলিং বন্ধ রাখতে হয়। কিন্তু দুর্ঘটনার দিন কক্সবাজারে বাতাসের গতি ছিল প্রায় ৪০ কিলোমিটার। এ অবস্থাতেও পর্যটকদের নিয়ে উড্ডয়ন চালানো হয়।

তিনি আরও জানান, প্যারাসেইলিংয়ের জন্য সাধারণত সর্বোচ্চ ৯০ থেকে ৯৫ কেজি ওজনের সীমা নির্ধারিত থাকলেও প্রায় ১১০ কেজি ওজনের শৌভিক রায়কে উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়। তার ওজন অনুযায়ী উপযুক্ত লাইফ জ্যাকেটও ছিল না বলে অভিযোগ প্রশাসনের।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকাশে ওড়ার কিছুক্ষণ পরই শৌভিক রায় সমুদ্রে পড়ে যান। স্পিডবোট তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও দ্রুত পৌঁছাতে পারেনি। পরে সৈকত থেকে কয়েকজন কর্মী সাঁতরে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। উদ্ধারকালে তার শরীরে লাইফ জ্যাকেট ছিল না বলেও দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

প্যারাসেইলিং প্রশিক্ষক সোহেল রানা বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিটি প্যারাসেইলিং স্পটে বাতাসের গতি পরিমাপের যন্ত্র, অংশগ্রহণকারীর ওজন ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাই, উপযুক্ত লাইফ জ্যাকেট ও হারনেস ব্যবহার এবং উদ্ধারকারী জেট স্কি প্রস্তুত রাখা বাধ্যতামূলক।

এদিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুবক্তবিন সোহেল জানান, প্রাথমিকভাবে পানিতে ডুবে শৌভিক রায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, নিহতের পরিবারের সদস্যরা কক্সবাজারে পৌঁছেছেন। তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিষয় : কক্সবাজার

Cox News

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬


১১০ কেজি ওজনেও শৌভিককে দেওয়া হয় উড্ডয়নের অনুমতি

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে খুলনার পর্যটক শৌভিক রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক অনুসন্ধানে একাধিক নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসনের দাবি, অনুমোদনহীন একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিকূল আবহাওয়ায় কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজনের যাত্রীকে উড্ডয়নের অনুমতি দেয় এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেনি।

জেলা প্রশাসন জানায়, ‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রতিকূল আবহাওয়ার সতর্কতা উপেক্ষা, উপযুক্ত লাইফ জ্যাকেট না দেওয়া, উদ্ধারকারী জেট স্কি বা রেসকিউ বোট প্রস্তুত না রাখা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বিধি অমান্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ২০২৫ সালের পর থেকে জেলার কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্যারাসেইলিং পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান সিয়াম বলেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটারের বেশি বেগে বাতাস প্রবাহিত হলে প্যারাসেইলিং বন্ধ রাখতে হয়। কিন্তু দুর্ঘটনার দিন কক্সবাজারে বাতাসের গতি ছিল প্রায় ৪০ কিলোমিটার। এ অবস্থাতেও পর্যটকদের নিয়ে উড্ডয়ন চালানো হয়।

তিনি আরও জানান, প্যারাসেইলিংয়ের জন্য সাধারণত সর্বোচ্চ ৯০ থেকে ৯৫ কেজি ওজনের সীমা নির্ধারিত থাকলেও প্রায় ১১০ কেজি ওজনের শৌভিক রায়কে উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়। তার ওজন অনুযায়ী উপযুক্ত লাইফ জ্যাকেটও ছিল না বলে অভিযোগ প্রশাসনের।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকাশে ওড়ার কিছুক্ষণ পরই শৌভিক রায় সমুদ্রে পড়ে যান। স্পিডবোট তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও দ্রুত পৌঁছাতে পারেনি। পরে সৈকত থেকে কয়েকজন কর্মী সাঁতরে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। উদ্ধারকালে তার শরীরে লাইফ জ্যাকেট ছিল না বলেও দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

প্যারাসেইলিং প্রশিক্ষক সোহেল রানা বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিটি প্যারাসেইলিং স্পটে বাতাসের গতি পরিমাপের যন্ত্র, অংশগ্রহণকারীর ওজন ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাই, উপযুক্ত লাইফ জ্যাকেট ও হারনেস ব্যবহার এবং উদ্ধারকারী জেট স্কি প্রস্তুত রাখা বাধ্যতামূলক।

এদিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুবক্তবিন সোহেল জানান, প্রাথমিকভাবে পানিতে ডুবে শৌভিক রায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, নিহতের পরিবারের সদস্যরা কক্সবাজারে পৌঁছেছেন। তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
১১০ কেজি ওজনেও শৌভিককে দেওয়া হয় উড্ডয়নের অনুমতি
0:00 0:00
1.0x