শাকুর মাহমুদ চৌধুরী:
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় শাক-সবজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজারে ঢুকে সবজির দাম শুনেই হতাশ হয়ে পড়ছেন অনেকে। সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য দৈনন্দিন বাজার করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে উখিয়া কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের তরিতরকারির দাম ঊর্ধ্বমুখী। কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, বেগুন ১৪০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা এবং কচুরলতি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অধিকাংশ সবজির দামই ১০০ টাকার আশপাশে বা তার বেশি, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
তরকারি ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন (প্রকাশ চোনাকি) বলেন, আমাদের করার কিছুই নেই। আড়তদারদের কাছ থেকে যেভাবে বেশি দামে কাঁচা তরিতরকারি কিনতে হচ্ছে, আমরাও সেভাবেই বিক্রি করছি। কোনো ক্রেতার কাছ থেকে এক টাকাও বেশি নিচ্ছি না।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ শফিক বলেন, আমি নিয়মিত বাজার করি। কিন্তু এভাবে অতিরিক্ত দামে সবজি কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কিভাবে পরিবার-পরিজনের খরচ চালাবো, সেই চিন্তায় পড়েছি।
স্থানীয় চাকরিজীবী জিবসী বড়ুয়া বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় শাক-সবজির বাজারে নিয়মিত মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি। বাজার তদারকি জোরদার করা হলে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে উচ্চমূল্য, সরবরাহ সংকট এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে কার্যকর তদারকির অভাব এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতার কারণে পরিস্থিতি আরও বেসামাল হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ছবির ক্যাপশন: শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১০টায় উখিয়া কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় শাক-সবজি কিনতে ক্রেতাদের ভিড়। অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে সাধারণ মানুষ।