কুষ্টিয়ার কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের এক স্টাফের বিরুদ্ধে বাবা-ছেলেকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম বাদী হয়ে ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) আব্দুল্লাহ আল মামুনকে একমাত্র আসামি করে পোড়াদহ রেলওয়ে থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পোড়াদহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হুসাইন আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মামলার এজাহারে বাদী আব্দুর রহিম উল্লেখ করেন, গত শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার কোর্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে চুয়াডাঙ্গা যাওয়ার জন্য সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠার সময় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে নির্ধারিত বগিতে উঠতে না পেরে স্ত্রীকে পাশের বগিতে তুলতে যান। এ সময় টিটিই আব্দুল্লাহ আল মামুন তাঁর স্ত্রীকে ধাক্কা দিলে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
এজাহার অনুযায়ী, একপর্যায়ে মামুন স্টোররুম থেকে ধারালো ছুরি এনে আব্দুর রহিম ও তাঁর ছেলে শফিউল আউয়াল সুমনের ওপর হামলা চালান। এতে তাঁরা দুজন গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ যাত্রী ও স্থানীয়রা প্রায় দেড় ঘণ্টা সুন্দরবন এক্সপ্রেস আটকে রেখে বিক্ষোভ করেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে একই ঘটনায় ট্রেন অবরোধ, ভাঙচুর, মব সৃষ্টি এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে কুষ্টিয়া মডেল থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী উপপরিদর্শক (এসআই) মলয় কুমার চক্রবর্তী। এতে আব্দুর রহিমের দুই ছেলে পলাশ ও শফিউল আউয়াল সুমনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন চুয়াডাঙ্গার সবুজপাড়া এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে পলাশ ও শফিউল আউয়াল সুমন এবং কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকার মামুন। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শোভন শ্রেণির টিকিট কেটে কয়েকজন যাত্রী এসি বগিতে ওঠার চেষ্টা করলে ট্রেনের গার্ড ও টিটিই বাধা দেন। এ সময় এক নারী পড়ে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
এজাহার অনুযায়ী, পরে অভিযুক্তরা ট্রেনের চেইন টেনে ট্রেন থামিয়ে দেন, ইঞ্জিন বন্ধ করে অবরোধ সৃষ্টি করেন এবং ট্রেনে ভাঙচুর ও কর্তব্যরত কর্মীদের খুঁজতে থাকেন। তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে আসামিরা ওসিসহ এসআই আব্দুল আলীম, স্বপন কুমার মণ্ডল ও পুলিশ সদস্য শামীম হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। পরে পুলিশ লাইন ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তিনজন আসামিকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
আব্দুর রহিম দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত ও শারীরিকভাবে দুর্বল। এ কারণে ভিড় দেখে নিকটবর্তী বগিতে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, পাল্টা মামলায় তাঁর দুই ছেলেসহ পরিচিতজনদের আসামি করা হয়েছে এবং থানায় তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।
পুলিশের মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুল্লাহ আল রশিদ জয় বলেন, ‘আমার নবজাতক শিশু কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। আহত ব্যক্তিরা আমার নিকটাত্মীয় হওয়ায় দেখতে এসেছিলেন।’ তাঁর দাবি, ওসিকে চিনতে না পেরে অনেকেই তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ (মৌখিক) করে ফেলেন। এখানে পুলিশকে শারীরিকভাবে আঘাত করার কোনো ঘটনা ঘটেনি।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, ট্রেন অবরোধ, ভাঙচুর, মব সৃষ্টি এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে টিকিট পরীক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।