Cox News

হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু


প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের উপসর্গে মৃত্যু থামছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৩০ দিনে হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০৫। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৭১০ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ জনের। মৃতদের প্রায় সবাই শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আজ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে জানানো হয়, হামের উপসর্গে মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন সুনামগঞ্জের, অন্যজন গাইবান্ধার বাসিন্দা।

গত ১৫ মার্চ থেকে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গজনিত মৃত্যুর হিসাব প্রকাশ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে প্রাণ গেছে ৩৬৬ জনের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু সিলেট বিভাগে, ১০৯ জন। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৯২, ময়মনসিংহে ৬৯, চট্টগ্রামে ৬৬, বরিশালে ৬২, খুলনায় ৩১ এবং রংপুর বিভাগে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও এক হাজার ৪১ জনের মধ্যে হাম বা এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে ১৬৬ জনের। ফলে গত ১৩০ দিনে মোট আক্রান্ত বা উপসর্গ শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ২০৭।  একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ১৮৮ জন।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১০৩ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। এর আওতায় এক কোটি ৮৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৫টি ডোজ প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল ক্যাম্পেইন নয়, নিয়মিত টিকাদানে অন্তত ৯৫ শতাংশ কভারেজ নিশ্চিত না হলে হাম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ জরুরি ভিত্তিতে অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় ডোজসহ নিয়মিত টিকাদানে ৯৫ শতাংশ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করতে না পারলে হাম নিয়ন্ত্রণে আসবে না। বিশেষ করে শহর ও গ্রামের প্রান্তিক পরিবারের শিশুরা টিকা পেয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে হবে। 

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, প্রান্তিক পরিবারের কোনো শিশুর জ্বর হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা উচিত। ডেঙ্গু না হলে হাম সন্দেহে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। এতে দুর্বল শিশুরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পুষ্টি ও পরিচর্যা পাবে এবং মৃত্যুঝুঁকি কমবে।

বিষয় : মৃত্যু হামের উপসর্গ

Cox News

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশে হামের উপসর্গে মৃত্যু থামছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৩০ দিনে হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০৫। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৭১০ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ জনের। মৃতদের প্রায় সবাই শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আজ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে জানানো হয়, হামের উপসর্গে মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন সুনামগঞ্জের, অন্যজন গাইবান্ধার বাসিন্দা।

গত ১৫ মার্চ থেকে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গজনিত মৃত্যুর হিসাব প্রকাশ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে প্রাণ গেছে ৩৬৬ জনের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু সিলেট বিভাগে, ১০৯ জন। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৯২, ময়মনসিংহে ৬৯, চট্টগ্রামে ৬৬, বরিশালে ৬২, খুলনায় ৩১ এবং রংপুর বিভাগে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও এক হাজার ৪১ জনের মধ্যে হাম বা এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে ১৬৬ জনের। ফলে গত ১৩০ দিনে মোট আক্রান্ত বা উপসর্গ শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ২০৭।  একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ১৮৮ জন।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১০৩ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। এর আওতায় এক কোটি ৮৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৫টি ডোজ প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল ক্যাম্পেইন নয়, নিয়মিত টিকাদানে অন্তত ৯৫ শতাংশ কভারেজ নিশ্চিত না হলে হাম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ জরুরি ভিত্তিতে অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় ডোজসহ নিয়মিত টিকাদানে ৯৫ শতাংশ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করতে না পারলে হাম নিয়ন্ত্রণে আসবে না। বিশেষ করে শহর ও গ্রামের প্রান্তিক পরিবারের শিশুরা টিকা পেয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে হবে। 

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, প্রান্তিক পরিবারের কোনো শিশুর জ্বর হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা উচিত। ডেঙ্গু না হলে হাম সন্দেহে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। এতে দুর্বল শিশুরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পুষ্টি ও পরিচর্যা পাবে এবং মৃত্যুঝুঁকি কমবে।


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু
0:00 0:00
1.0x