বর্তমান সরকার থেকে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে আমরা একটা হোঁচট খেয়েছি। মিসটেক একটা হয়েছে। মিসটেক নেভার বিন এ প্রবলেম! কৃষক কার্ড যারা করবেন, দয়া করে ফ্যামিলি কার্ডের যে মিসটেক ছিল, যে দুর্বলতা ছিল, যে বায়াসনেস ছিল, তা করতে যাবেন না। ফ্যামিলি কার্ড থেকে যদি আমরা শিক্ষা নেই তাহলে প্রধানমন্ত্রীর যে স্বপ্ন, তা বাস্তবায়ন হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিন্তু এই কার্ডগুলো রাজনৈতিক কারণে করেননি। লন্ডনে বসে রিসার্চ করে বাংলাদেশের মানুষের সামগ্রিকভাবে জীবনমান উন্নয়নের জন্য যা প্রয়োজন, মৌলিক অধিকারগুলো ফিরিয়ে আনার জন্য অভিজ্ঞদের দিয়ে গবেষণা করে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে এটা করা হচ্ছে- আমরা এটা এভাবে নেব না। এখানে নির্বাচিত জনপ্রতিধিরা এই কাজটা করছেন। এখানে দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য এই কার্ড করা হচ্ছে। যারা ফিল্ড ওয়ার্ক করেন, তাদের মধ্যে সচেতনতা দরকার। আমার এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরে আমি ইনস্টেন্টলি প্রতিবাদ করেছিলাম। আজকে যদি আমরা প্রতিবাদ না করতাম তাহলে হয়তো বা সারা বাংলাদেশেই এই ভুলের মাঝেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হতো।
জেলা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার বিকালে বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিস্টান, কে পাহাড়ি এভাবে কাউকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। আমরা সবাই মানুষ এটাই আমাদের বড় পরিচয়।
তিনি বলেন, পাহাড়ি বা অন্য কোনো পরিচয়ের কারণে কাউকে উন্নয়ন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা কিংবা সুযোগ কম দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, যাদের ঘর নেই, তাদের জন্য দুর্গাপুর ও কলমাকান্দায় ২০টি ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে বিশেষ টিউবওয়েল স্থাপন, মন্দির ও গির্জা সংস্কার এবং বর্ডার রোডের সঙ্গে বাড়িঘরের যোগাযোগ স্থাপনে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাতির আক্রমণ থেকে সুরক্ষা, বিভিন্ন এলাকায় আলোর ব্যবস্থা এবং নদীভাঙন রোধে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, দীর্ঘদিন দেশে কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা সময়মতো গুরুত্ব পায়নি। ফলে প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজও পিছিয়ে ছিল।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, প্রকৃতির কাছে বারবার পরাজিত না হয়ে প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণের উপযোগী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সেই লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়া নদী-খাল পুনঃখনন, নদীশাসন এবং দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। খাল-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে পারলে ভবিষ্যতে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমবে এবং কৃষকরাও উপকৃত হবেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আরিফুল ইসলাম সরদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় জেলায় কর্মরত বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।