Cox News

রায়পুরে খাল পুনঃখনন শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত গেল ৬৫ লাখ টাকা


প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

রায়পুরে খাল পুনঃখনন শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত গেল ৬৫ লাখ টাকা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় তিনটি খাল পুনঃখনন প্রকল্প নির্ধারিত মান বজায় রেখে শেষ করার পর অব্যয়িত প্রায় ৬৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রায় ৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার। প্রশাসনের এ উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন মহলে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল রায়পুর উপজেলার চরমোহনা ও উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের (পি-২, বিপি-৮, বিপি-১৭) খালের ভুঁইয়াগো রাস্তার মাথা (ঢালী মসজিদ) থেকে বংশী ব্রীজ সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদী পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৪৩৯ মিটার অংশের পুনঃখনন কাজ শুরু হয়। ভরাট হয়ে যাওয়া খালে পানি প্রবাহ ফেরানো ও কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে নেওয়া হয় এই উদ্যোগ। খনন কাজের পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে রোপণ করা হয় প্রায় দেড় হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমানো এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচসুবিধা নিশ্চিত করা।

প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও মেহেদী হাসান কাউছার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু, সাধারণ সম্পাদক সফিকুর রহমান ভূঁইয়াসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবদুল হাই খান জানান, কাজ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। ইউএনও নিজে একাধিকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের গুণগত মান ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাই করেছেন এবং সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ হচ্ছে কি না তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, প্রায় তিন মাসব্যাপী খননকাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি, পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ সব বিল পরিশোধের পরও প্রায় ৬৫ লাখ টাকা অব্যয়িত থেকে যায়। পরে সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে সেই অর্থ কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

চরমোহনা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক (পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা) মোঃ আবদুস সাত্তার বলেন, ‘সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নজির খুব একটা দেখা যায় না। ইউএনও দেখিয়ে দিয়েছেন, সততা ও আন্তরিকতা থাকলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব।’

উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু বলেন, ‘সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। কাজের মান বজায় রেখে অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।’

এ বিষয়ে ইউএনও মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, ‘সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। তাই এ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা আমাদের কর্তব্য। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করা হয়েছে; কাজ শেষে অবশিষ্ট অর্থ সরকারি বিধি অনুযায়ী কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার অপরিহার্য। জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অঙ্গীকার।’

বিষয় : লক্ষ্মীপুর

Cox News

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬


রায়পুরে খাল পুনঃখনন শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত গেল ৬৫ লাখ টাকা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় তিনটি খাল পুনঃখনন প্রকল্প নির্ধারিত মান বজায় রেখে শেষ করার পর অব্যয়িত প্রায় ৬৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রায় ৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার। প্রশাসনের এ উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন মহলে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল রায়পুর উপজেলার চরমোহনা ও উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের (পি-২, বিপি-৮, বিপি-১৭) খালের ভুঁইয়াগো রাস্তার মাথা (ঢালী মসজিদ) থেকে বংশী ব্রীজ সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদী পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৪৩৯ মিটার অংশের পুনঃখনন কাজ শুরু হয়। ভরাট হয়ে যাওয়া খালে পানি প্রবাহ ফেরানো ও কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে নেওয়া হয় এই উদ্যোগ। খনন কাজের পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে রোপণ করা হয় প্রায় দেড় হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমানো এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচসুবিধা নিশ্চিত করা।

প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও মেহেদী হাসান কাউছার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু, সাধারণ সম্পাদক সফিকুর রহমান ভূঁইয়াসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবদুল হাই খান জানান, কাজ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। ইউএনও নিজে একাধিকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের গুণগত মান ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাই করেছেন এবং সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ হচ্ছে কি না তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, প্রায় তিন মাসব্যাপী খননকাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি, পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ সব বিল পরিশোধের পরও প্রায় ৬৫ লাখ টাকা অব্যয়িত থেকে যায়। পরে সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে সেই অর্থ কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

চরমোহনা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক (পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা) মোঃ আবদুস সাত্তার বলেন, ‘সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নজির খুব একটা দেখা যায় না। ইউএনও দেখিয়ে দিয়েছেন, সততা ও আন্তরিকতা থাকলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব।’

উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু বলেন, ‘সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। কাজের মান বজায় রেখে অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।’

এ বিষয়ে ইউএনও মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, ‘সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। তাই এ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা আমাদের কর্তব্য। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করা হয়েছে; কাজ শেষে অবশিষ্ট অর্থ সরকারি বিধি অনুযায়ী কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার অপরিহার্য। জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অঙ্গীকার।’


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
রায়পুরে খাল পুনঃখনন শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত গেল ৬৫ লাখ টাকা
0:00 0:00
1.0x