Cox News

‘সংসার চালাব, নাকি আইনজীবীর খরচ দেব’, কাঠগড়ায় কান্নায় ভেঙে পড়লেন রেদোয়ানুল


প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

‘সংসার চালাব, নাকি আইনজীবীর খরচ দেব’, কাঠগড়ায় কান্নায় ভেঙে পড়লেন রেদোয়ানুল
বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

নিজের আর্থিক দুর্দশার কথা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বিজিবির কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম। ঘনঘন শুনানির তারিখ দিলে আইনজীবীর নির্ধারিত ফি দিতে পারছেন না বলে জানান তিনি। 

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ দাবি করেন বিজিবির এই কর্মকর্তা। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি। 

আরও পড়ুনআরও পড়ুনচব্বিশের গণঅভ্যুত্থান: মানবতাবিরোধী অপরাধে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন

এদিন এ মামলায় ১২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন রাতুল হাসান নামের একজন শিক্ষার্থী। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

নিজের পক্ষে আইনজীবী শাহীনুর ইসলামের জেরা চলাকালীন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কথা বলার জন্য ট্রাইব্যুনালের অনুমতি চান রেদোয়ানুল ইসলাম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ঘনঘন তারিখ দিলে আমার খুব কষ্ট হয়। আইনজীবীর টাকাও দিতে পারি না। আর্থিকভাবে তেমন কোনো সঞ্চয়ও নেই। একটু লম্বা বিরতি নিয়ে তারিখ দিলে ভালো হয়।

আরও পড়ুনআরও পড়ুনদেশে ফিরে ‘তামাদি’ মওকুফের কোনো সুযোগ পাবেন না শেখ হাসিনা

রেদোয়ানুল বলেন, বর্তমানে যে বেতন পাই, তা খুবই সামান্য। এই টাকা দিয়ে সংসার চালাবো নাকি আইনজীবীর খরচ দেবো? বুঝতে পারি না।

​এ সময় রেদোয়ানুলের আইনজীবী শাহীনুর ইসলামের কাছে বিষয়টি জানতে চান বিচারক। তখন ট্রাইব্যুনালকে আইনজীবী বলেন, তার কাছ থেকে রিজনেবল ফি-ই নেওয়া হচ্ছে।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, আসামির মূল চাওয়া ঘনঘন তারিখ পেছানো নয়। বরং মামলার বিচার দ্রুত শেষ হওয়া। অল্প দিনের ব্যবধানে শুনানি হলে বিচারকাজ দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।

উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে রেদোয়ানুলের বক্তব্য নিজের হৃদয় স্পর্শ করেছে জানিয়ে মন্তব্য করেন বিচারক। এরপর অসমাপ্ত জেরার জন্য আগামী ২ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।

আরও পড়ুনআরও পড়ুনদেশে ফিরে ‘তামাদি’ মওকুফের কোনো সুযোগ পাবেন না শেখ হাসিনা

এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে আছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম।

পলাতকরা হলেন– ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রামপুরায় ২৮ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাইবুনালে চারজনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

বিষয় : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

Cox News

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


‘সংসার চালাব, নাকি আইনজীবীর খরচ দেব’, কাঠগড়ায় কান্নায় ভেঙে পড়লেন রেদোয়ানুল

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নিজের আর্থিক দুর্দশার কথা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বিজিবির কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম। ঘনঘন শুনানির তারিখ দিলে আইনজীবীর নির্ধারিত ফি দিতে পারছেন না বলে জানান তিনি। 

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ দাবি করেন বিজিবির এই কর্মকর্তা। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি। 

আরও পড়ুনআরও পড়ুনচব্বিশের গণঅভ্যুত্থান: মানবতাবিরোধী অপরাধে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন

এদিন এ মামলায় ১২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন রাতুল হাসান নামের একজন শিক্ষার্থী। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

নিজের পক্ষে আইনজীবী শাহীনুর ইসলামের জেরা চলাকালীন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কথা বলার জন্য ট্রাইব্যুনালের অনুমতি চান রেদোয়ানুল ইসলাম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ঘনঘন তারিখ দিলে আমার খুব কষ্ট হয়। আইনজীবীর টাকাও দিতে পারি না। আর্থিকভাবে তেমন কোনো সঞ্চয়ও নেই। একটু লম্বা বিরতি নিয়ে তারিখ দিলে ভালো হয়।

আরও পড়ুনআরও পড়ুনদেশে ফিরে ‘তামাদি’ মওকুফের কোনো সুযোগ পাবেন না শেখ হাসিনা

রেদোয়ানুল বলেন, বর্তমানে যে বেতন পাই, তা খুবই সামান্য। এই টাকা দিয়ে সংসার চালাবো নাকি আইনজীবীর খরচ দেবো? বুঝতে পারি না।

​এ সময় রেদোয়ানুলের আইনজীবী শাহীনুর ইসলামের কাছে বিষয়টি জানতে চান বিচারক। তখন ট্রাইব্যুনালকে আইনজীবী বলেন, তার কাছ থেকে রিজনেবল ফি-ই নেওয়া হচ্ছে।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, আসামির মূল চাওয়া ঘনঘন তারিখ পেছানো নয়। বরং মামলার বিচার দ্রুত শেষ হওয়া। অল্প দিনের ব্যবধানে শুনানি হলে বিচারকাজ দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।

উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে রেদোয়ানুলের বক্তব্য নিজের হৃদয় স্পর্শ করেছে জানিয়ে মন্তব্য করেন বিচারক। এরপর অসমাপ্ত জেরার জন্য আগামী ২ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।

আরও পড়ুনআরও পড়ুনদেশে ফিরে ‘তামাদি’ মওকুফের কোনো সুযোগ পাবেন না শেখ হাসিনা

এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে আছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম।

পলাতকরা হলেন– ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রামপুরায় ২৮ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাইবুনালে চারজনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
‘সংসার চালাব, নাকি আইনজীবীর খরচ দেব’, কাঠগড়ায় কান্নায় ভেঙে পড়লেন রেদোয়ানুল
0:00 0:00
1.0x