ঢাকার কেরানীগঞ্জে কিশোরী মোসা. তানজিলা (১৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও ঘাতক মো. রানা হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই ঢাকা জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার এমএন মোর্শেদ এ তথ্য জানান।
প্রেমের দ্বন্দ্বের জেরে রানা এই কিশোরীকে হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। এছাড়া আসামির দেওয়া তথ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু, নিহতের স্মার্টফোন এবং লুণ্ঠিত অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, সোমবার দুপুরে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের বাঘৈরে খালার বাসায় দুপুরের খাবার খেয়ে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়ে নিখোঁজ হন তানজিলা। পরদিন (২৮ জুলাই) কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার মদিনানগর এলাকা থেকে তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে তানজিলার মা লাশ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলে পিবিআই ঢাকা জেলা তদন্তের দায়িত্ব নেয়।
পুলিশ সুপার মোর্শেদ জানান, তদন্তকারী দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘাতক রানা হাওলাদারকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রানা স্বীকার করেছে যে, প্রেমের বিরোধের জেরে তিনি তানজিলাকে গলা কেটে হত্যা করেছেন। ইতোমধ্যে আসামি আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। আরও পড়ুনআরও পড়ুনবেতনভাতা বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ শ্রমিকদের
গ্রেফতার রানা জানিয়েছেন, তিনি কেরানীগঞ্জে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। নিহত তানজিলার সঙ্গে প্রায় ৭ মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার। তানজিলা রানার কাছে ৩০ হাজার টাকা চাইলে তা দিতে না পারায় তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর সোমবার বিকালে রানা নিজ অটোরিকশায় তানজিলাকে নিয়ে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মদিনানগর এলাকাস্থ ফাঁকা হাউজিং প্লটে নিয়ে যান। সেখানে ঝগড়ার একপর্যায়ে রানা গলা চেপে ধরে ফল কাটার চাকু দিয়ে গলা কেটে তানজিলাকে হত্যা করে দুটি স্মার্টফোন, রূপার চেইন ও ব্রেসলেট নিয়ে পালিয়ে যান।