Cox News

অনলাইন প্রতারণা চক্রের হোতাদের মৃত্যুদণ্ড দেবে মিয়ানমার


প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

অনলাইন প্রতারণা চক্রের হোতাদের মৃত্যুদণ্ড দেবে মিয়ানমার
অনলাইন প্রতারণা চক্রের হোতাদের মৃত্যুদণ্ড দেবে মিয়ানমার। ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারে অনলাইন প্রতারণা বা সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে মানুষকে অপহরণ, আটকে রাখা কিংবা নির্যাতনের মাধ্যমে কাজ করতে বাধ্য করার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে একটি আইন পাস করেছে দেশটির সামরিক-সমর্থিত পার্লামেন্ট। দেশটিতে দ্রুত বিস্তৃত হওয়া অনলাইন প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের অংশ হিসেবে এই আইন করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে সংশোধনী অনুমোদনের পর ‘অ্যান্টি-অনলাইন স্ক্যাম বিল’ পাস হয়। ইউনিয়ন পার্লামেন্টের স্পিকার অং লিন ডুয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সরাসরি সম্প্রচারিত বক্তব্যে আইনটি পাসের কথা জানান।

নতুন আইনে সাইবার প্রতারণায় জড়িত কোনো ব্যক্তি যদি সহিংসতা, নির্যাতন বা বেআইনি আটকের মাধ্যমে কাউকে স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য করেন, তাহলে তার ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। আর এ ধরনের নির্যাতনের ফলে কোনো ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাসীন সামরিক সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং গত মে মাসে আইনটির খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছিলেন।

কোভিড-১৯ মহামারির পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্র দ্রুত বিস্তার লাভ করে। মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওস আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয় এবং অনেক মানুষকে পাচার বা জোরপূর্বক আটকে রেখে কাজ করানো হয়।

মিয়ানমারের নতুন সরকারের অধীনে পাস হওয়া এটিই প্রথম আইন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর মাধ্যমে সামরিক সরকার একদিকে আন্তসীমান্ত অপরাধ দমনে নিজেদের ভূমিকা তুলে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে অভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থান কাটিয়ে উঠতে চাইছে। তবে দেশটির বড় অংশ সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় আইনটির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুনের শেষ নাগাদ অবৈধভাবে মিয়ানমারে প্রবেশ করা ১৪ হাজার ৭১৮ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্বে কোক্কো ও কে কে পার্কসহ গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অবৈধ জুয়া ও অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত ৭৭টি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে তারা।

জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৫ সালে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে স্ক্যাম-সংক্রান্ত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৮.৩ বিলিয়ন থেকে ১১৪.১ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ছিল। একই বছরে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রতারণায় প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে—কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী মেকং অঞ্চল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় অনলাইন প্রতারণা ও অবৈধ অনলাইন জুয়ার কেন্দ্র। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও সতর্ক করেছে, এসব সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে পালিয়ে আসা এবং পরে রাস্তায় পরিত্যক্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যা এখন একটি আন্তর্জাতিক সংকটে পরিণত হয়েছে।

বিষয় : আইন আইন ও বিচার ‍ মৃত্যুদণ্ড মিয়ানমার প্রতারণা অনলাইন জান্তা

Cox News

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬


অনলাইন প্রতারণা চক্রের হোতাদের মৃত্যুদণ্ড দেবে মিয়ানমার

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

মিয়ানমারে অনলাইন প্রতারণা বা সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে মানুষকে অপহরণ, আটকে রাখা কিংবা নির্যাতনের মাধ্যমে কাজ করতে বাধ্য করার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে একটি আইন পাস করেছে দেশটির সামরিক-সমর্থিত পার্লামেন্ট। দেশটিতে দ্রুত বিস্তৃত হওয়া অনলাইন প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের অংশ হিসেবে এই আইন করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে সংশোধনী অনুমোদনের পর ‘অ্যান্টি-অনলাইন স্ক্যাম বিল’ পাস হয়। ইউনিয়ন পার্লামেন্টের স্পিকার অং লিন ডুয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সরাসরি সম্প্রচারিত বক্তব্যে আইনটি পাসের কথা জানান।

নতুন আইনে সাইবার প্রতারণায় জড়িত কোনো ব্যক্তি যদি সহিংসতা, নির্যাতন বা বেআইনি আটকের মাধ্যমে কাউকে স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য করেন, তাহলে তার ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। আর এ ধরনের নির্যাতনের ফলে কোনো ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাসীন সামরিক সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং গত মে মাসে আইনটির খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছিলেন।

কোভিড-১৯ মহামারির পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্র দ্রুত বিস্তার লাভ করে। মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওস আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয় এবং অনেক মানুষকে পাচার বা জোরপূর্বক আটকে রেখে কাজ করানো হয়।

মিয়ানমারের নতুন সরকারের অধীনে পাস হওয়া এটিই প্রথম আইন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর মাধ্যমে সামরিক সরকার একদিকে আন্তসীমান্ত অপরাধ দমনে নিজেদের ভূমিকা তুলে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে অভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থান কাটিয়ে উঠতে চাইছে। তবে দেশটির বড় অংশ সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় আইনটির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুনের শেষ নাগাদ অবৈধভাবে মিয়ানমারে প্রবেশ করা ১৪ হাজার ৭১৮ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্বে কোক্কো ও কে কে পার্কসহ গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অবৈধ জুয়া ও অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত ৭৭টি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে তারা।

জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৫ সালে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে স্ক্যাম-সংক্রান্ত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৮.৩ বিলিয়ন থেকে ১১৪.১ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ছিল। একই বছরে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রতারণায় প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে—কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী মেকং অঞ্চল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় অনলাইন প্রতারণা ও অবৈধ অনলাইন জুয়ার কেন্দ্র। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও সতর্ক করেছে, এসব সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে পালিয়ে আসা এবং পরে রাস্তায় পরিত্যক্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যা এখন একটি আন্তর্জাতিক সংকটে পরিণত হয়েছে।


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
অনলাইন প্রতারণা চক্রের হোতাদের মৃত্যুদণ্ড দেবে মিয়ানমার
0:00 0:00
1.0x