Cox News

স্কুলছাত্র সোহানকে গলা কেটে হত্যা, দুইজনের মৃত্যুদণ্ড


প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

স্কুলছাত্র সোহানকে গলা কেটে হত্যা, দুইজনের মৃত্যুদণ্ড

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার নবম শ্রেণির ছাত্র সোহান মিয়াকে হ্যালোবাইক ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলার অপর একটি ধারায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এসকেএম তোফায়েল হাসান বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণ দেওগাঁও এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে মো. আওয়াবিন মিয়া এবং বরিশাল জেলার বিমানবন্দর থানার সারসী গ্রামের নূর মুন্সির ছেলে মো. সাগর মুন্সি। এর মধ্যে সাগর মুন্সি পলাতক রয়েছেন।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আফম নূরতাজ আলম বাহার বলেন, ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ দণ্ডাদেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত সোহান মিয়া সিংগাইর উপজেলার ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম ও লাইলী বেগম দম্পতির বড় ছেলে। তিনি ফোর্ডনগর বিআরটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

করোনা মহামারির সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যরা ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে তার জন্য একটি ব্যাটারিচালিত হ্যালোবাইক কিনে দেন। সেই হ্যালোবাইক চালিয়ে ধল্লা বাজার ঘাট থেকে খাসের চর পর্যন্ত যাত্রী পরিবহণ করে পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের আয়ে সহযোগিতা করতেন সোহান।

২০২১ সালের ১৯ জুলাই সকাল ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো হ্যালোবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। দুপুরে খাবারের সময় বাড়ি না ফেরায় বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে সোহান কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরবেন বলে জানান। এরপর আবার ফোন করা হলে সেটি আর রিসিভ হয়নি।

উদ্বিগ্ন স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে জানতে পারেন, খাসের চর বাজার থেকে ধল্লা বাজারগামী কাঁচা সড়কের পাশে সোহানের লাশ পড়ে রয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা তার গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। তবে তার ব্যবহৃত হ্যালোবাইক ও মোবাইল ফোনের কোনো খোঁজ মেলেনি। 

তদন্তে বেরিয়ে আসে- হ্যালোবাইক ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সোহানকে হত্যা করা হয়।

ঘটনার দিনই নিহতের মা লাইলী বেগম সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম ২০২১ সালের ৩০ জুলাই তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ড, অর্থদণ্ড এবং মামলার অপর ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

Cox News

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬


স্কুলছাত্র সোহানকে গলা কেটে হত্যা, দুইজনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার নবম শ্রেণির ছাত্র সোহান মিয়াকে হ্যালোবাইক ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলার অপর একটি ধারায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এসকেএম তোফায়েল হাসান বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণ দেওগাঁও এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে মো. আওয়াবিন মিয়া এবং বরিশাল জেলার বিমানবন্দর থানার সারসী গ্রামের নূর মুন্সির ছেলে মো. সাগর মুন্সি। এর মধ্যে সাগর মুন্সি পলাতক রয়েছেন।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আফম নূরতাজ আলম বাহার বলেন, ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ দণ্ডাদেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত সোহান মিয়া সিংগাইর উপজেলার ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম ও লাইলী বেগম দম্পতির বড় ছেলে। তিনি ফোর্ডনগর বিআরটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

করোনা মহামারির সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যরা ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে তার জন্য একটি ব্যাটারিচালিত হ্যালোবাইক কিনে দেন। সেই হ্যালোবাইক চালিয়ে ধল্লা বাজার ঘাট থেকে খাসের চর পর্যন্ত যাত্রী পরিবহণ করে পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের আয়ে সহযোগিতা করতেন সোহান।

২০২১ সালের ১৯ জুলাই সকাল ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো হ্যালোবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। দুপুরে খাবারের সময় বাড়ি না ফেরায় বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে সোহান কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরবেন বলে জানান। এরপর আবার ফোন করা হলে সেটি আর রিসিভ হয়নি।

উদ্বিগ্ন স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে জানতে পারেন, খাসের চর বাজার থেকে ধল্লা বাজারগামী কাঁচা সড়কের পাশে সোহানের লাশ পড়ে রয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা তার গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। তবে তার ব্যবহৃত হ্যালোবাইক ও মোবাইল ফোনের কোনো খোঁজ মেলেনি। 

তদন্তে বেরিয়ে আসে- হ্যালোবাইক ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সোহানকে হত্যা করা হয়।

ঘটনার দিনই নিহতের মা লাইলী বেগম সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম ২০২১ সালের ৩০ জুলাই তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ড, অর্থদণ্ড এবং মামলার অপর ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
স্কুলছাত্র সোহানকে গলা কেটে হত্যা, দুইজনের মৃত্যুদণ্ড
0:00 0:00
1.0x