Cox News

এক দেহে দুই প্রাণ, অর্থ সংকটে আটকে আছে অস্ত্রোপচার


প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

এক দেহে দুই প্রাণ, অর্থ সংকটে আটকে আছে অস্ত্রোপচার

বুক থেকে পেট পর্যন্ত জুড়ে থাকা দুটি ছোট্ট দেহ; কিন্তু অনুভূতি যেন একসূত্রে গাঁথা। একজন একটু কেঁদে উঠলেই অন্যজনেরও চোখ বেয়ে নেমে আসে পানি, একজনের সামান্য নড়াচড়ায় অন্যজনের শরীর  কুঁকড়ে যায় তীব্র ব্যথায়। জন্ম থেকে এভাবেই একে অন্যের দুঃখ-কষ্টের সঙ্গী হয়ে আছে যমজ বোন।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বিলগাথুয়া গ্রামের বাসিন্দা নাহিদ হাসান ও সানজিদা আক্তারের যমজ কন্যা সন্তান-জয়নব ও উম্মে কুলসুম। গত ৪ মে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় তারা। কিন্তু জন্মের পর দেখা যায়, বুক থেকে পেট পর্যন্ত জোড়া লেগে আছে শিশু দুটির।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, এই পরিবারটি এতই গরিব ও অসহায় যে, কোনোরকমে তাদের সংসার চলে নাহিদের আয়রোজগারে। বাচ্চা দুটো মায়ের দুধ খেতে পারে না প্রতিদিন তাদের জন্য বাজার থেকে দুধ ক্রয় করে খাওয়াতে হয়। একদিকে অভাবের সংসার অন্যদিকে এই যমজ শিশুর খাওয়ানো ও চিকিৎসা চালানো তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তারা সবাইকে আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন যেন অপারেশনের মাধ্যমে শিশু দুটিকে আলাদা করা যায়।

জয়নব ও উম্মে কুলসুমের দাদি নারগিছ পারভিন বলেন, প্রায় ৩ মাস আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় তারা। ডাক্তার বলেছে ৩ মাস পর আবার নিয়ে আসার জন্য কিন্তু টাকার অভাবে যেতে পারিনি।

জয়নব ও উম্মে কুলসুমের বাবা নাহিদ হাসান বলেন, চিকিৎসকরা দেখিয়েছেন আশার আলো। জানিয়েছেন, আধুনিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমের শিশু দুটিকে আলাদা করে স্বাভাবিক জীবন দেওয়া সম্ভব। কিন্তু সেই আশার পথে এখন সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চরম দারিদ্র্য। চিকিৎসকদের পরামর্শ ছিল, জন্মের তিন মাস পর আবার ঢাকায় নিয়ে যাওয়া, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা।

কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সন্তানদের আর ঢাকায় নিয়ে যেতে পারেননি বাবা নাহিদ হাসান। বর্তমানে সামান্য টাকা বেতনে কর্মচারীর কাজ করেন নাহিদ। এই সামান্য বেতনে শিশুদের দুধ কিনতেই হিমশিম খেতে হয়, ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে বেড়েছে ঋণের বোঝা।

বিষয়টি নজরে আসায় শিশুদের চিকিৎসায় দ্রুত আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জহিরুল ইসলাম।

জয়নব ও কুলসুমের পরিবারের এখন শুধু একটাই স্বপ্ন- একদিন আলাদা হয়ে সুস্থ ও স্বাধীন মানুষ হিসেবে জীবনযাপন করবে তাদের দুই সন্তান। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষকেও শিশু দুটির পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

Cox News

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬


এক দেহে দুই প্রাণ, অর্থ সংকটে আটকে আছে অস্ত্রোপচার

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

বুক থেকে পেট পর্যন্ত জুড়ে থাকা দুটি ছোট্ট দেহ; কিন্তু অনুভূতি যেন একসূত্রে গাঁথা। একজন একটু কেঁদে উঠলেই অন্যজনেরও চোখ বেয়ে নেমে আসে পানি, একজনের সামান্য নড়াচড়ায় অন্যজনের শরীর  কুঁকড়ে যায় তীব্র ব্যথায়। জন্ম থেকে এভাবেই একে অন্যের দুঃখ-কষ্টের সঙ্গী হয়ে আছে যমজ বোন।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বিলগাথুয়া গ্রামের বাসিন্দা নাহিদ হাসান ও সানজিদা আক্তারের যমজ কন্যা সন্তান-জয়নব ও উম্মে কুলসুম। গত ৪ মে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় তারা। কিন্তু জন্মের পর দেখা যায়, বুক থেকে পেট পর্যন্ত জোড়া লেগে আছে শিশু দুটির।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, এই পরিবারটি এতই গরিব ও অসহায় যে, কোনোরকমে তাদের সংসার চলে নাহিদের আয়রোজগারে। বাচ্চা দুটো মায়ের দুধ খেতে পারে না প্রতিদিন তাদের জন্য বাজার থেকে দুধ ক্রয় করে খাওয়াতে হয়। একদিকে অভাবের সংসার অন্যদিকে এই যমজ শিশুর খাওয়ানো ও চিকিৎসা চালানো তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তারা সবাইকে আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন যেন অপারেশনের মাধ্যমে শিশু দুটিকে আলাদা করা যায়।

জয়নব ও উম্মে কুলসুমের দাদি নারগিছ পারভিন বলেন, প্রায় ৩ মাস আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় তারা। ডাক্তার বলেছে ৩ মাস পর আবার নিয়ে আসার জন্য কিন্তু টাকার অভাবে যেতে পারিনি।

জয়নব ও উম্মে কুলসুমের বাবা নাহিদ হাসান বলেন, চিকিৎসকরা দেখিয়েছেন আশার আলো। জানিয়েছেন, আধুনিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমের শিশু দুটিকে আলাদা করে স্বাভাবিক জীবন দেওয়া সম্ভব। কিন্তু সেই আশার পথে এখন সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চরম দারিদ্র্য। চিকিৎসকদের পরামর্শ ছিল, জন্মের তিন মাস পর আবার ঢাকায় নিয়ে যাওয়া, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা।

কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সন্তানদের আর ঢাকায় নিয়ে যেতে পারেননি বাবা নাহিদ হাসান। বর্তমানে সামান্য টাকা বেতনে কর্মচারীর কাজ করেন নাহিদ। এই সামান্য বেতনে শিশুদের দুধ কিনতেই হিমশিম খেতে হয়, ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে বেড়েছে ঋণের বোঝা।

বিষয়টি নজরে আসায় শিশুদের চিকিৎসায় দ্রুত আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জহিরুল ইসলাম।

জয়নব ও কুলসুমের পরিবারের এখন শুধু একটাই স্বপ্ন- একদিন আলাদা হয়ে সুস্থ ও স্বাধীন মানুষ হিসেবে জীবনযাপন করবে তাদের দুই সন্তান। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষকেও শিশু দুটির পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
এক দেহে দুই প্রাণ, অর্থ সংকটে আটকে আছে অস্ত্রোপচার
0:00 0:00
1.0x