নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। এ নিয়োগ বাতিলের দাবি করে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়ার গোলাম পরওয়ার বলেছেন, যিনি এতদিন বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নে সোচ্চার ছিলেন, তার অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। গতকাল রোববার রাতে বিবৃতিতে এসব কথা বলেন জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল। গত বৃহস্পতিবার সরকারি বিভিন্ন কোম্পানি, করপোরেশন, সংস্থায় ১২ বিএনপি নেতাদের নিয়োগ দেয় সরকার। এর মধ্যে রয়েছেন মো. সামসুল আলমও। তিনি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব পদ থেকে ২০১৮ সালের মার্চে স্বাভাবিক অবসরে যান। এরপর বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। ২০২৫ সালের আগস্টে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে দলীয় আসন পুনবির্ন্যাস কমিটিরও সদস্য ছিলেন সামসুল আলম। চাকরি থেকে অবসরের আট বছর পর গত বৃহস্পতিবার সরকার তাকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ দেয়। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিগত দিনে কেউ পেশাগত জীবনে বঞ্চনার শিকার হয়ে থাকলে বিধি মোতাবেক ভূতপূর্ব পদোন্নতি দিয়ে বা পাওনা সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অবসরের পর প্রত্যক্ষ বিএনপির রাজনীতিতে জড়ানো ৬৭ বছর বয়সী একজন ব্যক্তিকে পুনরায় সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আরও আশ্চর্য ও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, একটি নিরপেক্ষ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় ব্যক্তিত্বের এই বিতর্কিত নিয়োগকে বিএনপির অফিসিয়াল মিডিয়া সেল থেকে রীতিমতো উৎসব করে প্রচার ও উদযাপন করা হচ্ছে। এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, নির্বাচন কমিশনকে পুনরায় বিএনপির আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের চক্রান্ত চলছে। বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যার মূল ভিত্তিই শতভাগ নিরপেক্ষতা ও জনগণের আস্থা। যিনি অতীতে প্রকাশ্যে বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, অবসরের পর নির্দিষ্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, এমন একজন সক্রিয় রাজনীতিককে নিয়োগ দেওয়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতি চরম প্রতারণা।