Cox News

হোয়াইক্যংয়ের কাটাখালীতে দুই ভাইয়ের মাদক সিন্ডিকেট: এবার ২ কোটি টাকার মাদক ছিনতাই


প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

হোয়াইক্যংয়ের কাটাখালীতে দুই ভাইয়ের মাদক সিন্ডিকেট: এবার ২ কোটি টাকার মাদক ছিনতাই

নিজস্ব প্রতিবেদক :

টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যংয়ের কাটাখালীতে ইয়াবা ছিনতাইয়ের ঘটনায় এবার আপন দুই ভাইয়ের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। যাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা বিভিন্ন থানায় রয়েছে।

​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের কাটাখালী এলাকার বক্তার আহমেদের ছেলে সেলিম ওরফে ডেকোরেশন সেলিম ও তার আপন ভাই শাকিল এই চক্রের মূল হোতা। তাঁদের দলে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরাও রয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে কাটাখালীর পুইয়জ্যাপাড়া এলাকায় অস্ত্রসহ অবস্থান নেয় চক্রটি। মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা মাদক বহনকারীরা ইয়াবার চালান নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে কাটাখালী গ্রামে আসতেই অস্ত্র ঠেকিয়ে লুট করা হয় ১ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা।

​শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ১১টায় কাটাখালীতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একাধিকবার ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছেন বলে জানা গেছে।

​কাটাখালী সীমান্তের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে যখন মাদক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে, তখন ৬-৭ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ সেখানে অবস্থান নেয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্রটি জানায়, সেলিমের হাতে একটি ভারী অস্ত্র তারা দেখেছে। এ ছাড়াও এ ঘটনার পর শুক্রবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে কাটাখালী এলাকায় পরপর ২টি গুলির শব্দ শোনা যায়।

​স্থানীয় বাসিন্দা মনজুর আলম জানান, রাত ৯টার কাছাকাছি সময়ে দোকানে বসে সবাই অন্যান্য দিনের মতো গল্পগুজব করছিলেন। এ সময় হঠাৎ কাটাখালীর পূর্বপাড়া থেকে পরপর ২টি গুলির শব্দ কানে ভেসে আসে।

​এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, মূলত ইয়াবা ছিনতাইয়ের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখাতেই এই গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। এর আগেও বক্তার আহমেদের ছেলে সেলিম ইয়াবা সংক্রান্ত ঘটনায় জড়িয়ে পড়ায় এলাকায় দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে, ফলে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, মিয়ানমার সীমান্তের কাছে সেলিম ও শাকিলের চিংড়ির ঘের আছে দাবি করে তারা নিয়মিত নাফ নদীতে যাতায়াত করে। পাশাপাশি মিয়ানমারের বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে পাচার করছে নিত্যপণ্য। বিশেষ করে তেল, চাল, ডালসহ নানান বাংলাদেশী খাদ্যপণ্য পাচার করছে দুই ভাইয়ের সিন্ডিকেট।

​এ ঘটনার বিষয়ে জানতে সেলিমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ধরনের কোনো কাজে জড়িত নন বলে জানান।

​টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, টেকনাফ সীমান্তে মাদক ব্যবসা বন্ধে সরকারের একাধিক বাহিনী কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে আরো বেশি কঠোর হওয়ার নির্দেশনা এসেছে। কোনো মাদক কারবারীকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।

​এদিকে শাকিল ও সেলিম আপন দুই ভাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি বলে জানা গেছে।

বিষয় : পুলিশ #টেকনাফ

Cox News

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬


হোয়াইক্যংয়ের কাটাখালীতে দুই ভাইয়ের মাদক সিন্ডিকেট: এবার ২ কোটি টাকার মাদক ছিনতাই

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

নিজস্ব প্রতিবেদক :

টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যংয়ের কাটাখালীতে ইয়াবা ছিনতাইয়ের ঘটনায় এবার আপন দুই ভাইয়ের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। যাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা বিভিন্ন থানায় রয়েছে।

​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের কাটাখালী এলাকার বক্তার আহমেদের ছেলে সেলিম ওরফে ডেকোরেশন সেলিম ও তার আপন ভাই শাকিল এই চক্রের মূল হোতা। তাঁদের দলে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরাও রয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে কাটাখালীর পুইয়জ্যাপাড়া এলাকায় অস্ত্রসহ অবস্থান নেয় চক্রটি। মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা মাদক বহনকারীরা ইয়াবার চালান নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে কাটাখালী গ্রামে আসতেই অস্ত্র ঠেকিয়ে লুট করা হয় ১ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা।

​শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ১১টায় কাটাখালীতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একাধিকবার ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছেন বলে জানা গেছে।

​কাটাখালী সীমান্তের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে যখন মাদক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে, তখন ৬-৭ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ সেখানে অবস্থান নেয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্রটি জানায়, সেলিমের হাতে একটি ভারী অস্ত্র তারা দেখেছে। এ ছাড়াও এ ঘটনার পর শুক্রবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে কাটাখালী এলাকায় পরপর ২টি গুলির শব্দ শোনা যায়।

​স্থানীয় বাসিন্দা মনজুর আলম জানান, রাত ৯টার কাছাকাছি সময়ে দোকানে বসে সবাই অন্যান্য দিনের মতো গল্পগুজব করছিলেন। এ সময় হঠাৎ কাটাখালীর পূর্বপাড়া থেকে পরপর ২টি গুলির শব্দ কানে ভেসে আসে।

​এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, মূলত ইয়াবা ছিনতাইয়ের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখাতেই এই গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। এর আগেও বক্তার আহমেদের ছেলে সেলিম ইয়াবা সংক্রান্ত ঘটনায় জড়িয়ে পড়ায় এলাকায় দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে, ফলে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, মিয়ানমার সীমান্তের কাছে সেলিম ও শাকিলের চিংড়ির ঘের আছে দাবি করে তারা নিয়মিত নাফ নদীতে যাতায়াত করে। পাশাপাশি মিয়ানমারের বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে পাচার করছে নিত্যপণ্য। বিশেষ করে তেল, চাল, ডালসহ নানান বাংলাদেশী খাদ্যপণ্য পাচার করছে দুই ভাইয়ের সিন্ডিকেট।

​এ ঘটনার বিষয়ে জানতে সেলিমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ধরনের কোনো কাজে জড়িত নন বলে জানান।

​টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, টেকনাফ সীমান্তে মাদক ব্যবসা বন্ধে সরকারের একাধিক বাহিনী কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে আরো বেশি কঠোর হওয়ার নির্দেশনা এসেছে। কোনো মাদক কারবারীকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।

​এদিকে শাকিল ও সেলিম আপন দুই ভাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি বলে জানা গেছে।


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
হোয়াইক্যংয়ের কাটাখালীতে দুই ভাইয়ের মাদক সিন্ডিকেট: এবার ২ কোটি টাকার মাদক ছিনতাই
0:00 0:00
1.0x