পাবনার সাঁথিয়ায় জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে মসজিদে সংঘর্ষের ঘটনার এক দিন পর সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হামলায় ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। একই সঙ্গে তিনি সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমানের প্রত্যাহার দাবি করেছেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের ইমাম হোসাইন অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
ব্যারিস্টার মোমেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী দায়িত্বের বাইরে গিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন। আপনার (প্রধানমন্ত্রীর) বিশেষ সহকারী যদি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলান, তাহলে এর দায় তাকেই নিতে হবে। প্রয়োজনে এর দায়ভার প্রধানমন্ত্রীকেও নিতে হবে। শুক্রবার বড় ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছিল, জনগণ তা প্রতিহত করেছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে জামায়াতের নেতা-কর্মী ও মুসল্লিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
সাঁথিয়া থানার ওসি আনিছুর রহমানের প্রত্যাহার দাবি করে এমপি মোমেন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। হামলার শিকার ব্যক্তিরা মামলা করতে থানায় গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি পরিকল্পিতভাবে লোকজন জড়ো করে হামলার পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল এবং পুলিশ তাদের সহযোগিতা করেছে। এ সময় তাঁর সমর্থকদের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মসজিদে ইমামতি প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মোমেন বলেন, ‘আমাকে বিএনপির সভাপতি বলার কে যে আমি মসজিদে ইমামতি করতে পারব না? জনগণ ভালোবেসে আমাকে ইমামতি করাচ্ছে। বিএনপির অনুমতি নিয়ে যদি ইমামতি করতে হয়, তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর হতে পারে না।’
বিকেলে ঘটে যাওয়া ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত নাটক’ উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় যাঁকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, তিনি জামায়াত বা এনসিপির কেউ নন।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মোখলেসুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক আনিছুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল মানিক, পৌর আমির হাফেজ আব্দুল গফুর, জেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি তাইজুল ইসলামসহ দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে আফতাবনগর (ছেঁচানিয়া) বাজার জামে মসজিদে জুমার নামাজের আগে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন খুতবা দিতে গেলে এ নিয়ে আপত্তি ওঠে। পরে মসজিদের ভেতরে জামায়াত ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
তবে ব্যারিস্টার মোমেনের এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ আব্দুল্লাহ, বিএনপি বা সাঁথিয়া থানার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।