ভোলার লালমোহনের চরভূতা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোতাগো রাস্তার মাথা থেকে পূর্ব দিকে বেতুয়ার খালপাড় পর্যন্ত যাতায়াতের দেড় কিলোমিটার কাঁচা সড়কে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-কর্মচারী ও এলাকাবাসীর।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের হরিগঞ্জ বাজার থেকে দক্ষিণ দিকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোতাগো রাস্তার মাথা নামক স্থান থেকে পূর্ব দিকে লেংগুটিয়া গ্রাম হয়ে বেতুয়া খালের পাড় পর্যন্ত যাতায়াতের দেড় কিলোমিটার কাঁচা সড়কের কাদা মাটি মাড়িয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতে হচ্ছে হাজীগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চরভূতা নমগ্রাম করিমুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মধ্য চরভূতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকও শিক্ষার্থীরা, চরভূতা কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা। এছাড়া নমগ্রামের রাধাগোবিন্দ মন্দির, মোতাগো বাড়ির কালি মন্দির এবং হরিগঞ্জ বাজার, লালমোহন উপজেলা সদরে যাতায়াত ও স্থানীয় প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি এলাকাবাসীর প্রতিনিয়ত যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এ কাঁচা সড়কটি।
এ দেড় কিলোমিটার কাঁচা সড়কের বেহাল দশা নিয়ে দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে ভয়াবহ দুর্ভোগে রয়েছেন যাতায়াতরত সকলেই। বৃষ্টি হলেই সড়কজুড়ে হাঁটু সমান কাদা জমে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমে কোনো রকমে চলাচল করা গেলেও বর্ষাকালে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করাটাই হয়ে ওঠে দুঃসাধ্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়কটিই শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ। বছরের বেশিরভাগ সময়ই ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয় সবাইকে।
দীর্ঘদিনেও সড়কটি পাকা না হওয়ায় ভয়াবহ দুর্ভোগে পড়েছেন যাতায়াতরত পাঁচ থেকে সাত হাজার স্থানীয় ও আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ। রাস্তাটির প্রায় জায়গায় হাঁটু পরিমাণ পানি জমে থাকে। খানাখন্দ ও কর্দমাক্ত সড়কটিতে সীমাহীন দুর্ভোগ কারো যেন চোখেই পড়ছে না। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, রোগী ও পথচারীদের প্রতিনিয়ত মাড়াতে হচ্ছে কাদা ও পানি।
নমগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ও ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চতলা মোহাম্মদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শুভাস চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমাদের প্রতিনিয়ত যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এ কাঁচা। সড়কটি দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরেই এ কাচাঁ থাকায় যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের। কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীতভাবে আবেদন জানাচ্ছি রাস্তাটি যেন পাকা করে যাতায়াতের উপযোগী করে দেয়া হয়।’
স্থানীয় বাসিন্দা খোকন চন্দ্র হালদার, বাচ্চু মাঝি, মো: ইউনুস, সুনিল চন্দ্র হালদার, মো: ইলিয়াস, নাগর বেপারী জানায়, আমাদের প্রতিদিন আসা-যাওয়া করতে হয় এ কাচাঁ সড়ক দিয়ে। এতে করে আমাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত এ কাঁচা সড়কটি পাকা করার দাবি জানাচ্ছি।
হাজীগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো: হাচনাঈন, মো: জাবের, পলাশ চন্দ্র দাস, লিটন চন্দ্র দাস, মো: শাকিব, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো: রাসেল, জিহাদ, শিলা রানীসহ একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয় এ কাঁচা সড়কটি দিয়ে। কাদামাটি মাড়িয়ে যেতে কষ্ট হয়। স্কুলে যেতে আমাদের পরিহিত পোশাক কাঁদা লেগে নষ্ট হয়ে যায়। তাই আমাদের সকলের দাবি রাস্তাটি যেন তাড়াতাড়ি পাঁকা করা হয়।
ওই গ্রামের ব্যবসায়ী মো: জসীম উদ্দিন বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান কাদা জমে যায়। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়কে যাতায়াত করেন। কিন্তু এতো দুর্ভোগের পরেও কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না।’
ব্যাটারিচালিত অটোচালক কাজল, মোটরসাইকেল চালক মো: মামুন জানায়, প্রতিদিনই এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। অন্তঃসত্ত্বা রোগী হলে তো বিপদ আরো বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে নেয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন বলেন, ‘বর্ষাকালে এ সড়কে যানবাহনবিহীন চলতে হয়। অ্যাম্বুলেন্স, ভ্যান, মোটরসাইকেল কোনোটাই ঢুকতে পারে না। ফলে রোগী নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছানো এক দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা।’
চরভূতা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: ইলিয়াস কালাম সরকার বলেন, ‘উক্ত কাঁচা সড়কটি পাকা করণের জন্য একাধিকবার এলজিইডি অফিসে আবেদন করেও কোনো লাভ হচ্ছে না।’
লালমোহন উপজেলা প্রকৌশলী মো: তানজিলুর রহমান এ বিষয়ে দৈনিক নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘লালমোহনে অনেকগুলো এরকম কাঁচা সড়ক রয়েছে, যে সকল কাঁচা সড়কের আইডি রয়েছে সেগুলো ভোলা জেলা উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে পাকা করা হবে।’