Cox News

জুলাই আন্দোলনে ৭.৬২ গুলি, স্নাইপারের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন, তদন্ত হবে কবে?


প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

জুলাই আন্দোলনে ৭.৬২ গুলি, স্নাইপারের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন, তদন্ত হবে কবে?
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে ঢাকার একটি সড়কে মুখোমুখী পুলিশ ও বিক্ষোভকারী। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় বহু মানুষের মৃত্যুর পেছনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিচারে গুলি এবং প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহারকে দায়ী করা হয়। আন্দোলন চলাকালীন হেলিকপ্টার থেকে গুলি, স্নাইপার রাইফেল, ৭.৬২ গুলি এমনকি সিভিল পোশাকে অস্ত্রধারীদের গুলি চালানোর ব্যাপারে নানা আলোচনা সমালোচনা হলেও এসব নিয়ে জাতীয়ভাবে বিষদ কোনো তদন্ত করা হয়নি।

জুলাই আন্দোলনে সুনির্দিষ্ট করে হেলিকপ্টার থেকে কোন বাহিনী গুলি করেছিল, কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার হয়েছিল এবং স্নাইপার রাইফেল ব্যবহারের সন্দেহের কথা বলা হলেও কোন বাহিনীর কারা সেগুলো ব্যবহার করেছিল এর কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। খবর বিবিসি বাংলার। 

এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এ বিষয় পুলিশ ছাড়া অন্য কোনো বাহিনীর ব্যবহৃত গুলি ও অস্ত্রের পরিচয় কিংবা সংখ্যা বের করতে পারেনি। 

দুই বছরেও এসব নিয়ে পরিষ্কার কোনো ধারণা না পেয়ে জুলাই আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় উত্তরা আজমপুর এলাকায় প্রাণঘাতী গুলিতে অনেকের মৃত্যু হয়।

জুলাই আন্দোলনে উত্তরা এলাকায় সক্রিয় ছিলেন ওয়ালিদ ইসলাম নাঈম জমাদার। আন্দোলনে এক পর্যায়ে নাঈম নিজেও গুলিতে আহত হন।

আন্দোলনের সময় হেলিকপ্টার ব্যবহার হয়েছিল, অনেক মৃত্যুর পেছনে স্নাইপার থেকে গুলির সন্দেহ আছে। কিন্তু এসব নিয়ে গত দুই বছরে সুনির্দিষ্ট তদন্ত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি নাঈম জমাদার।  

জুলাই আন্দোলনে ঢাকার বাড্ডা লিংক রোড, রামপুরা বনশ্রী এলাকা ছিল রণক্ষেত্র। সেখানে সক্রিয় ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী শেখ নাজমুস সাকিব। আরও পড়ুনআরও পড়ুনসদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতির গুলশানের বাড়িতে পরিচ্ছন্নতা ও রঙের কাজ চলছে

তিনিও হেলিকপ্টারে করে সিভিল পোশাকে অস্ত্রধারীদের উদ্ধার করে নিয়ে যেতে দেখেছেন। ওইদিন তার পাশে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন যেটি স্নাইপার রাইফেল থেকে হতে পারে এমন সন্দেহ করেন তিনি। তদন্তে এসব ঘটনার রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

নাঈম জমাদার বলেন, হেলিকপ্টার স্নাইপার নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন ছিল শুরুতেই। এখন পর্যন্ত এটা রহস্য উদঘাটন করতে পারলো না যে গুলি হেলিকপ্টার থেকে হয়েছিল কিনা। কোন কোন স্পটে হয়েছিল। স্নাইপার শ্যুট কোন কোন স্পটে হয়েছিল। কয়জন স্নাইপার শ্যুটে মারা গেছে?

নাঈমের কথায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন শাখা রয়েছে কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে কারা জড়িত ছিল সেটা এখনো অস্পষ্ট। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকটা পার্ট আছে, সেনাবাহিনী, র্যাব পুলিশ বিডিআর (বিজিবি) কোন পার্ট আমাদের উপর গুলি চালানো। নাকি ডিজিএফআই নাকি দেশের বাইরের অন্য কোনো বাহিনী, নাকি অন্য কোনো দেশের গোয়েন্দা সংস্থাকে ইউজ করেছে তারা এটাতো এখনো ধোয়াশার ভেতরে আছে। 

আন্দোলনের দুই বছর পরেও স্নাইপার সন্দেহের গুলির উৎস এবং কোন বাহিনীর কারা জড়িত ছিল তার কোনো জবাব পাননি সাকিব-নাঈমের মতো আন্দোলনকারীরা। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায় প্রাণঘাতী গুলি, সন্দেহজনক স্নাইপার, হেলিকপ্টার এবং বহিরাগতদের অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে মন্ত্রণালয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তদন্ত করেনি।

‘সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু’ গুলির ব্যবহার

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে এম সাখাওয়াত হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর ৭.৬২ গুলির ব্যবহার এবং বহিরাগত অস্ত্রধারীদের বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন।

অন্তর্বর্তী সরকারে শুরুতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়ে মাত্র আট দিনের মাথায় অন্য মন্ত্রণালয়ে যেতে বাধ্য হন এম সাখাওয়াত হোসেন।

তার দাবি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা থাকাকালীন ৭.৬২ গুলি নিয়ে দেয়া তার বক্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন হয়েছিল। মূলত তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রাণঘাতী সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু গুলি পুলিশকে কেন কীভাবে দেওয়া হয়েছিল?  আরও পড়ুনআরও পড়ুনশাপলা চত্বর মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা সোমবার

তিনি বলেন, পুলিশ আহত দেখলাম। ছেলেদের বিভিন্ন জায়গায় ইনজুরি দেখলাম। একটা ছেলেকে দেখলাম হাতে বুলেট তার, গুলি লেগে হাড্ডি গুড়োগুড়ো হয়ে গেছে। এগুলো আমি স্বচক্ষে দেখেছি। দেখার পর আমি (এম সাখাওয়াত হোসেন) বলেছিলাম যে এটা পুলিশকে কেন কীভাবে দেওয়া হলো?   

আন্দোলনের সময় পুলিশের সঙ্গে সিভিল পোশাকে অনেকে অস্ত্র ব্যবহার করেছিল ভিডিওতে এমন চিত্র ধরা পড়ে। তাদের পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে দাবি করেন সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, সিভিল পোশাকে এ প্রোহিবিটেড উইপন এগুলো নিয়ে পুলিশের সঙ্গে একসঙ্গে তারা ফায়ারিং করছে। আমি বলেছিলাম সিভিলিয়ানদের হাতে এই রাইফেলগুলো কোথা থেকে গেল, কীভাবে গেল এটার একটা ইনকোয়ারি হওয়া দরকার। এটা নিয়ে আমি দু-তিনবার কথা বলেছি, কেবিনেটেই কথা বলেছি, তৎকালীন স্বরাস্ট্র উপদেষ্টাকে বলেছি। কিন্তু আমি ঠিক জানিনা এটা খুব সিরিয়াসলি কেউ নিয়েছিল কিনা। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট করে গুলির বিষয়ে তদন্ত না হলেও পুলিশের কাছে এ গুলি বরাবরই ছিল। মন্ত্রণালয় সূত্রগুলো বলছে জুলাই হত্যার বিচারের সঙ্গে এ তদন্ত করা হবে।  

নির্বাচিত সরকারের সময়ে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাণঘাতী অস্ত্র ও ৭.৬২ গুলির ব্যবহার হত্যা মামলার বিচারের ইনভেস্টিগেশনে উঠে এসেছে। তবে শুধু পুলিশের ব্যবহৃত গুলির পরিচয় এবং সংখ্যা তাদের কাছে আছে অন্য বাহিনীর কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। 

তিনি বলেন, র্যাব, বিজিবি আর্মি তারা যে অস্ত্রগুলো ব্যবহার করেছে সেই অস্ত্রের পরিচয় বা পরিসংখ্যান সেটা কিন্তু আমরা পাইনি। পুলিশ যেসব অস্ত্র লিথ্যাল উইপনগুলো ব্যবহার করেছে সেগুলোর মধ্যে এসএমজি, এলএমজি, চায়না রাইফেল শট গান, নাইন এমএম পিস্তল। সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু গুলিগুলো ব্যবহার করেছে সেগুলোর একটা পরিসংখ্যান হলো সারা বাংলাদেশে পুলিশ প্রায় তিন লক্ষ পাঁচ হাজার গুলি ব্যবহার করেছে। আর ৯৫ হাজার গুলি শুধু ব্যবহার হয়েছে ঢাকাতে। প্রায় ৪১টা জেলায় লেথাল উইপন ব্যবহার করা হয়েছে।  আরও পড়ুনআরও পড়ুনহাসিনার ইচ্ছা পূরণে অপচয় ৪৪ কোটি টাকা

তিনি আরও বলেন, আমাদের ইনভেস্টিগেশন চলমান আছে। র্যাব বিজিবি এবং আর্মি যে মরণঘাতী অস্ত্রগুলো ব্যবহার করেছে সেগুলোর উপর কাজ চলছে, ইনভেস্টিগেশন পেন্ডিং আছে। আমরা সেগুলো বের করার চেষ্টা করছি।  

আলোচনায় ‘স্নাইপার’

উত্তরায় আন্দোলনকারী নাঈম জমাদার বলছিলেন, তার পাশেই একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান যেখানে আশপাশে কোনো পুলিশ ছিল না। বিক্ষোভকারীদের জন্য পানি বিতরণ করে আলোচিত মীর মুগ্ধ নিহত হয়েছিলেন উত্তরায়। অনেকের সন্দেহ স্নাইপারের গুলিতে মুদ্ধ নিহত হন। কারণ হঠাৎ দূর থেকে আসা একটি গুলিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন মুগ্ধ।

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা প্রাথমিকভাবে জুলাই আন্দোলনে স্নাইপার রাইফেলের ব্যবহারের তথ্য নিশ্চিত হয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, অনেকগুলো হত্যাকাণ্ড হয়েছে যে- একটা মিছিল হচ্ছে সামনে পেছনে কিছু নাই হঠাৎ করে দেখা যাচ্ছে একটা বুলেট এসে লেগেছে, সে সঙ্গে সঙ্গে পড়ে গেছে। বুলেটটা একদিক থেকে এসে অন্যদিক থেকে বের হয়ে গেছে। এটা অবশ্যই স্নাইপার শট যদি না হয় তাহলে এই জাতীয় হত্যাকাণ্ড সম্ভব না। 

তিনি বলেন, স্নাইপারের ব্যবহার যে হয়েছে সেটা আমাদের প্রাথমিক ইনভেস্টিগেশনে বেরিয়ে এসেছে। তবে এটা সত্য এখন পর্যন্ত আমরা স্নাইপার রাইফেল জব্দ করতে পারিনি কিন্তু সেটা যে ব্যবহার হয়েছে সেটা আমরা মোটামুটি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি। তবে কারা করেছে সেটা এখনো শেষ হয়নি। 

স্নাইপার ব্যবহার নিয়ে সাবেক উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তিনি আগস্টে অজ্ঞাত ফোনে স্নাইপার বিষয়ে সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন। এছাড়া দুটো মৃতদেহ এবং এক্সরে দেখে তিনি নিশ্চিত হন যে স্নাইপার ছাড়া এত সূক্ষ্ম নিশানা সম্ভব নয়। 

তিনি বলেন, দুটো মৃতদেহ আমি নিজে দেখলাম। এক্সরে দেখলাম। একটা ছেলের মাথায় গুলি লেগেছে। পুরো ছিদ্র হয়ে ভেতরে ঢুকে গেছে। স্নাইপার রাইফেল। এইমড অ্যাট। স্নাইপার কিন্তু ভাইটাল জায়গাগুলোতে ফায়ার করে।   আরও পড়ুনআরও পড়ুনরাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ থেকে পদত্যাগ পর্যন্ত যত আলোচনা ছিল সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাকে ওয়ার্ন (সতর্ক) করাতে আমি সরে আসছি। না হলে হয়তো আমার উপর হামলা হতো। ক্লিয়ারলি বলেছে স্নাইপার ডেপ্লোয়েড স্যার, আপনি আগাবেন না আপনি পেছনে চলে যান। 

ওইদিন পাঁচ তারিখে অনেক স্নাইপার শট হয়েছে বলে ধারণা করেন সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, অনেকে সন্দেহ করেন যে শুধুমাত্র পুলিশ বা আর্মড ফোর্সের স্নাইপার না, কিছু স্নাইপার ট্রেইন্ড বাইরের লোকজনও ছিল বলে অনেকে মনে করে, সেগুলোর তো সন্দেহ দূর হয়নি এখন পর্যন্ত। আমরা বিফোর গর্ভমেন্ট ফ্রম এয়ারপোর্টে দেখলাম অনেক লোক, পেপারে দেখলাম অনেক পুলিশ ত্রিপুরার দিকে ট্রিটমেন্টের জন্য গেছে। হোয়ার আর দে। আর দে এবল টু কাম ব্যাক। এরকম অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে। এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। 

তবে পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের আগে পুলিশের কোনো স্নাইপার রাইফেল ছিল না। গণমাধ্যমে ২০২৪ সালে যে স্নাইপার কেনার ক্রয়াদেশ বা দরপত্র এসেছে সেগুলো জাতিসংঘ মিশনের জন্য কেনা হয়েছে এবং ২০২৫ সালে পুলিশ হাতে এসেছে। 

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থাও পুলিশের কাছে স্নাইপার রাইফেলের ব্যবহারের কোনো তথ্য প্রমাণ পায়নি।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা যেটুকু সন্দেহ করি যে স্নাইপারের ব্যবহার হয়েছে উত্তরায়, যাত্রাবাড়ীতে এবং অনেকগুলো জায়গায়। স্নাইপারের ব্যবহার নিয়ে ইনভেস্টিগেশন আমাদের চলমান আছে নিশ্চই আমরা সেই বিষয়ে একটা কংক্রিট একটা রিপোর্ট আমরা দিতে পারবো। 

এদিকে সিভিল পোশাকে স্নাইপার রাইফেলের ব্যবহার কারা করেছিল সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সামনে আনছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন বক্তব্যে স্নাইপার ব্যবহার করে লাশ ফেলে আন্দোলন চাঙ্গা করা হয়েছিল এমন অভিযোগও তোলা হচ্ছে।

জুলাই আন্দোলকারী নাজমুস সাকিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন তদন্ত না হওয়ার কারণেই এখন ভিন্ন ন্যারেটিভ আসছে।

তিনি বলেন, একটা ন্যারেশন কিন্তু আমরা শুনতে পাচ্ছি যে, কোনো দল বা কোথা থেকে এইগুলো (স্নাইপার) করা হয়েছে বা নিজেদের উপর ফায়ার করা হয়েছে যাতে এটা সেই সময়কার সরকারের উপর দায় চাপিয়ে দেয়া যায়। এই সুযোগটা পাচ্ছে কারণ সুষ্ঠু তদন্তটা এখন পর্যন্ত হয় নাই।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে মাত্র আটদিন দায়িত্বে ছিলেন সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন। এসব নিয়ে এখনও বড় ধরনের তদন্ত দরকার বলে তিনি মনে করেন।    

তিনি বলেন, এটা কারা ডিজাইন করেছে, একসেসিভ ফোর্স ইউজ করা হয়েছে, স্নাইপার কেন ইউজ করা হলো। কারা করলো, কে হুকুম দিল, কোথা থেকে আসলো। তারপরে এই উইপন গুলো, অ্যামুনেশন কোনটা ব্যবহার হয়েছে, কেন ইউজ হয়েছে এরকম যদি আপনি পুরো জিনিসটাকে স্টেপ বাই স্টেপ করেন, তাহলে আপনি একটা পর্যায়ে পৌছাবেন যে কী ধরনের ঘটনা ঘটেছিল এবং বিষয়টা পরিষ্কার হবে।  

তিনি মনে করেন, সরকার এখন একটা স্থিতিবস্থায় আছে, যেহেতু পাঁচ ছয় মাস হয়ে গেছে। এখন যদি এসব খতিয়ে দেখা না হয়, তাহলে ল এনফোর্সিং এজেন্সি বা ল এন্ড অর্ডারকে নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে।

তিনি বলেন, স্নাইপার এবং প্রাণঘাতী গুলি নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার ছিল। আরও পড়ুনআরও পড়ুনআ. লীগ আমলে ৫০০ টাকার চারা গাছের দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ

সরকারে থাকা অবস্থায় তিনি বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের কেবিনেটে দু তিনবার আলোচনা করেছিলেন কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে সেই তদন্ত হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তদন্ত না হওয়ার পেছনে নানা সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন সেক্টরে ধারাবাহিক আন্দোলনকেও দায়ী করেন সাখাওয়াত হোসেন। 

তিনি বলেন, এখন নির্বাচিত সরকারের উচিত তদন্ত করা। 

তিনি আরও বলেন, আমরা করি নাই বলে আপনি করবেন না! ঠিক আছে আমরা করি নাই- আমরা বেকুব, আমরা অথর্ব ছিলাম এখন আপনারা করবেন না তাই বলে! এটা হয়? আমি খুব দৃঢ়ভাবে বলছি হোম মিনিস্ট্রির উচিৎ হবে এই তদন্তগুলো করা। একসেসিভ ইউজ অফ ফোর্স, হু আর রেসপনসেবল। অনেক প্রশ্নের উত্তর জগাখিচুড়ি পাকিয়ে যাচ্ছে আবার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি।

তবে মন্ত্রণালয় সূত্রগুলো বলছে, জুলাই হত্যা মামলার সঙ্গে এর তদন্ত করা হবে। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন সরকারের স্বরাস্ট্র এবং আইন মন্ত্রণালয় থেকে তারা সবরকম সহযোগিতা পাচ্ছেন এবং আলোচিত ইস্যুগুলোর তদন্ত করা হবে।

বিষয় : জুলাই গণঅভ্যুত্থান

Cox News

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬


জুলাই আন্দোলনে ৭.৬২ গুলি, স্নাইপারের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন, তদন্ত হবে কবে?

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় বহু মানুষের মৃত্যুর পেছনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিচারে গুলি এবং প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহারকে দায়ী করা হয়। আন্দোলন চলাকালীন হেলিকপ্টার থেকে গুলি, স্নাইপার রাইফেল, ৭.৬২ গুলি এমনকি সিভিল পোশাকে অস্ত্রধারীদের গুলি চালানোর ব্যাপারে নানা আলোচনা সমালোচনা হলেও এসব নিয়ে জাতীয়ভাবে বিষদ কোনো তদন্ত করা হয়নি।

জুলাই আন্দোলনে সুনির্দিষ্ট করে হেলিকপ্টার থেকে কোন বাহিনী গুলি করেছিল, কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার হয়েছিল এবং স্নাইপার রাইফেল ব্যবহারের সন্দেহের কথা বলা হলেও কোন বাহিনীর কারা সেগুলো ব্যবহার করেছিল এর কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। খবর বিবিসি বাংলার। 

এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এ বিষয় পুলিশ ছাড়া অন্য কোনো বাহিনীর ব্যবহৃত গুলি ও অস্ত্রের পরিচয় কিংবা সংখ্যা বের করতে পারেনি। 

দুই বছরেও এসব নিয়ে পরিষ্কার কোনো ধারণা না পেয়ে জুলাই আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় উত্তরা আজমপুর এলাকায় প্রাণঘাতী গুলিতে অনেকের মৃত্যু হয়।

জুলাই আন্দোলনে উত্তরা এলাকায় সক্রিয় ছিলেন ওয়ালিদ ইসলাম নাঈম জমাদার। আন্দোলনে এক পর্যায়ে নাঈম নিজেও গুলিতে আহত হন।

আন্দোলনের সময় হেলিকপ্টার ব্যবহার হয়েছিল, অনেক মৃত্যুর পেছনে স্নাইপার থেকে গুলির সন্দেহ আছে। কিন্তু এসব নিয়ে গত দুই বছরে সুনির্দিষ্ট তদন্ত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি নাঈম জমাদার।  

জুলাই আন্দোলনে ঢাকার বাড্ডা লিংক রোড, রামপুরা বনশ্রী এলাকা ছিল রণক্ষেত্র। সেখানে সক্রিয় ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী শেখ নাজমুস সাকিব। আরও পড়ুনআরও পড়ুনসদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতির গুলশানের বাড়িতে পরিচ্ছন্নতা ও রঙের কাজ চলছে

তিনিও হেলিকপ্টারে করে সিভিল পোশাকে অস্ত্রধারীদের উদ্ধার করে নিয়ে যেতে দেখেছেন। ওইদিন তার পাশে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন যেটি স্নাইপার রাইফেল থেকে হতে পারে এমন সন্দেহ করেন তিনি। তদন্তে এসব ঘটনার রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

নাঈম জমাদার বলেন, হেলিকপ্টার স্নাইপার নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন ছিল শুরুতেই। এখন পর্যন্ত এটা রহস্য উদঘাটন করতে পারলো না যে গুলি হেলিকপ্টার থেকে হয়েছিল কিনা। কোন কোন স্পটে হয়েছিল। স্নাইপার শ্যুট কোন কোন স্পটে হয়েছিল। কয়জন স্নাইপার শ্যুটে মারা গেছে?

নাঈমের কথায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন শাখা রয়েছে কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে কারা জড়িত ছিল সেটা এখনো অস্পষ্ট। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকটা পার্ট আছে, সেনাবাহিনী, র্যাব পুলিশ বিডিআর (বিজিবি) কোন পার্ট আমাদের উপর গুলি চালানো। নাকি ডিজিএফআই নাকি দেশের বাইরের অন্য কোনো বাহিনী, নাকি অন্য কোনো দেশের গোয়েন্দা সংস্থাকে ইউজ করেছে তারা এটাতো এখনো ধোয়াশার ভেতরে আছে। 

আন্দোলনের দুই বছর পরেও স্নাইপার সন্দেহের গুলির উৎস এবং কোন বাহিনীর কারা জড়িত ছিল তার কোনো জবাব পাননি সাকিব-নাঈমের মতো আন্দোলনকারীরা। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায় প্রাণঘাতী গুলি, সন্দেহজনক স্নাইপার, হেলিকপ্টার এবং বহিরাগতদের অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে মন্ত্রণালয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তদন্ত করেনি।

‘সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু’ গুলির ব্যবহার

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে এম সাখাওয়াত হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর ৭.৬২ গুলির ব্যবহার এবং বহিরাগত অস্ত্রধারীদের বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন।

অন্তর্বর্তী সরকারে শুরুতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়ে মাত্র আট দিনের মাথায় অন্য মন্ত্রণালয়ে যেতে বাধ্য হন এম সাখাওয়াত হোসেন।

তার দাবি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা থাকাকালীন ৭.৬২ গুলি নিয়ে দেয়া তার বক্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন হয়েছিল। মূলত তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রাণঘাতী সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু গুলি পুলিশকে কেন কীভাবে দেওয়া হয়েছিল?  আরও পড়ুনআরও পড়ুনশাপলা চত্বর মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা সোমবার

তিনি বলেন, পুলিশ আহত দেখলাম। ছেলেদের বিভিন্ন জায়গায় ইনজুরি দেখলাম। একটা ছেলেকে দেখলাম হাতে বুলেট তার, গুলি লেগে হাড্ডি গুড়োগুড়ো হয়ে গেছে। এগুলো আমি স্বচক্ষে দেখেছি। দেখার পর আমি (এম সাখাওয়াত হোসেন) বলেছিলাম যে এটা পুলিশকে কেন কীভাবে দেওয়া হলো?   

আন্দোলনের সময় পুলিশের সঙ্গে সিভিল পোশাকে অনেকে অস্ত্র ব্যবহার করেছিল ভিডিওতে এমন চিত্র ধরা পড়ে। তাদের পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে দাবি করেন সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, সিভিল পোশাকে এ প্রোহিবিটেড উইপন এগুলো নিয়ে পুলিশের সঙ্গে একসঙ্গে তারা ফায়ারিং করছে। আমি বলেছিলাম সিভিলিয়ানদের হাতে এই রাইফেলগুলো কোথা থেকে গেল, কীভাবে গেল এটার একটা ইনকোয়ারি হওয়া দরকার। এটা নিয়ে আমি দু-তিনবার কথা বলেছি, কেবিনেটেই কথা বলেছি, তৎকালীন স্বরাস্ট্র উপদেষ্টাকে বলেছি। কিন্তু আমি ঠিক জানিনা এটা খুব সিরিয়াসলি কেউ নিয়েছিল কিনা। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট করে গুলির বিষয়ে তদন্ত না হলেও পুলিশের কাছে এ গুলি বরাবরই ছিল। মন্ত্রণালয় সূত্রগুলো বলছে জুলাই হত্যার বিচারের সঙ্গে এ তদন্ত করা হবে।  

নির্বাচিত সরকারের সময়ে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাণঘাতী অস্ত্র ও ৭.৬২ গুলির ব্যবহার হত্যা মামলার বিচারের ইনভেস্টিগেশনে উঠে এসেছে। তবে শুধু পুলিশের ব্যবহৃত গুলির পরিচয় এবং সংখ্যা তাদের কাছে আছে অন্য বাহিনীর কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। 

তিনি বলেন, র্যাব, বিজিবি আর্মি তারা যে অস্ত্রগুলো ব্যবহার করেছে সেই অস্ত্রের পরিচয় বা পরিসংখ্যান সেটা কিন্তু আমরা পাইনি। পুলিশ যেসব অস্ত্র লিথ্যাল উইপনগুলো ব্যবহার করেছে সেগুলোর মধ্যে এসএমজি, এলএমজি, চায়না রাইফেল শট গান, নাইন এমএম পিস্তল। সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু গুলিগুলো ব্যবহার করেছে সেগুলোর একটা পরিসংখ্যান হলো সারা বাংলাদেশে পুলিশ প্রায় তিন লক্ষ পাঁচ হাজার গুলি ব্যবহার করেছে। আর ৯৫ হাজার গুলি শুধু ব্যবহার হয়েছে ঢাকাতে। প্রায় ৪১টা জেলায় লেথাল উইপন ব্যবহার করা হয়েছে।  আরও পড়ুনআরও পড়ুনহাসিনার ইচ্ছা পূরণে অপচয় ৪৪ কোটি টাকা

তিনি আরও বলেন, আমাদের ইনভেস্টিগেশন চলমান আছে। র্যাব বিজিবি এবং আর্মি যে মরণঘাতী অস্ত্রগুলো ব্যবহার করেছে সেগুলোর উপর কাজ চলছে, ইনভেস্টিগেশন পেন্ডিং আছে। আমরা সেগুলো বের করার চেষ্টা করছি।  

আলোচনায় ‘স্নাইপার’

উত্তরায় আন্দোলনকারী নাঈম জমাদার বলছিলেন, তার পাশেই একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান যেখানে আশপাশে কোনো পুলিশ ছিল না। বিক্ষোভকারীদের জন্য পানি বিতরণ করে আলোচিত মীর মুগ্ধ নিহত হয়েছিলেন উত্তরায়। অনেকের সন্দেহ স্নাইপারের গুলিতে মুদ্ধ নিহত হন। কারণ হঠাৎ দূর থেকে আসা একটি গুলিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন মুগ্ধ।

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা প্রাথমিকভাবে জুলাই আন্দোলনে স্নাইপার রাইফেলের ব্যবহারের তথ্য নিশ্চিত হয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, অনেকগুলো হত্যাকাণ্ড হয়েছে যে- একটা মিছিল হচ্ছে সামনে পেছনে কিছু নাই হঠাৎ করে দেখা যাচ্ছে একটা বুলেট এসে লেগেছে, সে সঙ্গে সঙ্গে পড়ে গেছে। বুলেটটা একদিক থেকে এসে অন্যদিক থেকে বের হয়ে গেছে। এটা অবশ্যই স্নাইপার শট যদি না হয় তাহলে এই জাতীয় হত্যাকাণ্ড সম্ভব না। 

তিনি বলেন, স্নাইপারের ব্যবহার যে হয়েছে সেটা আমাদের প্রাথমিক ইনভেস্টিগেশনে বেরিয়ে এসেছে। তবে এটা সত্য এখন পর্যন্ত আমরা স্নাইপার রাইফেল জব্দ করতে পারিনি কিন্তু সেটা যে ব্যবহার হয়েছে সেটা আমরা মোটামুটি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি। তবে কারা করেছে সেটা এখনো শেষ হয়নি। 

স্নাইপার ব্যবহার নিয়ে সাবেক উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তিনি আগস্টে অজ্ঞাত ফোনে স্নাইপার বিষয়ে সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন। এছাড়া দুটো মৃতদেহ এবং এক্সরে দেখে তিনি নিশ্চিত হন যে স্নাইপার ছাড়া এত সূক্ষ্ম নিশানা সম্ভব নয়। 

তিনি বলেন, দুটো মৃতদেহ আমি নিজে দেখলাম। এক্সরে দেখলাম। একটা ছেলের মাথায় গুলি লেগেছে। পুরো ছিদ্র হয়ে ভেতরে ঢুকে গেছে। স্নাইপার রাইফেল। এইমড অ্যাট। স্নাইপার কিন্তু ভাইটাল জায়গাগুলোতে ফায়ার করে।   আরও পড়ুনআরও পড়ুনরাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ থেকে পদত্যাগ পর্যন্ত যত আলোচনা ছিল সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাকে ওয়ার্ন (সতর্ক) করাতে আমি সরে আসছি। না হলে হয়তো আমার উপর হামলা হতো। ক্লিয়ারলি বলেছে স্নাইপার ডেপ্লোয়েড স্যার, আপনি আগাবেন না আপনি পেছনে চলে যান। 

ওইদিন পাঁচ তারিখে অনেক স্নাইপার শট হয়েছে বলে ধারণা করেন সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, অনেকে সন্দেহ করেন যে শুধুমাত্র পুলিশ বা আর্মড ফোর্সের স্নাইপার না, কিছু স্নাইপার ট্রেইন্ড বাইরের লোকজনও ছিল বলে অনেকে মনে করে, সেগুলোর তো সন্দেহ দূর হয়নি এখন পর্যন্ত। আমরা বিফোর গর্ভমেন্ট ফ্রম এয়ারপোর্টে দেখলাম অনেক লোক, পেপারে দেখলাম অনেক পুলিশ ত্রিপুরার দিকে ট্রিটমেন্টের জন্য গেছে। হোয়ার আর দে। আর দে এবল টু কাম ব্যাক। এরকম অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে। এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। 

তবে পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের আগে পুলিশের কোনো স্নাইপার রাইফেল ছিল না। গণমাধ্যমে ২০২৪ সালে যে স্নাইপার কেনার ক্রয়াদেশ বা দরপত্র এসেছে সেগুলো জাতিসংঘ মিশনের জন্য কেনা হয়েছে এবং ২০২৫ সালে পুলিশ হাতে এসেছে। 

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থাও পুলিশের কাছে স্নাইপার রাইফেলের ব্যবহারের কোনো তথ্য প্রমাণ পায়নি।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা যেটুকু সন্দেহ করি যে স্নাইপারের ব্যবহার হয়েছে উত্তরায়, যাত্রাবাড়ীতে এবং অনেকগুলো জায়গায়। স্নাইপারের ব্যবহার নিয়ে ইনভেস্টিগেশন আমাদের চলমান আছে নিশ্চই আমরা সেই বিষয়ে একটা কংক্রিট একটা রিপোর্ট আমরা দিতে পারবো। 

এদিকে সিভিল পোশাকে স্নাইপার রাইফেলের ব্যবহার কারা করেছিল সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সামনে আনছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন বক্তব্যে স্নাইপার ব্যবহার করে লাশ ফেলে আন্দোলন চাঙ্গা করা হয়েছিল এমন অভিযোগও তোলা হচ্ছে।

জুলাই আন্দোলকারী নাজমুস সাকিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন তদন্ত না হওয়ার কারণেই এখন ভিন্ন ন্যারেটিভ আসছে।

তিনি বলেন, একটা ন্যারেশন কিন্তু আমরা শুনতে পাচ্ছি যে, কোনো দল বা কোথা থেকে এইগুলো (স্নাইপার) করা হয়েছে বা নিজেদের উপর ফায়ার করা হয়েছে যাতে এটা সেই সময়কার সরকারের উপর দায় চাপিয়ে দেয়া যায়। এই সুযোগটা পাচ্ছে কারণ সুষ্ঠু তদন্তটা এখন পর্যন্ত হয় নাই।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে মাত্র আটদিন দায়িত্বে ছিলেন সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন। এসব নিয়ে এখনও বড় ধরনের তদন্ত দরকার বলে তিনি মনে করেন।    

তিনি বলেন, এটা কারা ডিজাইন করেছে, একসেসিভ ফোর্স ইউজ করা হয়েছে, স্নাইপার কেন ইউজ করা হলো। কারা করলো, কে হুকুম দিল, কোথা থেকে আসলো। তারপরে এই উইপন গুলো, অ্যামুনেশন কোনটা ব্যবহার হয়েছে, কেন ইউজ হয়েছে এরকম যদি আপনি পুরো জিনিসটাকে স্টেপ বাই স্টেপ করেন, তাহলে আপনি একটা পর্যায়ে পৌছাবেন যে কী ধরনের ঘটনা ঘটেছিল এবং বিষয়টা পরিষ্কার হবে।  

তিনি মনে করেন, সরকার এখন একটা স্থিতিবস্থায় আছে, যেহেতু পাঁচ ছয় মাস হয়ে গেছে। এখন যদি এসব খতিয়ে দেখা না হয়, তাহলে ল এনফোর্সিং এজেন্সি বা ল এন্ড অর্ডারকে নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে।

তিনি বলেন, স্নাইপার এবং প্রাণঘাতী গুলি নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার ছিল। আরও পড়ুনআরও পড়ুনআ. লীগ আমলে ৫০০ টাকার চারা গাছের দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ

সরকারে থাকা অবস্থায় তিনি বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের কেবিনেটে দু তিনবার আলোচনা করেছিলেন কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে সেই তদন্ত হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তদন্ত না হওয়ার পেছনে নানা সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন সেক্টরে ধারাবাহিক আন্দোলনকেও দায়ী করেন সাখাওয়াত হোসেন। 

তিনি বলেন, এখন নির্বাচিত সরকারের উচিত তদন্ত করা। 

তিনি আরও বলেন, আমরা করি নাই বলে আপনি করবেন না! ঠিক আছে আমরা করি নাই- আমরা বেকুব, আমরা অথর্ব ছিলাম এখন আপনারা করবেন না তাই বলে! এটা হয়? আমি খুব দৃঢ়ভাবে বলছি হোম মিনিস্ট্রির উচিৎ হবে এই তদন্তগুলো করা। একসেসিভ ইউজ অফ ফোর্স, হু আর রেসপনসেবল। অনেক প্রশ্নের উত্তর জগাখিচুড়ি পাকিয়ে যাচ্ছে আবার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি।

তবে মন্ত্রণালয় সূত্রগুলো বলছে, জুলাই হত্যা মামলার সঙ্গে এর তদন্ত করা হবে। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন সরকারের স্বরাস্ট্র এবং আইন মন্ত্রণালয় থেকে তারা সবরকম সহযোগিতা পাচ্ছেন এবং আলোচিত ইস্যুগুলোর তদন্ত করা হবে।


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
জুলাই আন্দোলনে ৭.৬২ গুলি, স্নাইপারের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন, তদন্ত হবে কবে?
0:00 0:00
1.0x