Cox News

‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাইবার হামলা’, আরেক স্টার্টআপ হ্যাক করল এআই


প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাইবার হামলা’, আরেক স্টার্টআপ হ্যাক করল এআই
ছবি: সোয়াইপ ইনসাইড

সিকিউরিটি টেস্টের বা নিরাপত্তা পরীক্ষা সময় নিজেদের অত্যন্ত উন্নত কিছু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। এরপর সেই এআই মডেলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা চালিয়েছে বলে স্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি নিজেই।

স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এসব এআই ‘এজেন্ট’ বা বটকে একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ বা ‘স্যান্ডবক্স’-এ রেখে পরীক্ষা করা হচ্ছিল। কিন্তু পরীক্ষা চলাকালেই স্যান্ডবক্সের নিরাপত্তাত্রুটি খুঁজে বের করে সেখান থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয় এআই মডেলগুলো।

এরপর এগুলো এআই মডেল শেয়ার করার বৈশ্বিক হাব হিসেবে পরিচিত ‘হাগিং ফেস’-কে লক্ষ্যবস্তু বানায় এবং প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে এক্সেস বা অননুমোদিত প্রবেশাধিকার তৈরি করে।

ওপেনএআই এই ঘটনাকে ‘অভূতপূর্ব’ হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছে, কী ঘটেছে তা বিস্তারিত তদন্ত করতে এবং তাদের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে তারা হাগিং ফেসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইন্ডারু সেন্টার ফর টেকনোলজি অ্যান্ড ডেমোক্রেসির প্রধান জিনা নেফ বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘সিকিউরিটি টেস্টের জায়গা বা স্যান্ডবক্স হলো এমন একটি সুরক্ষিত পরিবেশ যেখানে এআই মডেলগুলোর ক্ষমতা কত দূর পৌঁছাতে পারে তা পর্যবেক্ষণ করা হয়।’

‘কিন্তু এই ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে, ওপেনএআই যথেষ্ট সুরক্ষিত স্যান্ডবক্স তৈরি করতে পারেনি,’ যোগ করেন তিনি।

পরীক্ষামূলক পরিবেশের ভেতরেই এআই এজেন্টগুলো স্যান্ডবক্সের দুর্বলতা শনাক্ত করে সেটির ওপর নিজস্ব সাইবার হামলা চালায় এবং বাইরে বেরিয়ে আসে।

বাইরে আসার পর, পরীক্ষায় তাদের দেওয়া নির্দেশনার উত্তর খোঁজার সম্ভাব্য উৎস হিসেবে তারা হাগিং ফেসকে চিহ্নিত করে এবং সিস্টেমটিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে।

গত ১৬ জুলাই প্রথম এই সাইবার হামলার তথ্য প্রকাশ করে হাগিং ফেস। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গ্রাহক বা অংশীদারদের কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা ডেটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা তা তারা এখনো খতিয়ে দেখছে। প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

ইতিমধ্যেই আক্রান্ত ব্যবস্থার নিরাপত্তাত্রুটি বন্ধ করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সিস্টেমগুলো নতুন করে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে হাগিং ফেস বলেছে, ‘স্বায়ত্তশাসিত এবং এআই পরিচালিত আক্রমণাত্মক প্রযুক্তি আর কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নয়।’

‘যেকোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রক্ষা করার অর্থ এখন ডেটা ও মডেল সিস্টেমকে শীর্ষ মাত্রার সাইবার হামলার ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা এবং তা রক্ষায় এআই-ভিত্তিক সুরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করা। আমরা সেখানে বিনিয়োগ এবং নতুন শিক্ষা শেয়ার করা অব্যাহত রাখব।’ বলেছে হাগিং ফেস।

প্রযুক্তি যত শক্তিশালী হচ্ছে, এই ঘটনা উন্নত এআই ব্যবস্থার অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা এবং বিদ্যমান নিরাপত্তাবেষ্টনীর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘সোনিকেল’-এর নির্বাহী স্পেন্সর স্টার্কি বিবিসিকে বলেন, ‘প্রতিনিধি বা সাইবার অপরাধীরা যখন মেশিনের গতিতে আক্রমণ চালাচ্ছে, তখনো অনেক প্রতিষ্ঠান মানুষের গতিতে প্রতিরক্ষা তৈরি করছে—এটিই অস্বস্তিকর সত্য। প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত তাদের সাইবার প্রতিরক্ষাকে প্রধান পরিচালন অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করা।’

গাইড পয়েন্ট সিকিউরিটির প্রধান নিরাপত্তা প্রকৌশলী ট্র্যাভিস লেলে ঘটনাটিকে সাইবার নিরাপত্তার জন্য একটি ‘সচেতন হওয়ার মতো মুহূর্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এটি একটি পরিচিত ঝুঁকিকে সামনে নিয়ে এসেছে। আক্রমণাত্মক এআই এজেন্টগুলো সম্পূর্ণ বাঁধনহারা, অথচ সেরা প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জামগুলো কঠোর সুরক্ষানীতির পেছনে আটকে থাকে, যা অনেক সময় প্রেক্ষাপট বুঝতে পারে না।’

তবে ইসেট (ESET)-এর বিশ্বব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক মুর মনে করেন, এই প্রক্রিয়ার পেছনে বাণিজ্যিক বা প্রতিযোগিতামূলক মাত্রা থাকতে পারে।

তাঁর মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক-এর নতুন ‘ক্লদ মিথোস’ মডেল বেশ সাড়া ফেলার পর ওপেনএআই হয়তো তাদের এআই-এর অবিশ্বাস্য ও অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতার বিষয়টি প্রচার করার কৌশল বেছে নিয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি চীনা এআই স্টার্টআপ ‘মুনশট’ তাদের বিশাল মডেল ‘কিমি কে৩’ (Kimi K3) উন্মোচন করেছে। এই এআই মডেল যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে।

বিষয় : তথ্যপ্রযুক্তি এআই ওপেনএআই প্রযুক্তিপণ্য

Cox News

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬


‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাইবার হামলা’, আরেক স্টার্টআপ হ্যাক করল এআই

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

সিকিউরিটি টেস্টের বা নিরাপত্তা পরীক্ষা সময় নিজেদের অত্যন্ত উন্নত কিছু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। এরপর সেই এআই মডেলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা চালিয়েছে বলে স্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি নিজেই।

স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এসব এআই ‘এজেন্ট’ বা বটকে একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ বা ‘স্যান্ডবক্স’-এ রেখে পরীক্ষা করা হচ্ছিল। কিন্তু পরীক্ষা চলাকালেই স্যান্ডবক্সের নিরাপত্তাত্রুটি খুঁজে বের করে সেখান থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয় এআই মডেলগুলো।

এরপর এগুলো এআই মডেল শেয়ার করার বৈশ্বিক হাব হিসেবে পরিচিত ‘হাগিং ফেস’-কে লক্ষ্যবস্তু বানায় এবং প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে এক্সেস বা অননুমোদিত প্রবেশাধিকার তৈরি করে।

ওপেনএআই এই ঘটনাকে ‘অভূতপূর্ব’ হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছে, কী ঘটেছে তা বিস্তারিত তদন্ত করতে এবং তাদের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে তারা হাগিং ফেসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইন্ডারু সেন্টার ফর টেকনোলজি অ্যান্ড ডেমোক্রেসির প্রধান জিনা নেফ বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘সিকিউরিটি টেস্টের জায়গা বা স্যান্ডবক্স হলো এমন একটি সুরক্ষিত পরিবেশ যেখানে এআই মডেলগুলোর ক্ষমতা কত দূর পৌঁছাতে পারে তা পর্যবেক্ষণ করা হয়।’

‘কিন্তু এই ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে, ওপেনএআই যথেষ্ট সুরক্ষিত স্যান্ডবক্স তৈরি করতে পারেনি,’ যোগ করেন তিনি।

পরীক্ষামূলক পরিবেশের ভেতরেই এআই এজেন্টগুলো স্যান্ডবক্সের দুর্বলতা শনাক্ত করে সেটির ওপর নিজস্ব সাইবার হামলা চালায় এবং বাইরে বেরিয়ে আসে।

বাইরে আসার পর, পরীক্ষায় তাদের দেওয়া নির্দেশনার উত্তর খোঁজার সম্ভাব্য উৎস হিসেবে তারা হাগিং ফেসকে চিহ্নিত করে এবং সিস্টেমটিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে।

গত ১৬ জুলাই প্রথম এই সাইবার হামলার তথ্য প্রকাশ করে হাগিং ফেস। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গ্রাহক বা অংশীদারদের কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা ডেটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা তা তারা এখনো খতিয়ে দেখছে। প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

ইতিমধ্যেই আক্রান্ত ব্যবস্থার নিরাপত্তাত্রুটি বন্ধ করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সিস্টেমগুলো নতুন করে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে হাগিং ফেস বলেছে, ‘স্বায়ত্তশাসিত এবং এআই পরিচালিত আক্রমণাত্মক প্রযুক্তি আর কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নয়।’

‘যেকোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রক্ষা করার অর্থ এখন ডেটা ও মডেল সিস্টেমকে শীর্ষ মাত্রার সাইবার হামলার ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা এবং তা রক্ষায় এআই-ভিত্তিক সুরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করা। আমরা সেখানে বিনিয়োগ এবং নতুন শিক্ষা শেয়ার করা অব্যাহত রাখব।’ বলেছে হাগিং ফেস।

প্রযুক্তি যত শক্তিশালী হচ্ছে, এই ঘটনা উন্নত এআই ব্যবস্থার অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা এবং বিদ্যমান নিরাপত্তাবেষ্টনীর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘সোনিকেল’-এর নির্বাহী স্পেন্সর স্টার্কি বিবিসিকে বলেন, ‘প্রতিনিধি বা সাইবার অপরাধীরা যখন মেশিনের গতিতে আক্রমণ চালাচ্ছে, তখনো অনেক প্রতিষ্ঠান মানুষের গতিতে প্রতিরক্ষা তৈরি করছে—এটিই অস্বস্তিকর সত্য। প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত তাদের সাইবার প্রতিরক্ষাকে প্রধান পরিচালন অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করা।’

গাইড পয়েন্ট সিকিউরিটির প্রধান নিরাপত্তা প্রকৌশলী ট্র্যাভিস লেলে ঘটনাটিকে সাইবার নিরাপত্তার জন্য একটি ‘সচেতন হওয়ার মতো মুহূর্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এটি একটি পরিচিত ঝুঁকিকে সামনে নিয়ে এসেছে। আক্রমণাত্মক এআই এজেন্টগুলো সম্পূর্ণ বাঁধনহারা, অথচ সেরা প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জামগুলো কঠোর সুরক্ষানীতির পেছনে আটকে থাকে, যা অনেক সময় প্রেক্ষাপট বুঝতে পারে না।’

তবে ইসেট (ESET)-এর বিশ্বব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক মুর মনে করেন, এই প্রক্রিয়ার পেছনে বাণিজ্যিক বা প্রতিযোগিতামূলক মাত্রা থাকতে পারে।

তাঁর মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক-এর নতুন ‘ক্লদ মিথোস’ মডেল বেশ সাড়া ফেলার পর ওপেনএআই হয়তো তাদের এআই-এর অবিশ্বাস্য ও অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতার বিষয়টি প্রচার করার কৌশল বেছে নিয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি চীনা এআই স্টার্টআপ ‘মুনশট’ তাদের বিশাল মডেল ‘কিমি কে৩’ (Kimi K3) উন্মোচন করেছে। এই এআই মডেল যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে।


Cox News


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাইবার হামলা’, আরেক স্টার্টআপ হ্যাক করল এআই
0:00 0:00
1.0x