লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং অটোবাইক টমটম চালক ও মালিক সমবায় সমিতির মৃত্যু ফান্ড থেকে প্রয়াত সদস্য মো. বাবুলের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে। সমিতির এ উদ্যোগে মরহুমের স্ত্রী ও কন্যার হাতে নগদ অর্থ হস্তান্তর করা হয়।
বানিয়ারছড়ায় অবস্থিত সমিতির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি ফজল করিম। সাধারণ সম্পাদক মো. বশিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফাইতং কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিল কোম্পানি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া, পেকুয়া ও মগনামা পরিবহন শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা এবং পরিবেশকর্মী ফরহাদ আহমদ সজল।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সহসভাপতি বেলাল উদ্দিন, সহসভাপতি মো. জামাল, কোষাধ্যক্ষ মো. বাদশা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিনসহ সমিতির অন্যান্য সদস্যরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল জলিল কোম্পানি সমিতির এ মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, একজন সদস্যের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। এ ধরনের উদ্যোগ শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় করে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রমিক নেতা আবু মুছা বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের পারস্পরিক ঐক্য, সহযোগিতা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৃত্যু ফান্ডের মতো উদ্যোগ সদস্যদের পরিবারকে দুঃসময়ে কিছুটা হলেও আর্থিক সহায়তা দিতে পারে।
পরিবেশকর্মী ফরহাদ আহমদ সজল তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি সংগঠনের প্রকৃত শক্তি শুধু সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সদস্যদের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই এর প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে। সমিতির এ উদ্যোগ সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার একটি প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত।
সভাপতির বক্তব্যে ফজল করিম বলেন, সমিতির সদস্যদের সম্মিলিত সহযোগিতায় মৃত্যু ফান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। কোনো সদস্যের মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং দুঃসময়ে সহযোগিতা করাই এ তহবিলের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও সদস্যদের কল্যাণে এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে, স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের এমন কঠিন সময়ে সমিতির পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মরহুম মো. বাবুলের স্ত্রী। তিনি সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ জানান। স্বামীর সহকর্মীরা তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোয় এ সহযোগিতাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে দেখেন।
উল্লেখ্য, সদস্যদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে গঠিত মৃত্যু ফান্ডের মাধ্যমে প্রয়াত সদস্যের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ ফাইতংয়ের পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সাংগঠনিক সংহতির একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছে।