নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সহিংসতা বৃদ্ধি এবং জননিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), কক্সবাজার জেলা শাখা।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সিপিবি কক্সবাজার জেলা শাখার এক সভায় দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনা নিয়ে আলোচনাকালে নেতৃবৃন্দ এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিবি কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন আহমদ। সভা সঞ্চালনা করেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড অনিল দত্ত।
সভায় বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা, সংঘাত, হামলা, হত্যাকাণ্ড এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। একটি গণতান্ত্রিক ও সভ্য রাষ্ট্রে কোনোভাবেই সহিংসতা কিংবা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।
তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করতে হবে। অপরাধী যে পক্ষেরই হোক না কেন, তার রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং আইনের প্রয়োগে বৈষম্য দূর করারও আহ্বান জানান তারা।
সিপিবি নেতৃবৃন্দ বলেন, জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত থাকলে তা শুধু জননিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলবে না, বরং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এ সময় দেশের সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের শান্তি, সম্প্রীতি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
সভায় দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির পাশাপাশি কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়। জনগণের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় সিপিবির গণমুখী কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতৃবৃন্দ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিপিবি কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক কমরেড অনিল দত্ত, সহ-সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ, জেলা কমিটির সদস্য ধ্রুব সেন, পুলিন দে, স্বপন রায় চৌধুরী, মংথেলা রাখাইন, জসিম আজাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।