ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় সাড়ে আট কিলোমিটার খাল পুনঃখননকাজ শেষে বরাদ্দের বেঁচে যাওয়া প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশিষ কর্মকার।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষির উন্নয়নে গত ১২ মে উপজেলার কৈচাপুর ইউনিয়নের করইকান্দায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এবং সদর ইউনিয়নের কচুন্দরায় পাঁচ কিলোমিটারসহ মোট সাড়ে আট কিলোমিটার খাল পুনঃখননকাজের উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী। দুটি খাল পুনঃখননে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ কোটি ১৮ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশিষ কর্মকার জানান, সাড়ে তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের করইকান্দা খাল পুনঃখননে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯০ লাখ ১৬ হাজার ২৬৭ টাকা। যেখানে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৩৬ লাখ ২৫ হাজার ৭৬৮ টাকা।
অন্যদিকে পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কচুন্দরা খাল পুনঃখননে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। এতে ব্যয় হয়েছে ৮৪ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা। প্রকল্প দুটিতে মোট ব্যয়ের পর অবশিষ্ট রয়েছে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৪৬ হাজার ১১৬ টাকা; যা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
ইউএনও ফয়সাল আহমেদ জানান, একসময় কৈচাপুর ইউনিয়নের কড়ইকান্দা খালটি নাব্যতা হারিয়ে প্রায় জালি খেতে পরিণত হয়েছিল। সফল পুনঃখননের ফলে খালটি এখন তার স্বাভাবিক রূপ ফিরে পেয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশিষ কর্মকার জানান, প্রকল্পে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্ষাকালে কৃষিকাজের চাপ কম থাকায় কোনো শ্রমিক-সংকট তৈরি হয়নি। এ ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ ও খালের পাড় টেকসই করার লক্ষ্যে পুনঃখনন করা খালের দুই পাশে ৬০০টি গাছ রোপণ করা হয়েছে।