শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবন, সন্ধ্যায় দায়িত্ব নেবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবনের দরবার হল। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মো. সরওয়ার আলম বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সব আয়োজন শেষ হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে শপথ করাবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। এ শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
এ শপথ অনুষ্ঠানে ১২ শতাধিক অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা।
জানা যায়, নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে বরণ করতে বিশাল প্রস্তুতি নেয় সরকার। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত অন্তত ২৫টি ধাপে শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা মাত্র সাত থেকে আট মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এই অনুষ্ঠানটি আয়োজনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রায় মাস খানেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। আর এতে সহযোগিতা করে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনার পাশাপাশি সার্বিক কার্যক্রমের দেখভালের দায়িত্বে থাকেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তবে জ্যেষ্ঠ একজন অফিসারকে প্রধান করে সাব কমিটি করে দেওয়া হয়। সেই কমিটি আমন্ত্রিতদের তালিকা, আমন্ত্রণপত্র ছাপা, অতিথিদের কাছে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেওয়ার, অতি গুরুত্বপূর্ণ অতিথিরা আমন্ত্রণপত্র পেয়েছেন কি না, তা যাচাই করার মতো কাজগুলো সম্পন্ন করে।
বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, বিদেশি দূতসহ সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ অফিসারদের হাতে হাতে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছাতে হয়।
শপথ অনুষ্ঠানের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অংশ কোনটি— এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে কর্মরত ছিলেন এমন এক সাবেক সচিব জানান, ‘মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিদেশি অতিথি এবং সামরিক-বেসামরিক মিলিয়ে রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের এই অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া হয়। তাদের প্রটোকল রক্ষা করে আমন্ত্রণ জানানো, অনুষ্ঠানস্থলে সুশৃঙ্খলভাবে বসানো এবং আপ্যায়ন ব্যবস্থার বিষয়টি সবচেয়ে জটিল কাজ।’
তিনি বলেন, ‘অন্যদিকে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিপুল সংখ্যক আগ্রহীদের মধ্য থেকে কতজনকে দাওয়াত দেওয়া হবে তা নিয়ে ব্যাপক চাপে থাকতে হয়। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের শীর্ষ নেতারা তাদের অনুসারীদের নিয়ে বঙ্গভবনে আসতে চান। এই বিষয়টা সামলানো অনেক কঠিন হয় যায়।’
আরেক অফিসার জানান, ‘আমন্ত্রিত অতিথিদের বসার স্থান নির্ধারণ করা থাকলেও অনেকে সেটা মানতে চান না। বঙ্গভবনে উচ্চপর্যায়ের অফিসার ও রাজনীতিকরাই আমন্ত্রিত থাকেন, তারা সেই নিয়ম ঠিক মতো মানতে না চাইলে কিছু বলা যায় না, শপথের দিনে সেটাও বড় চ্যালেঞ্জ।’
বিদ্যমান আসন বিন্যাস অনুযায়ী, বর্তমানে বঙ্গভবনের দরবার হলে ৭০০ জনের মতো বসার ব্যবস্থা থাকলেও এবার প্রায় ১ হাজার ৫০০ কার্ড ছাপানো হয়েছে বলে জানা গেছে। বাড়তি লোকদের বসার জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট অফিসাররা জানান, দরবার হলের ভেতরে চাপাপাপি করে ৮৫০ জনের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অন্যদের জন্য বারান্দাসহ মাঠের প্যান্ডেলে এলইডি স্ক্রিন দেওয়া হবে, যেন সবাই শপথ অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারেন।
এর আগে, গতকাল দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। এ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের অলি আহমদ।
এ নির্বাচনে সাধারণ সংসদ সদস্য ও সংরক্ষিত মিলিয়ে মোট ৩৪৯ জন ভোটার ছিলেন, যাদের মধ্যে ৯ জন অনুপস্থিত ছিলেন। এতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আর অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
পরে এদিন ভোট গণনা শেষে বিকেলে সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটের ফল ঘোষণা করেন নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। সন্ধ্যায় এ ফলের গেজেট প্রকাশ করা হয়।