Cox News

অর্থবছরের শুরুতেই তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ধাক্কা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাসেই (জুলাই) তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। জুলাই মাসে পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৯২ শতাংশ কম।  এ সময় নিটওয়্যার ও ওভেন-দুই উপখাতেই রপ্তানি কমেছে। তবে ওভেন পোশাকের পতন তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য মতে, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩৮৮ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। ২০২৫ সালের একই মাসে ছিল ৩৯৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরে রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আলোচ্য সময়ে নিটওয়্যার রপ্তানি হয়েছে ২১৫ কোটি ৯১ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের ২১৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলার থেকে শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ কম।  অন্যদিকে ওভেন গার্মেন্টস রপ্তানি হয়েছে ১৭২ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, যা আগের বছরের ১৭৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারের তুলনায় ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ কম। অর্থাৎ নিটওয়্যারের তুলনায় ওভেন পোশাকের রপ্তানিতে চাপ বেশি ছিল। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট রপ্তানির প্রায় ৫৬ শতাংশ এসেছে নিটওয়্যার খাত থেকে এবং প্রায় ৪৪ শতাংশ এসেছে ওভেন পোশাক থেকে। নিটওয়্যার খাত তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও ওভেন খাতের দুর্বলতা সামগ্রিক পোশাক রপ্তানিকে নিæমুখী করেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের সতর্ক ক্রয়নীতি, মূল্যচাপ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি প্রত্যাশামতো বাড়েনি। বিশেষ করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে পোশাকের অর্ডার পুনরুদ্ধারের গতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।  তবে শিল্পসংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বড়দিন ও বসন্তকালীন মৌসুমের অর্ডার বাড়তে শুরু করলে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও ইতিবাচক ধারায় ফিরতে পারে। এ জন্য উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং উচ্চমূল্যের পণ্যের অংশ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

অর্থবছরের শুরুতেই তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ধাক্কা